Amar Praner Bangladesh

কুষ্টিয়ায় প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানেও নিয়ন্ত্রণ নেই চালের বাজার

ইসমাইল হোসেন বাবু,ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানেও নিয়ন্ত্রণ নেই চালের বাজার। দফায় দফায় চালের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে। সরকার বারবার মজুদদারদের বিরুদ্ধে কড়া হুশিয়ারী দিলেও মিল মালিকরা সরকারের কোন হুমকীই কর্ণপাত করছেন না। ইতিমধ্যে দেশের বৃহত্তম চালের মোকাম খাজা নগরে স্থানিয় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে একটি মিল মালিককে ধান মজুদের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা  করেছেন। এতে করে চাতাল মালিকেরা প্রথমে আতংক গ্রস্থ হয়ে পড়লেও পরে আবার তাদের নিয়মেই চালের  বাজার অব্যাহত রেখেছে। তবে টাস্কফোর্সের তথ্য মতে  কুষ্টিয়ার ৭০ চালকল মালিকের কাছে মজুদ দশ লাখ টন ধান। দেশে চালের দাম দফায় দফায় বাড়ার পেছনে চালকল মালিকদের কারসাজি ধরে ফেলেছে টাস্কফোর্স।
জানা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানেই এই মোকামে মিনিকেট চালের দাম বাড়ানো হয়েছে কেজি প্রতি ৫ টাকা থেকে ১২ টাকা। চালকল মালিকদের দাবি, ‘বর্তমানে বাজার থেকে বেশি দামে’ ধান কেনার কারণেই তারা চালের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, বর্তমানে যে ধান থেকে চাল উৎপাদন করা হচ্ছে, সেই ধান ৩-৪ মাস আগে কম দামে বাজার থেকে সংগ্রহ করে গুদামজাত করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ৭০ জন বড় চালকল মালিকের মিলে প্রায় ১০ লাখ টন ধান মজুদ রয়েছে। চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুর রশিদের গুদামেই ২ লাখ টন ধান মজুদ রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, খাজানগর ছাড়াও উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু গুদামে আবদুর রশিদ ধান মজুদ করে রেখেছেন।
চালের বাজার স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন চালকল মালিকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠকও করেছেন। কিন্তু চালকল মালিকেরা প্রশাসনের কোন কথায় কর্ণপাত না করে চালের মুল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রাখেন।  এ অবস্থায় অতি সম্প্রতি টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে খাজানগর চালের মোকামে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুর রশিদের মিলের ১৩টি গুদামে গিয়ে টাস্কফোর্স দেখতে পায় এসব গুদাম দীর্ঘদিন খোলা হয়নি। যার ফলে তালায় জং ধরে গেছে। এরকম জং ধরা একটি গোডাউনের তালা হাঁতুড়ি দিয়ে ভেঙে ভিতরে ঢুকে বিস্মিত হন অভিযানকারী দলের সদস্যরা। তারা ধানের বস্তার চেহারা দেখে জানান, এই ধান ৪ থেকে ৫ মাস বা তারও বেশি আগে সেই সময়ের বাজার দরে কেনা। ওই চালকলের এক কর্মকর্তা টাস্কফোর্সকে জানান, প্রতিদিন তাদের মিলে ৫০০ টন চাল উৎপাদন হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদের মিলের ১৩টি গুদামে গিয়ে চিত্র দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন, টাস্কফোর্সের প্রধান কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম। চালকল মালিকদের দাবি বন্যার কারণে ধানের চরম সংকট। তাই বর্তমানে বাজার থেকে বেশি দামে ধান কেনার কারণেই তারা চালের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।