Amar Praner Bangladesh

গৌরনদীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজও সরকারীকরণ হয়নি

এস,এম,মিজান :

দক্ষিণাঞ্চলের প্রতাবশালী জমিদার মোহন লাল সাহা প্রতিষ্ঠিত জেলার গৌরনদী উপজেলার প্রাচীণতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পালরদী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি আজও সরকারীকরণ করা হয়নি। ফলে শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রমতে, ১৯৩৫ সালে জমিদার মোহন লাল সাহা পালরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর কৃতিত্ব অর্জন করে আসছে। এসএসসি ও জেএসসির ফলাফল বিবেচনায় জেলার মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি বরাবরেই সুনাম অর্জন করে আসছে। অতীতে যশোর বোর্ডের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একাধিকবার প্রথমস্থান অধিকার করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এখনও মাধ্যমিক পরীক্ষায় গৌরনদীসহ পাশ্ববর্তী উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরগুলোর মধ্যে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ এবং পাশের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে। যেকারণে প্রতিবছর ভর্তির সময় বিভিন্ন উপজেলার অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের মেধাবৃদ্ধির জন্য এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালে তৎকালীণ খুলনা বিভাগের (বর্তমান খুলনা ও বরিশাল বিভাগ মিলে) শ্রেষ্ঠ বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এ বিদ্যালয়টি নির্বাচিত হয়। জীবনের শেষপ্রান্ত পর্যন্ত এ বিদ্যালয়ে প্রধানশিক্ষক হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তৎকালীন যশোর বোর্ডের মধ্যে একমাত্র বেসিক ইংরেজী বইয়ের লেখক মহারাজ মন্ডল। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের গুরুতরপূর্ণ পদে রয়েছেন মহারাজ মন্ডলের ছাত্ররা।
সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘোষণা করার পর একনামে পালরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে মডেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরইমধ্যে ২০১২ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর একান্ত প্রচেষ্ঠায় বিদ্যালয়টিকে পালরদী মডেল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে মাধ্যমিকে ১৭ শ’ ছাত্র-ছাত্রী এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৪০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানান, শুধু শিক্ষা নয়, সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ সবক্ষেত্রেই পালরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুনাম গোটা দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে। তারা আরও জানান, সারাদেশের মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে সরকারী ঘোষণা করা হলেও আজও পালরদী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারী ঘোষণা করা হয়নি। ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠকে জরুরী ভিত্তিতে সরকারীকরণের জন্য গৌরনদীবাসী প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।