Amar Praner Bangladesh

খুলনা আধুনিক রেল স্টেশনের নির্মাণ কাজের মেয়াদ বেড়েই চলেছে

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো: খুলনায় নির্মাণাধীন আধুনিক রেল স্টেশনের প্লাটফর্মের ছাদে ফাটলের কাজ বুয়েটের নির্দেশনা মোতাবেক মেরামত করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘ ৮ মাসেও রেলপথ মন্ত্রনালয় থেকে কোন নির্দেশনা আসেনি। দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে ডিসেম্বরে সম্পন্ন হচ্ছেনা। অবশ্য মূল ভবনের কাজ ডিসেম্বরে সম্পন্ন হবে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। স্টেশনে ৩টি প্লাটফর্মের কাজ এখনো বাকি। ৩টি প্লাট ফর্মের মধ্যে মাঝের ২নং প্লাট ফার্মে গত মার্চ মাসে ফাটল দেখা দেয়। বুয়েটের শিক্ষক প্রফেসর ড. শফিউল বারীর পরামর্শ মোতাবেক ২স্তরের রড দিয়ে মেরামত করা হবে। আগমী বছরের মার্চ মাসে পুরো কাজ সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে। খুলনা বাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল এ আধুনিক রেলওয়ে স্টেশন।
সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে কাজ শুরু হয়। কয়েকটি কারণে আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনের কাজ শুরু করতে বেশ কয়েকটি কারণে বিলম্ব হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওই খানে ২ হাজার বস্তি ছিল তা উচ্ছেদ, ১৫০টি রেলওয়ে কর্মচারীদের জন্য কোয়ার্টার অপসরণ, জব্বর স্মরণীতে টিন মার্কেট, যশোর রোডে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ, লোকসেড স’ান্তর ও বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু হয় বিলম্বে। এ কারণে নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা যায়নি। প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। গত মার্চ মাসে ফাটল দেখা দেয়। এতে বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। ডিজাইন পরিবর্তনের কারণে ফাটল দেখা দিয়েছে। রেলপথ মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স’ায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান এমপি ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে রেলমন্ত্রী মজিবুল হক নির্মাণ কাজে ত্রুটির সাথে জড়িত থাকার বিরুদ্ধে ব্যবস’া গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভূক্ত করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানকে এ কাজ থেকে বাদ ও লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
সূত্র জানিয়েছে, খুলনার আধুনিক রেলস্টেশন প্রকল্পের মূল স্টেশন ভবন এবং তিনটি প্লাটফর্মের নির্মাণ কাজ চলছে। এর মধ্যে স্টেশন ভবনের কাজ প্রায় শেষের পথে। ৯৯ভাগ কাজ হয়েছে। বাকী ১ভাগ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। প্লাটফর্মগুলোর কাজ বেশ বাকি। মূল স্টেশন ভবন থেকে ২ নম্বর প্লাটফর্মের দিকে কয়েক ফুট পশ্চিম দিকে এগোতেই কয়েকটি অংশে চোঁখে পড়ে পাঁচটি ফাটল। ৩১৪ ফিট ফাটল রয়েছে। ডান দিকে তিনটি এবং বাম দিকে ২টি। যদিও ফাটলগুলোর ওপর প্লাস্টার করে ঢেকে দেয়া হয়েছে। তবুও স্পষ্ট হয়ে রয়েছে চিহ্নগুলো।
খুলনার আধুনিক রেল স্টেশন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ২০১৫ সালের এপিলে শুরু হয়। ৫৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আবারো মেয়দ বাড়ারার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
ঠিদাকারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন নির্ধারিত সময় কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে ৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। নতুন রেল স্টেশনটি হচ্ছে তিনতলা বিশিষ্ট। প্রথম তলায় স্টেশন ভবনে থাকছে ৬টি টিকেট কাউন্টার, বিশ্রামাগার ও সহকারী স্টেশন মাস্টারের রুম। দ্বিতীয় তলায় স্টেশন মাস্টারের রুম, রেস্টুরেন্ট, তফসিলি ব্যাংকের শাখা, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা বিশ্রামাগার, ফাস্ট ফুডের দোকান এবং রেল কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কক্ষ। তৃতীয় তলায় রেলওয়ের প্রকৗশলীদের কক্ষ। স্টেশন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে একসাথে ৬টি ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ এবং বের হতে পারবে। ফলে প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। ৩টি প্লাটফর্মে ২ পার্শ্বে ৬টি লাইন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে প্রথম প্লাটফর্মে ১টি লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। বাকী ৫টি এখনো করা হয়নি। প্রতিটি প্লাটফর্মের দীর্ঘ ১২’শ ফুট।
ভবন নির্মাণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সরদার মোংলার শেখ হায়দার আলী বলেন, মূল ভবনের কাজ প্রায় শেষ। তার অধিনে শতাধিক শ্রমিক রাতদিন কাজ করছেন। তিনি বলেন, প্লাটফর্মের জন্য মূল ভবরনর কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। এখন শুধু রং ও টাইলস’র কাজ চলছে।
নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের কর্মকর্তারা প্রকৌশলী মোঃ জাহিদ হোসেন ফাটলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, আবহাওয়াজনিত কারণে আশ জাতীয় ফাটল (হেয়ার ক্যাক) দেখা দিয়েছে। এটি তেমন কোনো সমস্যা নয়। ২ স্তরের রড দিয়ে এবং বুয়েটের নির্দেশনা মোতাবেক ফাটল মেরামত করা হবে। তার পর ফাটলকৃত ফাটফর্মের ওপর কোন চাপ পড়বে না। ফাটল দেখা দেয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী কলসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান মর্ডান ইঞ্জিনিয়ারর্স’র বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস’া গ্রহণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মূল ভবনের সামনে ও পাশে রয়েছে নানা প্রকার নির্মাণ সামগ্রী, আগাছা বোঝাই, বড় বড় গর্ত ও কাঁচা জায়গা পাকা করণসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে অসম্পন্ন। মূল ভবনের পার্শ্বে আরো একটি ছোট ভবন হচ্ছে। তার কাজও শেষ হয়নি। এ কাজ করতে সময়ের প্রয়োজন। সব মিলিয়ে আগামী বছরের মার্চ মাস নাগাদ শেষ হতে পারে আধুনিক এ রেলস্টেশনের।
খুলনা রেলওয়ের সিনিয়র সাব-এ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্কস) হাফিজুর রহমান বলেন, মেয়াদ বাড়ানে হবে। ফাটলের বিষয় ঢাকার নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করা হবে। ফাটল মেরামত করতে বুয়েটের পরামর্শ রয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে। মূল ভবনের কাজ প্রায় শেষ। রং ও টাইলস’র কাজ বাকি রয়েছে। বাকী কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খুলনায় আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনটি সম্পন্ন করতে কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছেন। কলসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান মর্ডান ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে কালো তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস’া গ্রহনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।