Amar Praner Bangladesh

কিশোর গ্যাং নাইমুর অনিকের সহযোগী শাহরিয়ার সায়েম গং উত্তরখানে সক্রিয়

 

 

নার্গিস আক্তার :

 

বর্তমান সরকার কিশোর গ্যাং দমন করার বিষয়ে তৎপর হলেও কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক দাতারা এলাকা পরিবর্তন করে কোমলমতি কিশোরদেরকে আর্থিক সহযোগীতা দিয়ে নিজেদের অপকর্মে ব্যবহার করে জনগণের মাঝে ভীতির সৃষ্টি করে ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন দখলবাজ কাজে এদেরকে ব্যবহার করছে। এরকম একটি চক্র উত্তরা থেকে উত্তরখান হেলাল মার্কেট এলাকায় এসে ঘাপটি মেরে আছে। এদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে স্থানীয় শাহরিয়ার সায়েম।

উত্তরার আলোচিত আদনান হত্যার পলাতক আসামি নাইমুর অনিক (২৫), পিতা- সেলিম, শাহরিয়ার সায়েম (২৬), পিতা- শফিকুল, উভয় হেলাল মার্কেটের স্থানীয় বাসিন্দা। রাজধানীর উত্তরখানে শাহরিয়ার সায়েমের নেতৃত্বে প্রতিনিয়ত উঠতি বয়সের ছেলেদেরকে নিয়ে চলছে মটর সাইকেল মহড়া। এলাকার ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ তাদের তান্ডবে। নাম না জানাতে অনিচ্ছুক কিছু দোকানদার বলেন, সায়েমের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। শুধু তাই নয় তাদের ভয়ে বিভিন্ন দোকানপাট এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় সরিয়ে নিয়েও রেহাই পাচ্ছিনা। কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় লিডার নাইমুর অনিক মামলার কারণে পলাতক থাকলেও উত্তরখানে থেমে নেই কিশোর গ্যাং সায়েমের পায়তারা।

রাজধানীর উত্তরখানের কিছু সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের মধ্যে অন্যতম চানপাড়ার রেবা এসব কিশোর গ্যাংদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে চালাচ্ছে তাদের অবৈধ ব্যবসা। রাতবিরাতে এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একত্রিত হয়, উত্তরখান তেরমুখ থেকে উলুখোলা পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে মটর বাইক নিয়ে অধিক শব্দ সম্পন্ন সাইলেঞ্জার লাগিয়ে দ্রুত গতিতে দলবদ্ধ ভাবে জনমনে ভীতি ছড়িয়ে গাড়ী চালিয়ে এক জায়গা থেকে যাচ্ছে আরেক জায়গা। তাদের চলাফেরার স্টাইল অনেকটা হিন্দি ফিল্মের ভিলেনের সহচরদের মতো। এসব কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে উত্তরখানে চুরি, ডাকাতি, মাদক সহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কিশোর গ্যাংয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট থানার বেশ কিছু কর্মকর্তার সাথে ভাল সম্পর্ক আছে বলে জানা যায়। উত্তরখান হেলাল মার্কেটের বেশ কয়েকজন দোকানদার দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে একটি ভিডিও স্বাক্ষাৎকার দেয়। সেখানে তারা কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা নিয়ে অনেক কথা বলে।

সম্প্রতি একটি দোকান ভাংচুর, দোকানের ক্যাশ টাকা লুটপাট সহ দোকানদারকে মারধরের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। নাম জানাতে ভীতু ঐ দোকানদার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছে। ঐ এলাকার কিছু দুষ্কৃতিকারী যাদের সাথে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা আছে তারা বিষয়টি মিটমাট করার জন্য লোক দেখানো বিচারের ব্যবস্থা নামে থানা ও ভুক্তভোগীর সাথে উপহাসমূলক ঘটনা ঘটিয়ে নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছে বলে জানা যায়।

এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা উত্তরখান মাজার এলাকা, তেরমুখ, উলুখোলা, মুন্ডা, তুরাগ নদীর বিভিন্ন স্পট থেকে মাদক সংগ্রহ করে নিজেরাও মাদক সেবন করে এবং অন্যদেরকেও মাদক সরবরাহ করে সম্পূর্ণ উত্তরখান এলাকাকে এই কিশোর গ্যাং চক্রটি কুক্ষিগত করে একটি অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। উত্তরখান বেশ কিছু সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে জানায়, উত্তরখান থানা এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং দমন করতে না পারলে আরোও বড় অপরাধ খুন, ডাকাতি সহ অনেক কিছু ঘটার সম্ভাবনা আছে।