চলচ্চিত্র অভিনেতা সাদেক বাচ্চু আর নেই

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চু মারা গেছেন।

সোমবার বেলা ১২টা ৫ মিনিটে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় এই অভিনেতার।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী জানান, সকাল থেকে দুইবার তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। বেলা ১২টা ৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

সাদেক বাচ্চুর মেয়ে মেহজাবিন আমার প্রাণের বাংলাদেশকে জানান, ঠাণ্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হলে গত ৭ সেপ্টেম্বর সাদেক বাচ্চুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর তার করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। অবস্থার অবনতি হলে একদিন পর তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি কোভিড ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন।

সাদেক বাচ্চুর জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে মঞ্চে, বেতারে, টিভিতে, সিনেমায়, সর্বত্র দাপুটে বিচরণ ছিল তার। নব্বই দশকে এহতেশামের ‘চাঁদনী’ সিনেমায় অভিনয়ের পর জনপ্রিয়তা পান খলনায়ক হিসেবে। এই পরিচয়েই দেশজুড়ে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে গুণী এই অভিনেতার।

১৯৬৩ সালে খেলাঘরের মাধ্যমে রেডিওতে অভিনয় শুরু করেন সাদেক বাচ্চু। তার প্রথম থিয়েটার ‘গণনাট্য পরিষদ। ’ ১৯৭২-৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যখন এদেশের সাংস্কৃতিক বলয় নতুনভাবে তৈরি হচ্ছিল, তখন যোগ দেন গ্রুপ থিয়েটারে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৯৭৪ সালে প্রথম টেলিভিশন নাটকে অভিষিক্ত হন গুণী এই অভিনেতা। ‘রামের সুমতি’র মাধ্যমে যাত্রা শুরুর পর বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

সাদেক বাচ্চুর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- জোর করে ভালোবাসা হয় না (২০১৩), জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার (২০১৩), জীবন নদীর তীরে (২০১৩), তোমার মাঝে আমি (২০১৩), ঢাকা টু বোম্বে (২০১৩), ভালোবাসা জিন্দাবাদ (২০১৩), এক জবান (২০১০), আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০), মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), বধূবরণ (২০০৮), ময়দান (২০০৭), আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭), আনন্দ অশ্রু (১৯৯৭), প্রিয়জন (১৯৯৬), সুজন সখি (১৯৯৪)।

২০১৮ সালের ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সেরা খল চরিত্রাভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন সাদেক বাচ্চু।