Amar Praner Bangladesh

গাজীপুর টঙ্গীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় রেলষ্টেশনে রমরমা মাদকের হাট

 

 

তানজিলা আক্তার :

 

গাজীপুর টঙ্গী রেলষ্টেশন এলাকাজুড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে মাদকের হাট অবশ্য নতুন কিছু নয়। অন্যদিকে মাওনা-শ্রীপুর-রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা সহ সর্বত্র চলছে মাদক ব্যবসা। এসব এলাকায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক। কিন্ত আশ্চর্য লাগে তখন, যখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সেগুলো দেখেও না দেখার ভান করে চোখে কাঠের চশমা লাগিয়ে চলে। টঙ্গী রেলওয়ে বস্তিতে প্রকশ্যেই পথচারীদের ডেকে বিক্রি করা হচ্ছে মাদকদ্রব্য।

অথচ পুলিশ স্বাচ্ছ্ন্দে তা অস্বীকার করে বলছে ভিন্ন কথা! সারাদেশে মাদকের বিষাক্ত ছোবল শেষ করে দিচ্ছে তারুণ্যের শক্তি ও সম্ভাবনা। শুধু শহরেই নয়, গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। মরণ নেশার বিস্তারে সমাজে একদিকে যেমন অপরাধ বাড়ছে, তেমনিভাবে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের অবক্ষয়, প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির অসামঞ্জস্যতা, হতাশা এবং মূল্যবোধের অভাবের সুযোগ নিয়ে মাদক তার বিষাক্ত হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তরুণ সমাজের প্রতি। যতই দিন যাচ্ছে ততই নেশাগ্রস্থদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

এ নেশা ছড়িয়ে পড়ছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে। মাদকের আগ্রাসনে আমাদের তরুণ সমাজ আজ বিপর্যস্ত। মাদকের করাল গ্রাসে দিনে দিনে ফুরিয়ে আসছে আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব। সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেটগুলো বাংলাদেশেরর বিভিন্ন সীমান্ত থেকে সীমান্তরক্ষীদের দৃষ্টি ফাঁকি দিয়ে কিংবা সীমান্তরক্ষীদের ম্যানেজ করে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, রেকটিফাইড স্পিরিট, হেরোইন ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট দেদারছে নিয়ে আসছে দেশের অভ্যন্তরে। এর মধ্যে সিংহভাগই ভারতীয় ফেনসিডিল ও ইয়াবা। সমসাময়িক বছরগুলোতে একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নগরীর বস্তি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দাখিল করে। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মূলত বস্তিগুলো থেকেই রাজধানীর মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটছে। সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যগণ রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোকে ব্যবহার করছে নিরাপদ জোন হিসেবে।

গাজীপুর টঙ্গী বস্তিগুলোতে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, প্যাথেডিন, চরশ সহ সব ধরনের মাদক পাওয়া যায়। এগুলো কন্ট্রোল করছে ক্ষমতাসীন দলের নামধারী কিছু সন্ত্রাসীরা। মাদক ব্যবসায়ীরা বস্তিতে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। পর্দার আড়ালে থেকে দেড় শতাধিক গডফাদার গাজীপুরে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। যাদের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ সহযোগী সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গাজীপুরে বিভিন্ন পয়েন্ট সহ টঙ্গীর বিভিন্ন স্পটে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি করছে।