Amar Praner Bangladesh

চেক-ডিজঅনার মামলায় জেলে পাঠানো সংবিধান পরিপন্থী: হাইকোর্ট

 

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্কঃ

 

চেক-ডিজঅনার (এনআই অ্যাক্ট) মামলায় কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো সংবিধান পরিপন্থী বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, এটি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

চেক-ডিজঅনার সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা নিষ্পত্তি করে রোববার বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেয়।

রায়ে বিচারক বলেন, নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের চেক-ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলায় কোনো ব্যক্তিকে জেলে বন্দি রাখা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরনের নামান্তর।

এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা সংশোধন করে চেক-ডিজঅনার মামলায় জেলে পাঠানোর বিধান বাতিল করার জন্য জাতীয় সংসদকে পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট।

পাশাপাশি নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত চেক-ডিজঅনারের মামলা নিষ্পত্তির জন্য একটি গাইডলাইন দিয়েছেন বিচারক।

চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত ওই কোর্টে থাকা ৫ টি মামলা নিষ্পত্তি করে এ রায় দেয় আদালত। এরমধ্যে এক মামলার আইনজীবী তানভীর আহমেদ প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, আজকে শুনানি শেষে আদালত আমাদের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। এসময় আদালত চেক ডিজ অনার সংক্রান্ত এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় সংশোধনের কথা বলেছেন।

আদালত উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে বলেছে, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চেক-ডিজঅনার মামলায় জেলে পাঠানোর বিধান নেই। এসব দেশে চেক-ডিজঅনার মামলাগুলোকে দেওয়ানি প্রকৃতির মামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনে ১৯৯৪ সালে প্যানাল কোড সংযোজনের মাধ্যমে এটিকে আধা-ফৌজদারি হিসেবে পরিণত করা হয়েছে।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, কন্ট্রাকচুয়াল অফ নেগোসিয়েশন বা চুক্তিগত দায়-দায়িত্ব পূরণে ব্যর্থতার জন্য কোনো ব্যক্তিকে জেলে বন্দি রাখা যাবে না। চুক্তিগত দায়-দায়িত্ব পূরণে ব্যর্থতার জন্য যদি কারাগারে পাঠানো হয় তাহলে অচিরেই বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ কারাগারে চলে যাবে। এটা কারও কাম্য নয়।

আদালত মনে করে, নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারা দ্রুত সংশোধন করে জেলে পাঠানোর বিধান বাতিল করা আবশ্যক। জাতীয় সংসদ অতি দ্রুত নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারা সংশোধন করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

আদালত আরও বলেছে, জাতীয় সংসদ যতদিন ১৩৮ ধারা সংশোধন না করে বা সংশোধনী না আনে ততদিন পর্যন্ত নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারার আওতায় চেক-ডিজঅনার মামলা আপসযোগ্য হবে। চেক-ডিজঅনার মামলা বিচারের এখতিয়ারসম্পন্ন দেশের সব আদালতে সাজার পরিবর্তে তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে। আদালত এই রায়ের অনুলিপি দেশের সব আদালত ও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত ওই কোর্টে থাকা ৫ টি মামলা নিষ্পত্তি করে এ রায় দেয় আদালত। এরমধ্যে এক মামলার আইনজীবী তানভীর আহমেদ প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, আজকে শুনানি শেষে আদালত আমাদের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। এসময় আদালত চেক ডিজ অনার সংক্রান্ত এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় সংশোধনের কথা বলেছেন।