Amar Praner Bangladesh

কিভাবে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করবেন

 

 

মুফতী নাজিবুর রহমান, শ্রীবরদী, শেরপুর :

 

রমজানের শেষ দশকে শান্তির বার্তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কোরআন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি একে নাজিল করেছি মহিমান্বিত রাতে (লাইলাতুল কদর)। আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রাত কী? মহিমান্বিত রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। সেই রাতে প্রতিটি কাজের জন্য ফেরেশতারা এবং রূহ তাদের প্রতিপালকের আদেশক্রমে অবতীর্ণ হয়। সেই রাতে শান্তিই শান্তি, ফজর হওয়া পর্যন্ত।’ -সুরা কদর : ১-৫

বায়হাকির শোয়াবুল ঈমানে হজরত আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যখন কদর রাত আসে, তখন হজরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট বাহিনীসহ পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং দাঁড়িয়ে কিংবা বসে আল্লাহর জিকির ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা প্রত্যেক বান্দার জন্য রহমতের দোয়া করেন। এই হাদিস হতে কদর রাতের মর্যাদা এবং এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ ও ইসলামি আলোচনা ও জ্ঞানচর্চার মর্যাদা স্পষ্টভাবে জানা যায়। শেষ দশকের ইবাদতের অন্যতম হলো- শবেকদর তালাশ করা। নবী কারিমে (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কদর রাতের সন্ধান পেতে চায় সে যেন রমজানের শেষ দশকে খুঁজে নেয়।’ -সহিহ বোখারি : ১১৫৮

নবীজি (সা.) আরও বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের তালাশ করো।’ -সহিহ বোখারি : ২০১৭

অন্য হাদিসে ইরশাত হয়েছে, ‘কদরের রাত হাজার রাতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। যে এর কল্যাণ অর্জন পারে না, তার সব কল্যাণই হাতছাড়া হয়। সত্যিকার হতভাগা ছাড়া আর কেউ এর কল্যাণ বঞ্চিত হয় না।’ -ইবনে মাজাহ : ১৬৪৪

শবেকদর নির্দিষ্ট না হলেও অধিকাংশ মানুষ রমজানো ২৭তম রাতকে কদরের রাত হিসেবে গ্রহণ মনে করে। কারণ হজরত বিলাল (রা.) ও হজরত মুয়াবিয়া (রা.) সহ বেশিরভাগ সাহাবার বর্ণনা সপ্তবিংশ রাতকে নির্দেশ করে। তবে আল্লাহর রাসুল (সা.) উম্মাহর কল্যাণার্থে নির্দিষ্ট করে দেননি। তাই আমরা সব বেজোড় রাতে আল্লাহর রাসুলের শিখিয়ে দেওয়া দোয়া দিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইব।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আয়েশা (রা.) নবীজিকে বললেন, যদি আমি শবেকদর পেয়ে যাই, তাহলে কী দোয়া করবো? নবীজি শেখালেন এই দোয়া ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফাআফু আন্নি।’ অর্থাৎ : ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাকারী, ক্ষমা করতে আপনি পছন্দ করেন। অতএব আমায় ক্ষমা করুন।’ -সুনানে তিরমিজি : ৩৫১৩