Amar Praner Bangladesh

কুষ্টিয়ার হরিপুরে সন্ত্রাসী কুদ্দুস জামিন পেয়ে আবারও বেপরোয়া, কুপালো আ’লীগ নেতার ভাতিজাকে

 

 

হাসনাত রাব্বু, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি :

 

কুষ্টিয়া সদর উপজেলাধীন হাটশ হরিপুরে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী কুখ্যাত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত কুদ্দুস এবং তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মঙ্গলবার(২৩ আগস্ট) রাতে গুরুতর জখম হয় রকি (২০) নামে এক যুবক। তিনি হাটশ হরিপুর (নদীর কূল) গ্রামের মেজবাহ মন্ডলের ছেলে এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিলন মন্ডলের ভাতিজা।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার আনুমানিক রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে বোয়ালদহের জাকিরের ফোন থেকে রকিকে ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসী কুদ্দুস (৪৭) এর সরাসরি সশব্দ হুকুমে তার বাহিনীর সশস্ত্র সদস্য শালদহের হেদায়েতের ছেলে সুমন (৩০),বোয়ালদহের জামু মিস্তিরির ছেলে জাকির (৩০),শালদহের সাদ আলীর ছেলে রাজু(৩০) ও আরও ৫/৬ জন মিলে রকিকে ধারালো ছুরি হাতে দিয়ে মাথায় উপর্যুপুরি আঘাত করে। এসময় তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা, দামী ব্রান্ডের হাত ঘড়ি ও ব্যবহৃত স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়।

স্থানীয়রা রকির আত্ম চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে দৌড়ে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রকির মাথা মারাত্মকভাবে জখম করেছে। রক্তপাত ঠেকাতে মাথায় ১০ টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রকির ভাই ফারুক মন্ডল বাদি হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। থানা এজাহারটি আমলে নিয়ে বুধবার(২৪ আগস্ট ২০২২) ১৪৩,৩২৩,৩২৪,৩২৫,৩০৭,৩৭৯,৫০৬(২) ও ১১৪ ধারায় মামলা রুজু করে। মামলা নং-৪৯, তারিখ ২৪ আগষ্ট ২০২২ ইং।

এছাড়াও কুখ্যাত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী কুদ্দুস ও তার ক্যাডার বাহিনী গত ৫ আগস্ট ২০২২ শালদহে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কুষ্টিয়ার সনামধন্য কুষ্টিয়ার খবর পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী আবু মনি সাকলায়েন এবং সাপ্তাহিক পথিকৃৎ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক সত্যখবর পত্রিকার সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেলের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়।

এসময় তাঁদের ব্যবহৃত ক্যামেরা এবং টাকা ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয়দের সহায়তায় সেদিন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদ্বয় কোনমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও মারাত্মক আহত হয় ও কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এরপর ওইদিন রাতে সন্ত্রাসী কুদ্দুস দেশি-বিদেশি ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে এসকে মিডিয়া লিমিটেডের এর চেয়ারম্যান ও এশিয়ান টিভির কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হাসিবুর রহমান রিজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়ির আশেপাশে ও হরিপুর বাজারে দোকানপাট বন্ধ করে মহড়া দেয়। এসময় কুদ্দুস ও তার ক্যাডার বাহিনী রিজু ও তার রত্মাগর্ভা মা’কে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়।

এ বিষয়ে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আবু মনি সাকলায়েন বাদি হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় গত ৬ আগস্ট একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৯, তারিখ ৬ আগষ্ট ২০২২ইং।

আহত রকি বলেন, আমি বাসায় ছিলাম হঠাৎ সুমন আমাকে ফোন করে হরিপুর বাজারে আসতে বলে। আমি বাজারে গেলে সন্ত্রাসী কুদ্দুস, সুমন, জাকির সহ আগ্নেয়াস্ত্র,দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমার মাথায় মারাত্মক জখম হয় এবং কলারবন্ড ভেঙে যায়। রক্তপাত বন্ধে ১০টা সেলাই দেওয়া হয়েছে। এই বাহিনী নদীতে ডাকাতি, ছিনতাই, ড্রেজারের তেল চুরি, মাদক ব্যবসা সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিকের করা মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসী কুদ্দুস হয়ে উঠেছে আরও বহুগুণ বেপরোয়া। আরও প্রচুর ধারালো ও দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রে সুসজ্জিত করেছে তার সংগ্রহশালা। যা তুলে দিয়েছে তার নিয়ন্ত্রিত বেপরোয়া কিশোর-যুবাদের হাতে হাতে। এছাড়াও বালির নৌকা থেকে চাঁদাবাজি, ড্রেজারের তেল চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, নারী উত্যক্তকরণ, গাজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, দেশি-বিদেশি মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসাসহ বিভিন্ন ভয়াবহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এলাকায় গুঞ্জন রটছে আদালত যেন তাকে সন্ত্রাসবাদসহ সকল অপকর্মের অভয় দিয়েই জামিন দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুদ্দুস কুষ্টিয়ার এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয়। তাই সে কাউকেই পরোয়া করে না। সে হরিপুরের শালদহ গ্রামের কিছু উঠতি বয়সী বেপরোয়া তরুণ-যুবকদের হাতে দেশি-বিদেশি ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নদীতে ডাকাতি, পদ্মা-গড়াই মোহনায় ঘুরতে আসা মানুষের কাছ থেকে মূল্যবান সম্পদ ও টাকা ছিনতাই,বালির নৌকা থেকে চাঁদাবাজি, সরকারি ড্রেজারের তেল চুরি,ডাকাতি ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে।কুদ্দুসের ছত্রছায়ায় স্কুল-কলেজ গামী ও মোহনায় বেড়াতে আসা মেয়েদের বিভিন্নভাবে উত্যক্ত ও যৌন হয়রানি করে তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। সুমন কুদ্দুস গণবাহিনীর সক্রিয় সদস্য বলেও জানান এলাকাবাসী। যদিও সে শহর আওয়ামীলীগের এক নেতার সহায়তায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পরে সেই পদ থেকে অবশ্য বহিষ্কার হয় সে। আ’লীগের পদ হারিয়ে সে আবার তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও গণবাহিনীতে যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে বেশকিছু সূত্র।

আওয়ামী লীগের আত্মীয় বা সাবেক সদস্য যায় হোক না কেন কুখ্যাত এই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদকব্যবসায়ী কুদ্দুস মনেপ্রাণে সবসময়ই গণবাহিনীর দোসর, রয়েছে অনেক ঘৃণিত অপরাধের ইতিহাস। কুদ্দুস ১৯৯৬ সালে ছিলো ট্রাক ড্রাইভার। পরে ড্রাইভারি ছেড়ে যোগ দেয় গণবাহিনীতে। তৎকালীন হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জাসদ নেতা এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চুর আর্শিবাদে খুব অল্প দিনেই হয়ে উঠে গণবাহিনীর ক্যাডার। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কুদ্দুসকে। নদী পথে ডাকাতিসহ নানা অপকর্ম সে দেদারসে চালাতে থাকে। গণবাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাস চরমপন্থী কালু ও টিক্কাকে সাথে নিয়ে হরিপুরে কায়েম করে রাম রাজত্ব। ২০০০ সালের ১৪ জুলাই সন্ত্রাসীদের গুলিতে চেয়ারম্যান সাচ্চু ও পরবর্তীতে গণবাহিনীর ক্যাডার কালু ও টিক্কা বন্দুক যুদ্ধে নিহত হলে গণবাহিনীর সন্ত্রাসবৃত্তির সূচক কিছুটা নিম্নগামী হলেও বর্তমান কুদ্দুসের নেতৃত্বে আবার তা পূর্বের সূচক ছাড়িয়ে শীর্ষগামী।

বর্তমানে জাসদ নেতা এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চুর ভাই মোস্তাক হোসেন মাসুদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় কুদ্দুস তার বাহিনীকে আবারও সুসংগঠিত ও দেশি-বিদেশি ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্রে সুসজ্জিত করে এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মাদকব্যবসা শুরু করে। এভাবে অস্ত্র ও ক্যাডার বাহিনীর ক্ষমতা ব্যবহার করে করে কুদ্দুস ক্রমাগতই করে যাচ্ছে নানান অপরাধমূলক ঘৃণিত কর্মকান্ড। দখল করছে বালুর ঘাট, চালাচ্ছে চাঁদাবাজি। প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ যার তার বিরুদ্ধে দিচ্ছে মহড়া ও হত্যার হুমকি। আর হামলা করা তো তার নিত্য দিনের রুটিন। তার ছত্রছায়ায় উঠতি বয়সী তরুণ-যুবকরা হয়ে উঠছে বখাটে, মাদকসেবি, মাদকব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী। এভাবে আর কতো অপরাধ করলে কুদ্দুস পাবে শাস্তি আর জনগণ পাবে মুক্তি?

উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন খাঁনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির কোন অভিযোগ পায়নি। সে সন্ধ্যা হলেই মদ খেয়ে মারামারি করে। গতকালের (মঙ্গলবার) ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আটক হয়নি