Amar Praner Bangladesh

চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ প্রতিনিধি নির্বাচন

মনসুর-ফখরুল প্যানেল থেকে কাঁঠাল প্রতীকে সাংগঠনিক  সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছে : কামরুল ইসলাম
আকাশ ইকবাল, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে। এ বন্দর রাজনৈতিক ভাবেও সরকারী ও বিরোধী দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ১৯৯৬ সালের গণআন্দোলনে চট্টগ্রাম বন্দর একটানা ১৮ দিন বন্ধ থাকার কারণে সরকারের পতন ত্বরান্বিত হয়। পক্ষান্তরে গত আট বছর বন্দর টানা চালু থাকায় বিরোধী দলের আন্দোলনে গতি পায়নি। আগামী ২৪ আগষ্ট চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ এর প্রতিনিধি নির্বাচন। এ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে বন্দর এলাকা এখন বেশ সরগরম। চলছে বেশ প্রচার প্রচারণা। প্রার্থীদের দৌঁড় ঝাপ। ভোটারদের বাড়ছে কদর। এরকম অবস্থায় দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ মনসুর-ফখরুল প্যানেল থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলামের সাথে নির্বাচন ও বন্দরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহন করা হয়।
নিচে তার অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলো:-
প্রাণের বাংলাদেশ: আপনি কোন প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন?
কামরুল ইসলাম: মনসুর-ফখরুল প্যানেল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছি।
প্রাণের বাংলাদেশ: আপনার রাজনৈতিক কিংবা ট্রেড ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কিছু বলুন?
কামরুল ইসলাম: ছাত্রজীবনে আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ১৯৯০ সালে একাদশ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বন্দর ইস্ট কলোনী ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ১৯৯২ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। এছাড়াও ১৯৯১ সাল থেকে বন্দর থানা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলাম। ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দর এ চাকুরীতে যোগদান করি। ২০০১ সালে ভান্ডার বিভাগ জাতীয় শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করি। ২০০৫ সালে বিপুল ভোটে বন্দর জাতীয় শ্রমিক লীগের দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হই।
প্রাণের বাংলাদেশ: তাহলে কী আপনি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করেন সিবিএ প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা আছে?
কামরুল ইসলাম: হ্যাঁ। ১৯ বছর চাকুরী করার পর আমি মনে করি সিবিএ প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার জন্য যথেষ্ঠ যোগ্যতা অর্জন করেছি।
প্রাণের বাংলাদেশ: কাকে আপনার প্রতিদ্বন্ধি মনে করছেন?
কামরুল ইসলাম: আমি সবাইকে আমার যোগ্য প্রতিদ্বন্ধি মনে করি। এবং সকল প্রতিদ্বন্ধির সাথে লড়াই করার জন্য আমি প্রস্তুত রয়েছি।
প্রাণের বাংলাদেশ: কোন প্যানেলকে সিবিএ নির্বাচনে সব চেয়ে বেশি যোগ্য মনে করেন?
কামরুল ইসলাম: অবশ্যই আমি যে প্যানেল থেকে নির্বাচন করছি সেই প্যানেল অর্থ্যাৎ মনসুর- ফখরুল প্যানেলই সব চেয়ে বেশি যোগ্য বলে মনে করি। এর কারণ আছে। এখানে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে সদস্য পর্যন্ত ২৫ জনের সবাই ছাত্র রাজনীতি এবং শ্রমিক রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। তাই আমি মনে করি প্রতিনিধি নির্বাচনে যদি আমাদের প্যানেল জয়ী হয় তাহলে বন্দরের বিভিন্ন দাবী দাওয়া আদায়ের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা রাখতে পারবে। সেক্ষেত্রে এ প্যানেলই সেরা প্যানেল।
প্রাণের বাংলাদেশ: আপনার প্যানেলের বাইরে অন্য কোন প্যানেলে কি যোগ্য ব্যক্তি নাই?
কামরুল ইসলাম: আমি এই কথা বলছি না। আমাদের প্যানেলের বাইরেও কয়েক জন যোগ্য নেতা রয়েছেন। তবে তাদের অভিজ্ঞতা কম। ভোটারদের উপর শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই- তাঁরা যোগ্য দেখেই প্যানেল নির্বাচিত করবেন। কেননা আবারো যাতে মামলা মোকদ্দমা নিয়ে সিবিএ কে ব্যস্ত সময় পার করতে না হয়। সেদিক বিবেচনায় নিয়ে আমি মনে করি বন্দরের ভোটারগণ সমমনা এবং যোগ্য লোকদেরকে নির্বাচিত করবেন।
প্রাণের বাংলাদেশ: আপনারা নির্বাচিত হলে কর্মচারীদের জন্য কি কি দাবী নিয়ে কাজ করবেন?
কামরুল ইসলাম: ইতোমধ্যে আমরা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছি। সেখানে দেখবেন বিগত সময়ে এই সিবিএ অনেকগুলো দাবী আদায় করেছে। এয়াড়াও এমন কয়েকটি আর্থিক সুবিধা দিয়েছে যা কর্মচারীরা আশাই করেনি। যেমন কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সমহারে এককালীন ২০ হাজার ও ৩৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। পোশাকের পরিবর্তে কীডস এলাউন্স চালু ইত্যাদি। আমরা নির্বাচিত হলে যে দাবীগুলো নিয়ে কাজ করবো সেগুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো, ———–
প্রাণের বাংলাদেশ: আর্থিক সাহায্য ছাড়া অন্য কোন কিছু?
কামরুল ইসলাম: দেখুন, আর্থিক সংশ্লিষ্ঠতা রয়েছে- এমন দাবী দাওয়া আদায়ের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা দীর্ঘ সূত্রিতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু নেতৃত্ব যদি বিচক্ষনতার পরিচয় দিতে পারে তবে পরোক্ষভাবেও বিদ্যামান কাঠামোর মধ্য থেকে কর্মচারীদের অনেক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে।
প্রাণের বাংলাদেশ: বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলুন;-
কামরুল ইসলাম: আমার জানা মতে চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছেলে মেয়ে বন্দরের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় না পড়ে কলেজিয়েট স্কুল, ইস্পাহানী স্কুল কিংবা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে লেখা পড়া করছে। ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখা-পড়া করার খরচ অনেক। আমার বক্তব্য হলো- কেন আমাদের সন্তানরা বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়া-লেখা করবে, যেখানে আমাদের বন্দরেরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে? আমাদের অবকাঠামোগত অনেক সুযোগ সুবিধা আছে দরকার শুধু শিক্ষার মান বৃদ্ধি। আমি মনে করি সঠিক নেতৃত্ব থাকলে কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বন্দরের স্কুল কলেজগুলোকে সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারবো। সে ক্ষেত্রে আমাদের সন্তানদের বাইরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করার কথা চিন্তা করতে হবে না। ফলে শিক্ষার ব্যয় অনেক কমে যাবে। তাছাড়া বন্দরে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার যেমন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারিং কারা ক্ষেত্রে বন্দর ফান্ড থেকে একটি অনুদানের বিষয়ে চিন্তা ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া আমাদের একটি চমৎকার হাসপাতাল রয়েছে। আধুনিক সুযোগসুবিধা সম্পন্ন এই হাসপাতাল। হাসপাতালের নার্স, আয়াদের সেবার মান সন্তোষজনক হলেও ডাক্তারদের চিকিৎসার মান তেমন ভালো উন্নত নয়। এখানে কয়েকটা কাজ আছে। এর মধ্যে প্রধান কাজ হচ্ছে কয়েকজন খন্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া। যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে বাইরের কোন প্রাইভেট ডাক্তার দেখাতে না হয়। এছাড়া রোগীদেরকে ভালো কোম্পানীর ওষুধ সরবাহ করতে হবে। এই দুটো কাজ সম্পন্ন করতে পারলে চিকিৎসা ব্যয় অনেক কমে যাবে। যা তাদের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এরকম আরো অনেক দাবী আছে যেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে কর্মকর্তা কর্মচারীরা অনেক ভালো থাকতে পারবে।
প্রাণের বাংলাদেশ: এই বিষয়গুলো আপনাদের ইশতেহারে নাই কেন?
কামরুল ইসলাম: এই দাবীগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা খুব বেশি নেই। এ ক্ষেত্রে সুচিন্তিত চিন্তা ভাবনা এবং নের্তৃত্বের আন্তরিকতাই যথেষ্ঠ। এ কারণে বিষয়গুলো ইশতেহারে তোলা হয়নি।
প্রাণের বাংলাদেশ:  এবার অনেক নতুন প্রার্থী আছে। তাদের কোন ট্রেড ইউনিয়ন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা নেই। তাদের সম্পর্কে বলুন…
কামরুল ইসলাম: দেশ এগিয়েছে। শিক্ষার হার বেড়েছে। তাই অনেক শিক্ষিত ছেলে মেয়ে বন্দরের চাকুরীতে যোগদান করেছে। তাদেরকে আমরা সাধুবাত জানাই। তারা নের্তৃত্বে এগিয়ে আসলে বন্দরের কর্মচারীরা উপকৃত। কিন্তু জাতীয় রাজনীতি এবং ট্রেড ইউনিয়ন এক জিনিস নয়। এখানে আপনাকে অনেক কিছু শিখতে হবে, জানতে হবে। প্রবিধানমালা, চাকুরী বিধি সম্পর্কে যথেষ্ঠ অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে আপনি শ্রমিক নের্তৃত্ব করতে পারবেন। তাই আমি নতুনদের বলবো- আপনারা এগিয়ে আসুন, তবে তার আগে ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করুন।