Amar Praner Bangladesh

চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যার আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব মদসহ অনেক কিছু জব্দ 

 

 

এস এম মনির হোসেন জীবন :

 

দীর্ঘ ২৪ বছর আগে চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত বাংলা চলচ্চিত্রের চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার পলাতক ও চার্জশিটভুক্ত আসামি আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

এসময় ওই বাসা থেকে আরো দু’জন নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। পরে তাদের তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীর কু্র্মিটোয়ার র‍্যাব সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন তিন জনকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে রাজধানীর গুলশানের ২৫/বি ফিরোজা গার্ডেন নামের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

গ্রেফতার অভিযানে আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরীর ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মদ, (২৩ বোতল), বিদেশি বিয়ার ও সিসা সহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষে রাতে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান,
মঙ্গলবার রাতে রাজধানী গুলশানের ২৫/বি ফিরোজা গার্ডেন নামের একটি বাসা ঘিরে রাখা হয়। ওই বাসায় চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার পলাতক ও চার্জশিটভুক্ত আসামি আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানতে পারি। এরপর সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে ওই বাসা থেকে আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার সাথে আরো দু’ নারীকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, গত ২৮ মার্চ নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আশিষ চৌধুরী মিরপুরের ডিওএইচএসের নিজ বাসা ছেড়ে গুলশানের ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। এরপর গত ৩০ মার্চ থেকে এই বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

খন্দকার আল মঈন জানান, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের র‍্যাব সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগামীকাল বুধবার প্রেসব্রিফিংয়ে মাধ্যমে জানানো হবে।

হত্যা মামলায় অভিযোগ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে সোহেল চৌধুরীর কথা-কাটাকাটি হয়। এর প্রতিশোধ নিতে সোহেল চৌধুরীকে হত্যা করা হয়। ঘটনার রাতে সোহেল তার বন্ধুদের নিয়ে ট্রাম্পস ক্লাবে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় ভেতরে ঢুকতে তাকে বাধা দেওয়া হয়। রাত আড়াইটার দিকে আবারও তিনি ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন সোহেলকে লক্ষ্য করে ইমন, মামুন, লিটন, ফারুক ও আদনান গুলি চালান। আসামিদের মধ্যে আদনান খুনের পরপরই ধরা পড়েছিলেন।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীতে ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় তার ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। সোহেল চৌধুরী নিহত হওয়ার পরপরই এই হত্যাকাণ্ডে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ নয়জনের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল কাশেম ব্যাপারী ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

এ মামলায় কারাগারে আছেন তারিক সাঈদ মামুন ও হারুন অর রশীদ। আর এখনও পলাতক রয়েছেন আসামি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশিষ রায় চৌধুরী, সানজিদুল হাসান ইমন ও সেলিম খান। অবশেষে দীর্ঘ ২৪ বছর পর পলাতক (আত্নগোপন) ছিলেন আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানে নামের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন সোহেল চৌধুরী। ওই একই প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন তার স্ত্রী দিতিও।