Amar Praner Bangladesh

গোপালগঞ্জে তিনশত গ্রাহকের টাকা দিচ্ছে না সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড

 

(অন্যদিকে দাবি পরিশোধ করেনি মর্মে ১১ বীমা কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ)

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্কঃ

 

তিনশত গ্রাহকের টাকা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে বি.টি.এ টাওয়ার-২৯ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, রোড নং- ১৭, বনানী বা/এ, ঢাকা, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোং লিমিটেড’র বিরুদ্ধে। একে.এম এনামুল হক রিজিওনাল কো অর্ডিনেটর, লোকমুখী বিমা প্রকল্প, সানলাইফ ইনসিওরেন্স কোং লিমিটেড’র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়।

যেখানে কিছু পলিসি নাম্বার সহ গ্রাহকদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নূরজাহান পলিসি নং- ১৮০৪০০০৪৬-৮, সিতা খানম পলিসি নং- ১৮০৪০০০৮১-৪, রাজিব মৃধা পলিসি নং- ০৬০৬০০০৪৮-৬, হেমলতা পলিসি নং- ১৮০৪০০০০৪-৭, খাদিজা বেগম পলিসি নং- ১৮০৪০০১৩১-৮, মোহরা বেগম পলিসি নং- ১৮০৪০০০৮৪-৮, রবিউল পলিসি নং- ১৮০৪০০০৭৬-৫, লিয়াকত আলী পলিসি নং- ১৮০৪০০০০১-৩, রিনা বেগম পলিসি নং- ১৮০৪০০১১৭-৭, আশরাফুল হক পলিসি নং- ০৪১৩০০০২৬-৬।

এসব গ্রাহক সহ প্রায় তিনশত গ্রাহক তাদের পলিসির টাকা পাচ্ছে না বলে জানা যায়। সংসারের উৎবৃত্ত টাকা কিংবা নিজেরা ভাল মন্দ না খেয়ে মধ্যবিত্ত এসব পরিবারের লোকেরা ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের জন্য বিমা পলিসি করে আবার পলিসির টাকা না পেয়ে এসব পরিবার পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বিমা কোম্পানী গুলোর খামখেয়ালীপনা এবং পলিসি গ্রাহকের সাথে প্রতারণার সংবাদ উন্মুক্ত হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ বিমা পলিসি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

অন্যদিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দাবি পরিশোধ করছে না ১১ লাইফ বীমা কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হলো- বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, সান ফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। মেয়াদ উত্তীর্ণ দাবিগুলো অস্বাভাবিক হারে অনিষ্পন্ন থাকার কারণে আইন অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেয়া যাবে না তার ব্যাখা আগামী ৭ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ বরাবর দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে কোম্পানিগুলোকে। একই সঙ্গে অনিষ্পন্ন দাবি পরিশোধের বিষয়ে নেয়া পদক্ষেপও জানাতে হবে কর্তৃপক্ষ বরাবর।

গত ২ আগস্ট বীমা কোম্পানিগুলোকে এ চিঠি দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে উত্থাপিত মেয়াদোত্তীর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে বায়রা লাইফের ১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। তবে বাকি ৮২ শতাংশই অনিষ্পন্ন। গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫৭ কোটি ৪৮ লাখ দাবির মধ্যে ৮৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ অনিষ্পন্ন। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩ কোটি ৮৭ লাখ মেয়াদোত্তীর্ণ দাবির মধ্যে ৪১ শতাংশ অনিষ্পন্ন এবং দাবি পরিশোধ হয়েছে ৫৮ দশমিক ০৬ শতাংশ।

মেঘনা লাইফের মেয়াদোত্তীর্ণ দাবি ৩১০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে অনিষ্পন্ন ৫৪ শতাংশ। মেটলাইফের ৩১০ কোটি মেয়াদোত্তীর্ণ দাবির মধ্যে অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে ৫৪ শতাংশ। প্রগ্রেসিভ লাইফের ৩৯ কোটি ৩২ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ দাবির মধ্যে অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে ৬৬ শতাংশ। রূপালী লাইফের মেয়াদোত্তীর্ণ দাবির পরিমাণ ৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিশোধ হয়েছে ৭২ শতাশ এবং অপরিশোধিত অবস্থায় রয়েছে ২৭ শতাংশ। এদিকে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ দাবির পরিমাণ ২৮ কোটি ১২ লাখ টাকা।

এর মধ্যে ১৮ শতাংশ অনিষ্পন্ন। সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১১ কোটি ২৩ লাখ টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ দাবির ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ অনিষ্পন্ন। সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ দাবির পরিমাণ ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৭৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ অনিষ্পন্ন। এছাড়া ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৯৫ কোটি টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ দাবির মধ্যে ২৩ শতাংশ রয়েছে অনিষ্পন্ন অবস্থায়।