Amar Praner Bangladesh

চালের বাজারের পর পেঁয়াজের বাজারেও এখন আগুন !

পেঁয়াজবাজারের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। ঢাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। আর এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৪০ টাকা। চালের বাজারের পর পেঁয়াজের বাজারেও এখন আগুন। ভাবে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ায় জনজীবনে নাভিশ্বাস ওঠে যাচ্ছে। রাজধানীর প্রতিটি খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।
রোববার কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজের পাইকারি আড়ত ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চার দফায় দাম বেড়ে দেশি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। অন্যদিকে পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে দামের ব্যাপক তারতম্য লক্ষ করা গেছে। পাইকারি বাজারে দাম না বাড়লেও সংকটের কথা বলে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা।
এদিকে রোববার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবির দৈনিক বাজার দরের মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। এ সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়তে দেখা না গেলেও দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে দেখা গেছে। সেখানে দেশি পেঁয়াজের দাম দেয়া আছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগের দাম ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এক মাস আগে দাম ছিল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
ক্যাবের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, পণ্যের দাম ওঠানামা করতে পারে। পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। বর্তমানে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক বাজার সৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের হাত থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। চালের দাম বাড়ার পর পেঁয়াজের দাম বাড়ায় জনজীবনে নাভিশ্বাস ওঠে যাচ্ছে। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন করে কোনো সেল করা দরকার। তারা শুধু দর ওঠানামার বিষয়টি লক্ষ রাখবেন।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আবদুল মালিক যুগান্তরকে বলেন, দেশি পেঁয়াজের মজুদ কমে গেছে। তবে চাহিদা বেশি। অপরদিকে বন্যায় বাংলাদেশে ব্যাপক হারে শস্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর জেনে ভারতের ব্যবসায়ীরা সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। নিজ দেশে পেঁয়াজ কম উৎপাদন হয়েছে অজুহাতেও তারা দাম ছাড়ছে না। তবে কয়েকদিন পর দেশে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। তখন দাম কিছুটা কমতে পারে।
একই বাজারের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. হোসাইন আলী যুগান্তরকে বলেন, আড়তদারদের কাছ থেকে বেশি দামে পেঁয়াজ আনতে হয়। এজন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারে দাম কমলেই খুচরা বাজারে দাম কমে আসবে। ক্রেতা যুবায়ের হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ভোক্তারা। হঠাৎ করেই পণ্যর দাম তারা বাড়িয়ে দেন। তারা পেঁয়াজের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনতে সাধারণ ভোক্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করা হলে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে পারত না। আর ভোক্তাদের দুর্ভোগে পড়তে হতো না। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন। সোমবার সচিবালয়ে জরুরি বৈঠকে পেঁয়াজের দাম কমিয়ে আনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার কথা ভাবছে সরকার। জানা যায়, ভারতের বাইরে মিসর, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সভায় বলা হয়, বেশি মুনাফার আশায় অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ মজুদ করেছেন, যা দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এজন্য মজুদ পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসতে মনিটরিং ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত হয়। এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতর নিয়মিত বাজার মনিটরিং করবে।