Amar Praner Bangladesh

গাজীপুরজুড়ে নেতাদের পিছনে চাটুকার সাংবাদিক প্রায় কয়েকশত ছুইছুই

 

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্ক :

 

বৃহত্তর গাজীপুরজড়ে কিছুদিন পূর্বে দেখা যেত মেয়র জাহাঙ্গীরকে ঘিরে মৌমাছির চাকের মতো সাংবাদিকরা গিজগিজ করছে। হঠাৎ করে বহিষ্কৃত মেয়রের মসনদ হারিয়ে গেলে ঝাকে ঝাকে সাংবাদিকরা ছড়িয়ে যায় গাজীপুরজুড়ে। কেউ আশ্রয় নিয়েছে কোন কাউন্সিলরের নিকট, কেউ আশ্রয় নিয়েছে মেয়র প্রার্থী প্রত্যাশীর নিকট, আবার কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন পাতি নেতাদের কাছে। আবার পূর্ব থেকেই বিভিন্ন মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর ভাই ও মন্ত্রীর বোনদের একান্ত হয়ে কাজ করছে কিছু সাংবাদিকরা। সুবিধাবাদী, মতলববাজরা সব সময়ই ক্ষমতাসীনদের ঘিরে থাকে। প্রশংসাকারীর চেয়ে দেশে এখন চাটুকার-তোষামোদকারীর সংখ্যা অনেক বেশি।

গাজীপুরে এমন সাংবাদিকের সংখ্যা এখন প্রায় কয়েকশত ছুইছুই। কোন নেতা, কিংবা সাংবাদিকরা মাসিক ভাতা পায় এমন কোন হোতা, যদি কোন অন্যায় কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয় এমনকি মাদক সহ গ্রেফতারকৃত কোন নেতা হলেও তার পক্ষে এবং বিপক্ষে অবস্থান নেয় সাংবাদিকরা এবং স্ব-স্বঅবস্থানে থেকে নিজ নিজ ফেসবুক থেকে স্ট্যাটাস দিতেও ভুল করেনা।

বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনে যখন গলদঘর্ম তখন দেশে ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মীরা। তাই তিনি মনোকষ্ট নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার চারদিকে শুধু চাটার দল।’ আবার এও বলেছিলেন, ‘যেদিকে তাকাই সেদিকেই আমার লোক। এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায়। এ কথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, তাঁর পাশে যারা আছেন সবাই তাঁর লোক। তাঁর পাশে চাটার দল আছে কি? থাকলে তারা কে বা কারা? দুর্নীতি করছে কারা? বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পাইছি চোরের খনি।

সাংবাদিক জাতির বিবেক, তারা অন্যায়কে সমাজের কাছে তুলে ধরবেন, কিন্তু তারাই যদি অন্যায়কারীর সাথে আতাত করে তাহলে জাতি ধ্বংস হতে সময় লাগবেনা। তবে অনুসন্ধান করে জানা যায়, বৃহত্তর গাজীপুরজুড়ে কিছু ভালো সাংবাদিক আছে, যারা কারোও তোয়াক্কা করেনা, সত্য সংবাদ প্রকাশে সবসময় একধাপ এগিয়ে থাকে। তোষামোদকারীদের জন্য এই মহৎ পেশাদার সাংবাদিকরাও আজ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তোষামোদ সবাই পছন্দ করে।

যদিও মহাজনেরা বলে গেছেন, ‘আক্রমণকারী শত্রুকে ভয় পেয়ো না। তোষামোদকারী বন্ধুদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখো। শেখ সাদী (র) বলেছেন, ‘সাবধান! চাটুকারের গুণকীর্তন কর না। সে তোমার নিকট স্বার্থের প্রত্যাশী, স্বার্থ শিকারে ব্যর্থ হলেই উল্টো তোমার দোষ রটাবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় দেশ পরিচালনায় যারা থেকেছেন তাদের আপনজনরাই দেশ ও জাতির বেশি ক্ষতি করেছে। ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি যারা আছেন তাদের সম্পদের হিসাব আগে নিন, দেখবেন দেশে অনেক দুর্নীতি কমে গেছে। দুর্নীতির মতো হিংস্র্র্র কালো বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটি কে বাঁধবে? প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা অনেক অসাধ্য সাধন করেছেন। এখন এই দুর্নীতির কালো বিড়ালটির গলায় ঘণ্টা নয়, তাকে হত্যা করতে পারলেই দেশ ও জনতার মুক্তি। আগে সোনার বাংলা পরে অন্যসব। সাধু সাবধান।