Amar Praner Bangladesh

চট্টগ্রাম নগর উন্নয়নে সুদূর প্রসারী ভূমিকা রাখছেন সিডিএ-র চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম

আকাশ ইকবাল, চট্টগ্রাম:
সাম্প্রতিক সময়ে সিডিএ’র একটি বহুল আলোচিত সেøাগান ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান উন্নয়নের মহাসড়কে চট্টগ্রাম’। যা আজ চট্টগ্রামবাসী ও সারা দেশ দেখছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানে চট্টগ্রাম নগরী উন্নয়নের মহাসড়কে বাস্তবায়ন করতে সুদূর প্রসারী ভূমিকা পালন করছেন সিডিএর (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ‘র) বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।
২০০৮ সালের ২৩ এপ্রিল আবদুচ ছালামকে সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে দুই বছর মেয়াদে নিয়োগ দেয় বর্তমান সরকার। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল পঞ্চম মেয়াদে আরো দুই বছর বাড়িয়ে টানা ৮ বছর সিডিএর চেয়ারম্যান হিসাবে কাজ করছেন আবদুচ ছালাম। এর কারণ সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম চট্টগ্রামের উন্নয়নে নিঃস্বার্থ ভাবে সুদূর প্রসারী ভুমিকা পালন করছেন।
যানজট, জলাবদ্ধতা ও পশ্চাদপদতা মুক্ত, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমৃদ্ধসহ সার্বিকভাবে চট্টগ্রামের মানুষের দুর্দশা লাঘব করাই মূলত চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের লক্ষ্য।  যানজট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সমৃদ্ধ করতে ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম সদূর প্রসারী ভুমিকা পালন করেছেন। যানজট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সমৃদ্ধ করতে মাস্টার প্ল্যান নিয়ে নগরীর বেশ কিছু এলাকা ফ্লাইওভার নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন এবং আরো ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলছে। যানজট দূর করতে ফ্লাইওভারের পাশাপাশি বিকল্প সড়ক নির্মাণ থেকে শুরু করে সড়ক সংস্কার কাজ করেছেন এবং এখনও সংস্কার চলমান।
‘২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্ব-ইচ্ছায়, স্ব-জ্ঞানে, নিজ উদ্যোগেই হঠাৎ ঘোষণা করেছিলেন, দেশ সেবার সুযোগ পেলে চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব উনি নিজ হাতে নেবেন প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা । চট্টগ্রামের উন্নয়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যে অঙ্গীকার করেছিলেন উনি তাঁর অঙ্গীকার শতভাগ বাস্তবায়ন করেছেন। সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম নিঃস্বার্থ ভাবে চট্টগ্রামের উন্নয়নে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার প্রমাণ মেলে গত কয়েক মাস আগে আগামী নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নে চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের বক্তব্যে। আবদুচ ছালাম বলেন, আমি না চাইতেই অনেক কিছু পাই। আমি সিডিএর চেয়ারম্যান হতেও চাইনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এবং পর টানা পঞ্চম মেয়াদে আমি সিডিএর চেয়ারম্যান হিসাবে আছি। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার উপর ভরসা করেন বলে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী নিজেই আমাকে এই পদে দিয়েছেন সেহেতু প্রধানমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম নগরবাসীর আস্থা রাখতে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি উন্নয়নের।

চট্টগ্রাম নগরবাসী ও দেশবাসী দেখছে ‘চট্টগ্রামে উন্নয়নের একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই চলমান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২০০৯ সাল থেকে। আজও তা চলমান আছে। যেসব প্রকল্প শেষ হয়েছে, যেসব চলমান আছে, যেসব শুরু হয়েছে বা সামনে শুরু হবে সবকিছু যদি সম্পন্ন হয়ে যায় তাহলে আগামী পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম ৫০ বছর এগিয়ে যাবে। চট্টগ্রামে এই উন্নয়নে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও  শতভাগ আন্তরিক।’ সেই আন্তরিকতা থেকেই মূলত পঞ্চম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিডিএর চেয়ারম্যান পদে তাঁকে রেখেছেন।
গত কিছু দিন আগে একটা অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি সিডিএ ও সিডিএর চেয়ারম্যান সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) প্রচুর উন্নয়ন কার্যক্রম করেছে। এমন কর্মযজ্ঞ চট্টগ্রামের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের নেতৃত্বে ক্লিন ইমেজের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সিডিএ বোর্ড আগামীতে সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম নগর বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দুই মেয়াদে চট্টগ্রামে উন্নয়নে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে গত দুই মাস আগে। অবশিষ্ট পাঁচ হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান ও প্রক্রিয়াধীন। পুরো কাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন চট্টগ্রাম  উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তার প্রত্যাশা এসব প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে চট্টগ্রাম দেশের অন্য শহর থেকে ৫০ বছর এগিয়ে থাকবে।
সিডিএর চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি কতদূর এ সম্পর্কে  সিডিএ সূত্রে জানা যায়, মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার ফ্লাইওভার, পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড, বায়েজিদ বোস্তামী রোড থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস রোড এবং ১ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বাকলিয়া এক্সেস রোড নির্মাণ, সিডিএ স্কয়ার, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের পাশে নতুন একটি আবাসন প্রকল্পসহ অন্তত ১২টি প্রকল্প এবং অনন্যা আবাসিকে দেশের সর্ববৃহৎ অ্যাপোলো হাসপাতাল ও ভারতের বিখ্যাত দিল্লি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে কিছু সম্পন্ন হয়েছে ও চলমান রয়েছে। এ ছাড়া পতেঙ্গার সমুদ্রপারে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র ও কর্ণফুলী টানেলসহ বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজও শিগগিরই শুরু হবে। বারিক বিল্ডিং থেকে লালখানবাজার ও শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ পরবর্তী সময় শুরু করা হবে।
চলমান ১২টি প্রকল্পের মধ্যে চলতি বছরই তিনটি প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। ২০১৮ সালের মধ্যে ৭টি এবং ২০১৯ সালের মধ্যে দুটি বড় প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মুরাদপুর-লালখানবাজার ফ্লাইওভার এপ্রিলে শেষ দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম চলমান প্রকল্পের সুফল ভোগ করবে।
১৯৭৫ সালের পরে কত সরকার আসলো গেলো, লোকসংখ্যা দ্বিগুণ, ত্রিগুণ হয়ে গেলো চট্টগ্রামে। এখানে বসবাসরত প্রায় ৬৫ লাখ লোকের জন্য এক লিটার পানির বন্দোবস্ত করতে পারেনি কেউ। বরং ডিপটিউবওয়েল ব্যবহার করে সর্বনাশ করেছে। কিন্তু বর্তমানে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীন রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় নির্মিত ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’  ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প পরীক্ষামূলক ভাবে চালু হয়েছে। যা চট্টগ্রামের ৭০ ভাগ মানুষের চাহিদা পুরণ করছে। দৈনিক ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করতে সক্ষম। এছাড়া প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বের কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে আরো ১৪ কোটি ৩০ লিটার পানি পরিশোধন করে নগরীতে সরবরাহ করা যাবে। এর মাধ্যমে নগরীর পানি চাহিদা শত ভাগ পূরণ করা সম্ভব হবে। ফলে চট্টগ্রামের মানুষকে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পানি নিয়ে আর হাহাকার করতে হবে না। একইভাবে মাদারবাড়িতে, বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ প্রকল্প যদি হয়ে যায় চট্টগ্রামের মানুষের অন্ধকারে থাকার কোনো সুযোগ নাই। আনোয়ারা ও মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে আগামী ৫ বছরে চট্টগ্রামের বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রাম তথা সারা দেশ এগিয়ে যাবে অর্থনৈতিকভাবে।
দেশের অর্থনৈতিক যে প্রবৃদ্ধি সেটাকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে পোর্টকে কেন্দ্র করে যার সিংহভাগ ভূমিকা পালন করবে চট্টগ্রাম। যেমন, ভিশন ঃ২০২১-এ আমাদের ৫০বিলিয়ন ডলারের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিকল্পনা রয়েছে। যেটা চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে হবে। ভিশন-২০৪১ অর্থাৎ উন্নত বিশ্বে প্রবেশ করা। উন্নত বিশ্বে প্রবেশ করলে পরে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে, যে বিশাল পরিবর্তন আসবে তার দায়িত্বও নিতে হবে চট্টগ্রামকে। একটি সাক্ষাৎ কারে বেশ কিছু দিন আগে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম এ বিষয়ে বলেন, সুতরাং সিডিএকে এসব মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উন্নয়ন প্রস্তাব পাঠাতে হয়েছে। উনি অনুমোদন দিয়েছেন। ফলে চট্টগ্রাম চারিদিকে আজ কাজ চলছে, উন্নয়নের কাজ চলছে।’
উল্লেখ্য যে, আবদুচ ছালাম পাঁচ দফায় আট বছর সিডিএর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল প্রথম মেয়াদে দুই বছরের জন্য আবদুচ ছালামকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। তিনি ওই বছরের ২৮ এপ্রিল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ২০১১ সালের ২৬ এপ্রিল দ্বিতীয় মেয়াদে দুই বছর, ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ তৃতীয় মেয়াদে এক বছর, ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল চতুর্থ মেয়াদে এক বছর এবং ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল পঞ্চম মেয়াদে দুই বছরের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আবদুচ ছালামকে।