Amar Praner Bangladesh

খুলনার রূপসায় মন্দির ভাঙচুর করার অভিযোগে দুইজন গ্রেফতার, মামলা দায়ের

 

 

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলমঃ

 

খুলনার রূপসায় মন্দিরের কাজে বাধা প্রদান কাজের লোকজনকে গালিগালাজ এবং নির্মানাধীন মন্দিরের নির্মাণ কাজ ভাংচুর করার অপরাধে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন বলটি গ্রামের মৃত জয়দেব পোদ্দার এর ছেলে পীযুষ পোদ্দার(৩৫) ও অনুপ পদ্মার (৩৮)।

এ ব্যাপারে মন্দির কমিটির সভাপতি সুজন বসু বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে রূপসা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। যার নং-০৮, তাং০৫/০৮/২২।

এজহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঘাট ভোগ ইউনিয়নের বলটি দক্ষিণপাড়া দূর্গা মন্দিরে দুই বছর যাবত পূজা করে আসছে ঐ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। উক্ত মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের আর্থিক সহায়তায় মন্দিরে নির্মাণ কাজ চলিতেছে।

এজাহার নামীয় আসামিদের বাড়ি মন্দিরের পাশে অবস্থিত। তারা দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের সীমানার মধ্যে জমি পাইবে মর্মে দাবী করিয়া আসিতেছে। এ বিষয় নিয়ে আসামিদের সহিত মন্দির কমিটির সহিত বিরোধ চলিয়া আসিতেছে।

গতকাল (শুক্রবার ০৫/০৮/২০২২) ইং তারিখে মন্দিরের নির্মাণ কাজ চলাকালীন বেলা অনুমান ২ টার সময় মন্দিরের জমি দখল করার জন্য অনধিকার ভাবে মন্দিরের মধ্যে প্রবেশ করিয়া মন্দিরে নির্মাণ কাজে নিয়োজিত লোকজনকে গালিগালাজ করতে থাকে এবং নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে এক পর্যায়ে আসামিদ্বয় ধর্মের অবমাননার উদ্দেশ্যে নির্মানাধীন মন্দিরে নির্মাণ কাজ ভাঙচুর করিয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করে। মন্দির ভাঙচুর করার ফলে অনুমান এক লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে।

তখন মন্দিরে কাজে নিয়োজিত লোকজন ডাক চিৎকারে একই এলাকার খোকন বিশ্বাস, রবিন মন্ডল ও সুকান্ত কোম্পানি সহ আরো অনেকে আগাইয়া আসিলে আসামিদ্বয় তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি সহ পরবর্তীতে মন্দিরের জমি জবর দখল করিয়া নিবে মর্মে হুমকি প্রদান করিয়া চলিয়া যায়।

ঘটনার পর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) রাজু আহমেদ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা, থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন, ওসি তদন্ত মো: সিরাজুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান মিজানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা দেখতে পান।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করে। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করেছেন।