Amar Praner Bangladesh

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় দুজনের আমৃত্যু ও একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

 

 

হাসনাত রাব্বু, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি :

কুষ্টিয়ার খোকসায় নজরুল ইসলাম ওরফে লতিফ (৩০) নামের ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে দুইজনকে আমৃত্যু ও একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়েছে।

রোববার দুপুরের কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ রায় দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- রাজবাড়ী সদর উপজেলার ধুনচি গ্রামের মৃত ফয়েজ শেখের ছেলে মজিবর শেখ (৩৭) ও কুষ্টিয়ার মিলপাড়া এলাকার তোফাজ্জেল আলীর ছেলে ফজলু। এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খুশি বেগম (৪৬) খোকসার উত্তর শ্যামপুর গ্রামের মজনু শেখের স্ত্রী।

রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি খুশি বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি ফজলু ও মজিবর পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় এ মামলায় আজিম সর্দার নামের একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সজিরদ্দিন শেখের ছেলে নজরুল ইসলাম সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে ভাড়া বহনের উদ্দ্যেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে না ফিরলে ১৭ জুলাই দুপুর ১টার দিকে খোকসা উপজেলার উত্তর শ্যামপুর গ্রামের পাট ক্ষেত থেকে নজরুলের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নজরুলের ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চুরির উদ্দেশ্য তার গলা কেটে হত্যা করে। পরেরদিন নিহতের বড়ভাই বিল্লাল শেখ বাদি হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে খোকসা থানায় এজাহার দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৩০ জুন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ৪ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত ধার্য তারিখে আদালতের বিচারক মামলার আসামিদের শাস্তির আদেশ দেন।