Amar Praner Bangladesh

গাজীপুরে তিতাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হতেই দেদারছে চলছে পুন:সংযোগ

 

(জড়িত সিবিএ নেতার সিন্ডিকেট)

 

মোঃ আরিফ শেখঃ

 

গাজীপুর মহানগরে বিভিন্ন এলাকায় তিতাস গ্যাস কতর্ৃপক্ষের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান শেষ না হতেই অসাধু ঠিকাদাররা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিতাস গ্যাস অফিসকে ম্যানেজ করে দেদারছে পুন:সংযোগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ।

সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত গাজীপুর মহানগরের গাছা অঞ্চলে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শেষ না হতেই তিতাস গ্যাস কোম্পানীর কতিপয় অসাধু ঠিকাদার মোটা অংকের বিনিময়ে রাত-দিন এসব অবৈধ সংযোগ পুনরায় চালু করছেন।

সরেজমিনে খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর তিতাস গ্যাস অফিসের সিনিয়র সুপারভাইজার ও সিবিএ নেতা খান মিজানুর রহমানের সহযোগিতায় কয়েকজন ঠিকাদার দিন-রাত অবৈধ সংযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত কতর্ৃক বিচ্ছিন্ন করা অবৈধ সংযোগগুলো তারা মোটা অংকের বিনিময়ে পুনরায় চালু করে থাকেন। অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর মিজানুর রহমান সংশ্লিষ্ট সংযোগধারীকে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে পরবর্তীতে অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। নাম গোপন রাখার শর্তে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের তারগাছ তালেব মার্কেট সংলগ্ন একটি আবাসিক ভবনের মালিক জানান, একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে তিনি বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নিয়েছিলেন। ওই ঠিকাদার পরবর্তীতে কাগজপত্র ঠিক করে দিবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু সংযোগ দেয়ার পর ওই ঠিকাদার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

সম্প্রতি তিতাসের ভ্রাম্যমাণ আদালত তার অবৈধ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করতে মাটি খেঁাড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করলে গাজীপুর তিতাস গ্যাস অফিসের সিনিয়র সুপারভাইজার খান মিজানুর রহমান তাকে রফাদফার প্রস্তাব দেন। পরে ৩০ হাজার টাকার রফাদফায় তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করণের জন্য খোঁড়াখঁুড়ির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সেখান থেকে নিয়ে যান। এলাকার অন্যান্য অবৈধ সংযোগও মিজানুর রহমান বিশেষ রফাদফায় পুনরায় সংযোগ দিয়েছেন বলেও তিনি জানান। অবৈধ সংযোগধারীরা আরো জানান, মিজুনুর রহমানের পছন্দের ঠিকাদার কাউসার ও আলামিনকে দিয়ে এসব সংযোগ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর তিতাস গ্যাস অফিসের একজন কর্মচারী জানান, মিজানুর রহমান তার সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের মাধ্যমে প্রতিদিনই কোন না কোন অবৈধ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। দিন শেষে তিতাস গ্যাস অফিসের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে এ টাকা তারা ভাগাভাগি করে নেন। তিতাস গ্যাস অফিসের সিবিএ নেতা খান মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন অফিসাররাও কোন ব্যবস্থা নিতে ভয় পান।

এছাড়া স্থানীয় সাইনবোর্ড এলাকার শরিফ, কাজল, শামীম, গাছা রোডের ফকির মার্কেট এলাকার জয়নাল ও বোর্ডবাজার এলাকার ফয়েস মুন্সি তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে।
এব্যাপারে বক্তব্য জানতে খান মিজানুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গাজীপুর আঞ্চলিক তিতাস গ্যাস অফিসের ডিজিএম শাহজাদা ফরাজি বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর কেউ পুন:সংযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে আমাদের কোন লোক জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।