Amar Praner Bangladesh

গাজীপুরে চাকরির নামে প্রতারণা স্ট্রং গার্ড বিডি প্রাইভেট লিমিটেড নামে ভুয়া কোম্পানি

 

 

সামছুদ্দিন জুয়েল, গাজীপুর সদর প্রতিনিধি :

 

দেশে যে হারে শিক্ষিত বাড়ছে, সে হারে কর্মক্ষেত্র বাড়ছে না। ফলে অনেকেই বেকার থেকে যাচ্ছে। চাকরি যেন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে পড়ালেখা শেষ হলেও জুটছে না কাঙ্ক্ষিত চাকরি।

শিক্ষিত বেকাররা নিজ জেলায় ব্যর্থ হয়ে চাকরির সন্ধানে ভিড় করছেন রাজধানীসহ ঢাকার বিভিন্ন শহরে এ সুযোগে এক শ্রেণীর প্রতারক চাকরি নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসে আছে। এই ফাঁদে পড়ে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। এতে অনেকে চাকরি পাওয়ার আসায় উপরি দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। কিন্তু মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সোনার হরিণটি।

বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা, এমএলএম কোম্পানি, সিকিউরিটি কোম্পানী, বিপণন কোম্পানি, মার্কেটিং কোম্পানির নামে বেশি প্রতারণা করা হচ্ছে। রাজধানীতে আসা যাওয়া বিভিন্ন বাসে, জনসমাগম হয় এমন স্থানে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। এতে পার্ট টাইম চাকরির নামে ছাত্রছাত্রীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়। নিয়োগের নামে তাদের কাছ থেকে জামানত বা অন্যান্য খাতের অর্থ নিয়ে সটকে পড়ে। এসব বিষয়কে বেকারদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিরীহ লোকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এ চক্রের একটি অংশ গাজীপুর চৌরাস্তার ঢাকা রোড পূবালী ব্যাংকের ডান পাশে সিদ্দিক ভবন এবং রফিক ভবন ২য় তলায় স্ট্রং গার্ড ( বিডি) প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি অফিস খুলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে চাকরি দেয়ার নামে লুটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আবার একই অফিসে দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে থাকেনা চক্র গুলো। নানান সময় বিভিন্ন স্থানে লোভনীয় চাকরির স্টিকার আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে নজরে আসেন বেকার যুবক-যুবতীদের,তাঁর মধ্যে বেশির ভাগ’ই যুবতীরা।

তাইজুল ইসলাম (ম্যানেজিং ডিরেক্টর) রফিক (চেয়ারম্যান) এবং ফজল (এডমিন অফিসার) হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। মূলত তাইজুল এই চক্রের মূলহোতা।

নামধারী কোম্পানিটি বিভিন্ন জায়গায় দেয়ালে, বাসে লিফলেট বিতরণ করে উচ্চ বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এদের রয়েছে একটি সিন্ডিকেট দল। এই সিন্ডিকেটদের কাজ হচ্ছে গ্রামের অসহায় শিক্ষিত বেকার যুবক ও যুবতীদের উচ্চ বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখানো। তার পর তাদের কাছ থেকে এককালীন মোটা অংকের টাকা। পরবর্তীতে আবার প্রশিক্ষণের নাম করে টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু চাকুরী আর হয় না।

বর্তমানে প্রতারক চক্রটি বিজ্ঞাপন ছাপানোর পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। যেমন এফ এস এস নামে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম লাগিয়ে ফেসবুক পেজ ও ফেইক আইডি খুলে এই ঠিকানা ব্যাবহার করে দৈনিক কয়েকশত লোক পড়ে প্রতারণার ফাঁদ ম্যানেজার ফজলকে এই বিজ্ঞাপন দেখালে এটা অন্যায় শিকার করেন।

ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন এই প্রতিবেদককে জানান, ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে এফ এস এস নামের প্রতারকের সাথে পরিচয় হয়। তারপর তার সাথে মোবাইলে কথা বলে জানতে পারি উনি আমাকে সুপারভাইজার হিসেবে চাকুরী দিতে পারবে। কথাটি শুনে আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বিনিময়ে আমাকে ৬০০০/- হাজার টাকা দিতে হবে।

শফিক ও বাবুল আরো জানায়, আমরা কক্সবাজার থেকে এসেছি। বাবা মা পড়াশোনা করাইছে এখন কিছু একটা করতে বলে দুই জন মিলে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে ফোন করে অনেক কষ্ট করে ৬ হাজার টাকা ধার নিয়ে তাদেরকে দেই। বাকী টাকা চাকুরীর হওয়ার কয়েক দিন পরে দিব। কিন্তু এখানে এসে দেখি তারা সম্পূর্ণ প্রতারক। আমাদেরকে পাশে একটি ভবনে থাকতে দিয়েছে এখানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে আশা ৬০/৭০ জন্য লোক সবাইকে বলে ১৫০০০/- টাকা বেতন দিব ফেসবুক আইডি থেকে নিয়োগ বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করা এখন আমি কি করবো আমি এখান থেকে পালিয়ে যাবো।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত যেনে ধামাচাপা দিতে প্রতিবেদককে সংবাদিক নামধারী দুই জন এসে বিভিন্ন প্রকারের আবোল তাবোল কথা বলে অপরাধ শিকার করে চলে যায়।

আমরা দৈনিক আমার প্রানের বাংলাদেশ পত্রিকার অনুসন্ধান প্রতারকের অফিসে আসলে দেখতে পাই প্রায় ২০ জন ইন্টারভিউ দিচ্ছে। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কোম্পানির কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। এম ডি তাইজুল ইসলাম আসতেছে বলে আর সাক্ষাৎ বক্তব্য দেননি । ম্যানেজার ফজল এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন এখানে দৈনিক ৭০/৮০ জন লোক আসে যা আমাদের খাতায় এন্ট্রি হয় আমরা ৫ জনে মিলে কমিশনে ইন্টারভিউ নেই।