Amar Praner Bangladesh

খুলনায় বাড়তি বিলের চাপে দিশেহারা বিদ্যুৎ গ্রাহকরা

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
খুলনা নগরীর বেশ কিছু এলাকায় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে। আবার কোন অদৃশ্য কারণে দু’মাসের বিল একসাথে দিচ্ছে। ডিজিটাল মিটারে সংযোগ নেওয়ার পরও মিটার রিডাররা মিটার না দেখে মনগড়া বিল দেওয়ার কারণে বিল বেশি আসছে বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন।
নগরীর লবণচরা, টুটপাড়া, পশ্চিম বানিয়াখামার, শিববাড়ি, ময়লাপোতা, দেবেন বাবু রোড, জোড়াগেট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, মিটার-রিডাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার না দেখে অফিসে বসেই মনগড়া বিল তৈরি করে। দু’মাসের বিল এক সাথে দেয়। বিল পরিশোধের একদিন আগে বিলের কাগজ গ্রাহকের বাড়িতে দেয়।
ভোগান্তির শিকার নগরীর শিপইয়ার্ড এলাকার আব্দুস সালাম নামের এক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, আগস্টে তিনি ৪৫০ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। সেপ্টেম্বরে তার বিল এসেছে ২ হাজার ৪৭ টাকা। পরে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে মিটার ব্যাক মেরেছে বলে জানায় তাকে। এধরনের মনগড়া বিদ্যুৎ বিল আসায় বিপাকে রয়েছেন তিনি।
মতিয়াখালি বাজার এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন মোঃ আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, প্রতিমাসে বিলের কাগজ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। অফিসে গেলে টেবিলে টেবিলে ঘুরতে ঘুরতে দিন পার। পরেরদিন আবার যেতে হয় টাকাও খরচ হয়।
জিন্নাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহেদা রহমান বলেন, বিদ্যুৎ বিলের টাকা পরিশোধের শেষ তারিখ যেদিন, ঠিক তার আগের দিন বিলের কাগজ তার বাড়িতে দেওয়া হয়েছে। পরে বেশি বিল থাকায় দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস আমার মিটার বারান্দায় আটকা রয়েছে। কিন্তু কোন বিদ্যুতের লোক আসেনি। অথচ বিল হচ্ছে।
দেবেন বাবু রোড এলাকার মোসাঃ মরিয়ম আক্তার বলেন, মাঝে মাঝেতো বিলের কাগজ আসে না। অফিসে গেলে জানায় দু’একদিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন। পরের মাসে একসাথে বেশি বিল আসে। মিটারের রিডিংএর সাথে বিলের কোন মিল থাকে না। বিদ্যুতের লোকেরা অফিসে বসে বিল করে বলে মিটারের সাথে বিলের কোন মিল থাকে না বলে মনে করেন তিনি।
টুটপাড়া জোড়াকল বাজার এলাকার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত (নভেম্বর) মাসের বিল আমি পাইনি। আমি মিটার রিডারকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় পরে দিয়ে যাবে। কিন্তু ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোন কিছু জানায়নি।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোং লিঃ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হক বলেন, আমার এলাকায় ৫৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। সেক্ষেত্রে কিছু ভুল হতে পারে। তবে আমাদের মিটার রিডার বা অন্য কারো কোন ত্রুটি থাকলে আমরা বিষয়টি দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।