Amar Praner Bangladesh

গাসিকের ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী নজরুল ইসলাম এখনও অফিস করেন নিয়মিত

 

(সরকারী নথি ছিড়ে মেয়রের স্বাক্ষর জাল করে প্রতারক নজরুলের মতো দূর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তি যদি চাকুরিতে বহাল থাকে তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সোপানে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা মুখ থুবড়ে পড়বে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা না করলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবেনা। দেশের স্বাধীনতা গ্রাস করবে দূর্নীতি ভবিষ্যৎ হবে অন্ধকার, এমনটাই দাবী বিজ্ঞজনদের।)

 

আরিফ শেখ :

 

মরহুম গাসিক মেয়র মান্নানের স্বাক্ষর জাল করে প্রতারক নজরুল ইসলাম জাল জালিয়াতী করে তার সহকর্মী সহ সকল প্রতারকদের মুখোশ উন্মোচিত হলে দূর্নীতি দমন কমিশনে মামলা হওয়ার পরেও বহিস্কৃত নজরুল ইসলাম কিভাবে নিয়মিত অফিস করছে বিষয়টি বোধগম্য নয়। ইতিমধ্যে রাজধানীর সিদ্ধিশরিতে কোটি টাকা দামের লাক্সারি ফ্ল্যাট ক্রয় করা সহ নামে বেনামে সম্পত্তি করেছেন প্রায় কোটি কোটি টাকার।

টাকার জোরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে নিজের পদে বহাল থাকার পায়তারা করছে সরকারী ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎকারী নজরুল। ঠিকাদারের পাওনা বিল পরিশোধ করার পর নথির অংশ বিশেষ ছিঁড়ে ফেলতেন তাঁরা। এর পর মেয়রের সই জাল করে আবার সেই বিলের চেক ইস্যু করতেন নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে।

এ রকম সাতটি চেকের মাধ্যমে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রায় সাড়ে ৮২ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন করপোরেশনের তিন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, এম রাহাতুল ইসলাম ও মো. ছায়েদুর রহমান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তহবিল আত্মসাতের এ ঘটনা ধরা পড়েছে।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বরে এই দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছে দুদক। দুদকের উপপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-২-এ মামলাটি করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) মো. নজরুল ইসলামকে। অপর দুই আসামি হলেন সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রাহাতুল ইসলাম ও সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ছায়েদুর রহমান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি নজরুল ইসলাম সিটি করপোরেশনের হিমারদিঘী আশরাফের বাড়ির পেছন থেকে নিজাম উদ্দিন রোডের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজের ঠিকাদার মেসার্স শান্ত শিহাব এন্টারপ্রাইজকে পাওনা বিল ১৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৫৩ টাকা পরিশোধ করেন। এরপর তিনি নথির নোটাংশ পরিবর্তন ও ছিঁড়ে ফেলে সিটি করপোরেশনের ব্যাংক হিসাব থেকে সমপরিমাণ টাকার চেক ইস্যু করে তুলে নেন। একই প্রক্রিয়ায় গাছা রোডে ঢাকা-ময়মনসিংহ রাস্তা থেকে বঙ্গবন্ধু কলেজ পর্যন্ত রাস্তায় এইচবিবি ও কার্পেটিং মেরামতকাজের ঠিকাদার মেসার্স রক্তিম বিল্ডার্সকে বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও ২০ লাখ টাকা এবং পূর্ব আরিচপুর সুলতানের বাড়ি থেকে বিভিন্ন পথ ঘুরে শাহীনের বাড়ি পর্যন্ত স্লাবসহ আরসিসি ড্রেন ও সিসি রাস্তা নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম হক এন্টারপ্রাইজকে ১৬ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করে পরে সিটি করপোরেশনের ব্যাংক হিসাব থেকে চেকের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা তুলে নেন নজরুল। একইভাবে আরও চারটি চেকের মাধ্যমে ৩৭ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৫ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এই সাতটি চেকে ব্যাংক হিসাব পরিচালনাকারী হিসেবে সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রাহাতুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, মেয়র এম এ মান্নান চেকের স্বাক্ষর তাঁর নয় বলে দাবি করলে দুদক হস্তলিপি বিশারদ দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয় যে, এই স্বাক্ষরগুলো ‘স্ক্যানকৃত জাল’। মামলায় নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ছায়েদুর রহমানকে আসামি করা হয়, কারণ তিনি কোনো কিছু যাচাই–বাছাই না করেই সংযোজনকৃত নোটশিট এবং চেক ইস্যু রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করেছেন। আর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রাহাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে চেক ইস্যু করার নিয়ম থাকলেও তিনি নজরুল ইসলামের হিসাব নম্বরে চেক ইস্যু করে এই টাকা আত্মসাতের সুযোগ করে দিয়েছেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭ (এ)/৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা করেছে দুদক।