Amar Praner Bangladesh

ক্ষমতা ও ভীতির রাজনীতির ফাঁদে গণতন্ত্র ও দেশ

 

(যে দুর্বলতা গোটা দেশবাসীকে গ্রাস করছে, যে সমস্যায় রাষ্ট্র-দেহ বিপর্যস্ত, সে সবের উৎস কিন্তু একটাই-তা হলো বাংলাদেশের মানুষ নিজেরাই নিজেদের অপদস্ত ও অপমান করছে। মানুষ হিসেবে নিজেদের মর্যাদা ও মূল্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি আমরা। এই সরলতাকে পুঁজি করে রাজনীতির ব্যবসা চলছে দেশে।)

 

শের ই গুল :

 

আমরা জানি যখন গণতন্ত্র ধসের মুখোমুখি হয় কিংবা গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটে তখন কী অবস্থা হয়- নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, ভিন্নমতের জায়গা সীমিত হয়ে পড়ে, সরকারের বিরোধীদের প্রাতিষ্ঠানিক রক্ষাকবচ অদৃশ্য হয়ে যায়, মতপ্রকাশ এবং সমাবেশের স্বাধীনতা টিকে থাকলেও তা হয় খুবই সীমিত। গণমাধ্যমকে কার্যত কিনে নেওয়া হয় কিংবা হুমকির মাধ্যমে স্বেচ্ছা-সেন্সরশিপে ঠেলে দেওয়া হয়। আইনসভা হয়ে পড়ে দুর্বল, অকার্যকর; বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের অধীনস্থ হয়ে পড়ে। সরকার বিরোধীদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় এমন ব্যক্তিরা যারা সাধারণ মানুষের যুক্তিবাদিতার কাছে আবেদন করেন না, করেন তাদের আবেগের কাছে, তাদের বিদ্বেষের কাছে।

এই ধরনের নেতাদেরকে বলা হয়‘ডেমাগগ’। এরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হোন এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে, সব সমস্যার সমাধান তিনি দিতে পারেন, সব জটিল সমস্যার সহজ সমাধানের কথা বলেন তারা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান(১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণ) বলেছিলেন সরকারি কর্মচারীদের বলি, মনে রেখো,এটা স্বাধীন দেশ। এটা ব্রিটিশের কলোনী নয়। পাকিস্তানের কলোনি নয়। যে লোককে দেখবে, তার চেহারাটা তোমার বাবার মত, তোমার ভাইয়ের মতো। ওরই পরিশ্রমের পয়সায় তুমি মাইনে পাও। ওরাই সম্মান বেশি পাবে। কারণ ওরা নিজেরা কামাই করে খায়। আশির দশকে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থেচার। ক্ষমতাসীন হয়ে তিনি দেখেন, তার চোখ কান নাক মুখ হয়ে শ্বাস প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের বেড়াজাল হয়ে আছে এক অদ্ভুত ব্যবস্থা। যার নাম আমলাতন্ত্র।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতসীন হওয়ার পূর্ব থেকেই তিনি লক্ষ্য করেন এসব আমলারা অনির্বাচিত, জগণের করের টাকায় তাদের রুটি রুজি অথচ তারাই দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে বসে থাকে। শুধু কি তাই এসব আমলারা কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয় কিন্তু সব বিষয়ের কাজি সেজে থাকে। রাজহাঁস নামে একটা প্রাণী আছে। দেখতে বেশ নাদুস নুদুস। ইংল্যান্ডে প্রতিটি শহরে পার্কে হৃদ আছে। সেখানে এই রাজহাস চড়ে বেড়ায়। এসব হাঁসের মালিক ইংল্যান্ডের রানী। কুইনস ডাক নামে আদর করে তাদের বলা হয়। মানুষের দেয়া খাবার দাবার খেয়ে এরা বেশ ভালো মাংসল হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

আমলাদেরকে থেচার ডাক বা হাস বলে ডাকতেন। মার্গারেট থেচার বলতেন, ‘ডাক কেন সুইম বাট কান্ট সুইম ওয়েল ডাক কেন ফ্লাই বাট ক্যান্ট ফ্লাই ওয়েল ডাক ক্যান ওয়াক বাট ক্যান্ট ওয়াক ওয়েল। যারা কোন কাজই ভালো ভাবে পারে না তাদের প্রভাব কমাতে হবে। যেখানে ডাক্তাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সেখানে তাদেরকে উল্টো হুমকি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। যেখানে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকরা মাঠে ঘাঠে প্রকৃত তথ্য জানাতে ছুটে যাচ্ছেন সেখানে কিভাবে সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বর্তমান সময়ে হুমকির মুখে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে সাংবাদিকদের লেখার মূলধারাকে বিনষ্ট করে একটি গোষ্ঠী, অপরাধকে প্রাধান্য দিয়ে ফায়দা লুটছে এবং শূন্য মাঠে গোল দেওয়াকে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একটি রাষ্ট্রে জনগণের মূল্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নির্বাচন। নির্বাচন প্রক্রিয়া যখন সঠিক ভাবে কাজ করে না তখন দেশের দন্ডমুন্ডের কর্তা সেজে বসে থাকেন সংবিধানে উল্লেখিত কর্মচারীরা। আমাদের দেশে যেভাবে ধীরে ধীরে জনগণ মূল্যহীন হয়ে গেছে, জনগণের সাথে রাজনীতিও যে মূল্যহীন হয়ে গেছে সেটি রাজনীতিবিদরা বুঝেও না বোঝার ভান করে আছেন। করোনা সংক্রমণের পর থেকে একই ভাবে এই সিভিল-পুলিশি আমলাতন্ত্র যতটা দৃশ্যমান তার চিটেফোঁটাও কোথাও নেই রাজনীতিবিদরা।

একটি দেশে সরকারি কর্মচারীর প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি অস্বীকার করার উপায় এখনো নেই। কিন্তু আমলারা মিলে মিশে যখন আমলাতন্ত্র হয়ে যায় তখন সেটি পাগলা ঘোড়ায় পরিণত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশে গণতন্ত্র হয়েছে পারিবারিক তন্ত্র। যারাই ক্ষমতায় আসে তারা গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে চিরকাল থাকতে চায় ক্ষমতায়। একটি সময়ে ক্ষমতাসীন দল গণতন্ত্র চর্চা থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে গিয়ে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলে উন্মাদ হয়ে উঠে। তখনই জনগণের মাঝে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দেশে কয়েকটি নির্বাচন হলেও প্রত্যেকটি নির্বাচন ছিলো কোন না কোন ভাবে বিতর্কিত।

বিরোধী দল গুলো ছিল কোণঠাসা। প্রশাসন অর্থাৎ আমলাগণ বেশি সুবিধা পেয়ে ক্ষমতাসীনদের প্রতিনিয়ত প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়েছে। যে দেশে সরাসরি আমলারা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়, সাংবাদিক এবং শিক্ষকরাও সরাসরি রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। সেখানে রাজনৈতিক ভয় ভীতি গ্রাস করে জনগণের স্বাধীনতা, বন্দি হয় গণতন্ত্র ও দেশ। এমন একটি পর্যায়ে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৩-এর ডিসেম্বর অথবা ২৪-এর জানুয়ারি নাগাদ বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবিধান অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় সংসদ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের সমর্থনের ওপরই একটি রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে থাকে। জনগণের ভোটে যারা অধিক সংখ্যক আসনে জয় লাভ করে, তারাই সরকার গঠন করবে-এটাই রীতি। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এর বিকল্প নেই। রাষ্ট্র একটি সংগঠন, এ সংগঠনের সদস্যরা হলেন সাধারণ জনগণ। সংগঠনকে পরিচালনা করার জন্য জনগণই নির্বাহী ক্ষমতা প্রদান করে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটকে। সেই হিসেবে জনগণই ক্ষমতার উৎস। জনগণের ভোটের মাধ্যমে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান তারা ক্ষমতাসীন হন। তাদের সেই ক্ষমতা অনুশীলন হবে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ক্ষমতা যদি অপব্যবহার করা হয়, তবে সে ক্ষমতা জনতা কেড়ে নেবে সময়মতো। তাই ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশেই ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত রয়েছে।

বাংলাদেশও এতে কম যায়নি। রক্তক্ষয়ী দীর্ঘসংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করেছে, যেসব দুর্বলতা গোটা দেশবাসীকে গ্রাস করছে, যে সমস্যায় রাষ্ট্র-দেহ বিপর্যস্ত, সে সবের উৎস কিন্তু একটাই-তা হলো বাংলাদেশের মানুষ নিজেরাই নিজেদের অপদস্ত ও অপমান করছে। মানুষ হিসেবে নিজেদের মর্যাদা ও মূল্যকেও তারা কোনো স্বীকৃতি দেয়নি।

এ জন্যই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার জায়গা বিস্তৃত হচ্ছে। তদুপরি বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবও বিস্তার লাভ করছে, আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের উর্বর মস্তিষ্কে। প্রতিনিয়তই তারা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে রাজনীতির সমীকরণ মেলাবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ বলছেন, বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে-আবার কেউ বলছেন, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হবে না। অনেকে পাকিস্তানের উদাহরণ টানছে। ঠুনকো ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজপথ রক্তাক্ত হচ্ছে। করোনাঘাতের তীব্রতায় বিশ্ব মানব সভ্যতা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বিপন্ন সে অবস্থা থেকে অনেকটা উত্তরণ ঘটলেও এখনও থামেনি সে যুদ্ধ। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী এ তিনটি দল নিয়ে সম্ভার সৃষ্টি হয়েছে অনেক গবেষণাও হয়েছে যথেষ্ট। তাদের সময় যে রাজনীতি হয়েছে, তা শুধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর লালসা তৃপ্তির জন্য।

দীর্ঘদিনের অশুভ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বাংলাদেশের রাজনীতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে মুক্তির প্রত্যাশায় গণতন্ত্র বিকাশের আন্দোলনে যে সফলতা এসেছিল, সে সফলতা ধরে রাখা যায়নি। রাজনীতির ওপর যে কালো ছায়া পড়েছিল, সে কালোছায়ার কবল থেকে আমরা এখনও মুক্ত হতে পারিনি বলেই রাজনীতিতে তিক্ততা দিনে দিনে বেড়েই চলছে। সাধারণ মানুষের এখন আর রাজনীতিকদের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। সে জন্য নির্বাচনগুলোতে জনগণ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত থাকছে। জনগণ যখন ভোটদানে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্র দেহে ঘুণ ধরেছে। ঘুণধরা রাষ্ট্র কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না।

যে রাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতা থাকে-সেটা সুস্থতার লক্ষণ নয়। পারস্পরিক-সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকাটা যৌক্তিক নয়। সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষতার কোনো প্রয়োজন নেই। যেহেতু-‘গণতন্ত্র শব্দটি সংবিধানে রয়েছে, সেহেতু ধর্মনিরপেক্ষতার কোনো দরকার পড়ে না। কেননা, গণতন্ত্রের মধ্যেই ধর্মনিরপেক্ষতার বীজমন্ত্র রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মান্ধরা ধর্মহীনতা হিসেবে প্রচার করে থাকে। যা হোক, বিশ্ব রাজনীতির গতি প্রকৃতি বদলে গেছে অনেকটা।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টে গেছে। ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর বিচারে রাশিয়ান ও ইউক্রেনীয়দের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এক সময় পার্শ্ববর্তী দুটি রাষ্ট্র একই মানচিত্রের ভূখ- ছিল। যে ঠুনকো ইস্যুতে রাশিয়া-ইউক্রেন হামলা করেছে তা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। কিন্তু রাশিয়া সেটা করেনি, পুতিন তার ব্যক্তিগত দক্ষতার প্রমাণের জন্য। এমন একটি যুদ্ধ তার খুবই প্রয়োজন ছিল। রাশিয়ার এ রকম আগ্রাসী মনোভাবের প্রতি অনেকের সমর্থন রয়েছে। সমর্থন দাতাদের সাহসেই পুতিন বেটাগিরি দেখাচ্ছেন। কিন্তু অতি দানবীয়তাকে পরম সৃষ্টিকর্তাও পছন্দ করে না।

রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতির বাতাস আচরে পড়ছে সারা বিশ্বে। এমনি অবস্থায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই শঙ্কাগ্রস্ত। কেননা, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কুপ্রভাব অনিবার্য। অর্থনীতির কুপ্রভাবে রাজনীতি গতিপথ হারিয়ে ফেলবে। অনেকটা হারিয়ে ফেলেছেও। এখন চলছে আত্ম প্রতিষ্ঠার রাজনীতি। বর্তমান সরকারের মেয়াদ যত শেষের দিকে যাবে, অস্থিরতা তত বাড়বে। তার আলামত এরই মধ্যে স্পষ্ট হচ্ছে। গত দুটো নির্বাচনের মতো আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে, এমন প্রত্যাশা করাও ঠিক হবে না। আবার বিরোধী পক্ষ বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিবে না বলে হুংকার দিচ্ছে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনঢ়। কে দেবে তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটিয়ে ফেলবে, এমন সক্ষমতাও তাদের নেই। অন্যদিকে সরকারও শংঙ্কাগ্রস্ত। মুখে যাই বলুক, বিরোধীপক্ষকে নির্বাচনে না আনতে পারলে-নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না, পাশাপাশি জনগণও ভোটকেন্দ্রে যাবে না। এমনিতেই ভোটের প্রতি জনগণের আগ্রহ নেই।

সদ্য গঠিত নির্বাচন কমিশনও বেকায়দায় রয়েছে। সব দল নিয়ে নির্বাচন করতে না পারলে, তাদের ব্যর্থতা প্রমাণিত হবে। তা হলে কী হতে যাচ্ছে, দেশে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন! আমরা আরাম চাই, সুখ চাই; কিন্তু কীভাবে আরামণ্ডসুখ হবে-তা নিয়ে ভাবি না। দিনে দিনে সামাজিক নৈরাজ্য বাড়ছে। মনুষত্ব বিকাশের পথরুদ্ধ হচ্ছে। এ অধোগতি যখন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশের লোকদের আক্রমণ করে, তখন গোটা কাঠামোটাই ভেঙে পড়ে। সবারই মনে থাকার কথা, একটি মাত্র বৈদেশিক আক্রমণে গোটা রোমান সমাজ টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়েছিল। সেই সমাজ আর উঠতে পারেনি। ইজিপ্ট (মিশর) ব্যাবিলিয়ন, আসিরিয়া প্রভৃতি অন্য অনেক সাম্রাজ্যও একই রকম পতন পর্বের মধ্য দিয়ে গেছে। পাশ্চাত্যে এখন চিন্তা হচ্ছে, সংস্কৃতির সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে।

অত্যাধিক সংস্কারহীন বস্তুতান্ত্রিকতা এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা এক উৎকৃষ্ট সমাজ সমস্যার ইঙ্গিত। এ সব কারণে আধুনিক সভ্যতার পতন নিয়ে চিন্তিত। এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশেও বিরাজমান। রাজনৈতিক দুদুল্যমান অবস্থাকেন্দ্রিক সমাজ ব্যবস্থা আমাদের স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিবে, তাতে আর সন্দেহ কী? অতএব, সাবধান। উন্নয়নের ভ্রান্তি বিলাসে গা ভাসালে চলবে না। চোখ কান খোলা রাখতে হবে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোটা জাতি তথা, সব রাজনৈতিক দলকে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে যেতে হবে। নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়, সে বিষয়ে সব দলকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয়, জনগণ যদি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তবে দেশ ও জাতির ধ্বংস অনিবার্য।