সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
তিন দিনের সফরে ঢাকায় বেলজিয়ামের রানি ভূমিকম্প: তুরস্কে ও সিরিয়ায় নিহত ৫ শতাধিক উত্তরা বিজিবি মার্কেট এখন আর ডালভাত কর্মসূচিতে নেই মন্দিরে মূর্তির পায়ে এ্যাড. রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী’র সেজদা প্রতিবাদে নির্যাতন ও মামলার শিকার মোঃ জলিল রৌমারীতে অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির অফিস উদ্বোধন যুবলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় কল্যাণপুরে আবাসিক হোটেলে রমরমা দেহব্যবসা তিতাসের অসাধু কর্মকর্তাদের আতাতে লাইন কাটার নামে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের সাথে ব্ল্যাকমেইলিং করছে প্রতারক চক্র রাজধানীর উত্তরখান থেকে ড্যান্ডি পার্টির ১৬ সদস্য গ্রেপ্তার দেশে গুপ্ত লিখন বিদ্যাকে ব্যবহার করে জঙ্গী ও মাদক কার্যক্রম প্রসারিত হচ্ছে দক্ষিণখানে নির্মাণাধীন ৯ তলা ভবন থেকে পড়ে রাজমিস্ত্রি নিহত : আহত-১

ছাত্রলীগ প্রশ্নে সিন্ডিকেটের ‘গোপন‘ বৈঠক, বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৪ মে, ২০১৮
  • ২৩ Time View

অনলাইন ডেস্ক:

  ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে পদে বসাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বিশেষ একটি সিন্ডিকেট। বৃহস্পতিবার (১ মে) রাতে রাজধানীর অভিজাত একটি হোটেলে ওই সিন্ডিকেটের ১১ সদস্য রাত আড়াইটা পর্যন্ত বৈঠকও করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘গোপন‘ বৈঠকের বিষয়টি জানতে পেরে ওই সিন্ডিকেটের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বলে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র প্রাণের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত এক সহকারীর মাধ্যমে ওই সিন্ডিকেটের প্রতি ‘বিশেষ বার্তা’ও পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে এ বিষয়ে সিন্ডিকেটের কোনো নেতা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না।

দলীয় সূত্রটি জানিয়েছে, ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির দুই নেতা, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ছাত্রলীগের প্রভাবশালী সাবেক এক সভাপতি, ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের প্রথমসারির এক নেতা, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একজন প্রটৌকল অফিসারসহ ১১ জন ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে নেতা নির্বাচনের এজেন্ডা নিয়ে আলোচনার জন্য সিন্ডিকেট সদস্যরা সন্ধ্যার পর একে একে ওই অভিজাত হোটেল যান এবং রাত আড়াইটা পর্যন্ত বৈঠক করেন।

বৈঠকের বিষয়টি জানতে পেরে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জবাবে ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বিষয়টি তিনি খোঁজ-খবর নিয়ে জানাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় বলেন, ‘রাত আড়াইটা পর্যন্ত তারা বৈঠক করলে দলের কাজ করবে কখন?’

শেখ হাসিনা পরে তার বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবহান গোলাপের মাধ্যমে ওই সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছে বিশেষ বার্তা পৌঁছান। বিশেষ এ বার্তা হচ্ছে, ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেট যেন দৌড়ঝাঁপ না করে, দৌড়ঝাঁপ করে কোনো ফায়দা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ বার্তায় আরও বলেন, হোটেলে হোটেলে মিটিং না করে তারা যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীদের তালিকা দেন। শেখ হাসিনার এমন বিশেষ বার্তায় মহাভাবনায় পড়েছেন সিন্ডিকেট খ্যাতরা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবহান গোলাপের মুঠোফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি এসএমএস পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন ১১ ও ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে।

২০১৫ সালের ২৬ ও ২৭ জুলাই ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে দুই বছর মেয়াদে সাইফুর রহমান সোহাগকে সভাপতি ও এস এম জাকির হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হয়।

প্রথম দফায় চলতি বছরের ৩১ মার্চ সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়। দ্বিতীয় দফায় ১১ ও ১২মে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়।

এরইমধ্যে সভাপতি-সাধারণ পদে আগ্রহীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের আহ্বান করা হয়েছে। সম্মেলন সফলভাবে অনুষ্ঠিতে লক্ষ্যেও বিভিন্ন উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সংগঠন থেকে বিদায় লগ্নে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিভিন্ন শাখা কমিটি দেওয়ারও নজির স্থাপন করছে সোহাগ-জাকির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়াও করছেন সংগঠনের বর্তমানসহ সাবেক নেতারা। আবার আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত সময় পার করছেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীরা।

অনেকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে সকাল-বিকেল রাতে ধানমণ্ডিতে সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে ‍শুরু করে নেতাদের দ্বারে দ্বারে দৌড়ঝাঁপ করছেন। মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ‘সকাল-বিকাল-রাত’ এই ত্রি-বেলা ধানমন্ডিতে সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে শুরু করে নেতাদের দ্বারে দ্বারে দৌড়ঝাঁপ করছে। আর দীর্ঘ বিশেষ সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের পছন্দের অনুসারীদের শীর্ষ নেতৃত্বে আনতে তৎপর হয়ে উঠেছে। এদিকে সাংগঠনিক নেতৃত্বের অযোগ্যতায় দলীয় ঘরানায় ‘নাবালক নেতা’ হিসেবে খ্যাত হয়েছে বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

এ কারণে বিশেষ বার্তা দিয়ে ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের সম্মেলনের শীর্ষ পদগুলোতে যোগ্যতা, মেধা ও জন্মসূত্রে আওয়ামী ঘরের শিক্ষার্থীদের থেকে নেতা নির্বাচনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলনে নেতা নির্বাচনের বিষয় ২ মে গণভবনে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগের কনফারেন্স যেভাবে হয়, হবে। আমাদের একটা নিয়ম আছে। ইতোমধ্যে কে কে প্রার্থী, তাদের কাছ থেকে প্রস্তাব এসেছে এবং ফরম ছাড়া হয়ে গেছে। সবাইকে নিয়ে বসা হয়। সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। সমঝোতা না হলে ভোট হয়। সমঝোতা করে হবে বা আলোচনা করে হবে- এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। আর যদি সমঝোতায় না হয়, তাহলে ভোট হবে। ভোটের আবার কিছু ভালো দিক আছে, মন্দ দিকও আছে। এটাও দেখতে হবে। আমরা চাই উপযুক্ত নেতৃত্ব ও ছাত্র। বয়সসীমা বেঁধে দেওয়া আছে। বয়সসীমার মধ্যে যারা সত্যিকারের ছাত্র, যারা মেধাবী, তারা যেন নেতৃত্বে আসে, সেটাই আমরা চাই। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কাজ করব।’

আর ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে ঢেলে সাজানো হবে জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি ২০ এপ্রিল রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিটউট মিলনায়তনে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সেমিনারে বলেন,‘ছাত্রলীগকে নিয়ে আমরা নতুন করে ভাবছি। আমাদের  ছাত্রলীগের সম্মেলন আছে আপনারা জানেন। সেই সম্মেলনে আমরা নেতৃত্বের গঠনের দিক দিয়েৃ এবং ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে কাজ করার একটা নির্দেশনা নেত্রীর আছে, আমরা সেই দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

এদিকে ৩০ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এক অনির্ধারিত সভায় ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলনের সম্মেলনের সর্বশেষ প্রস্তুতি জানতে চেয়ে উপস্থিত নেতাদের সামনে আসন্ন সম্মেলনে কিছু ক্রাইটেরিয়া দেখে নেতা নির্বাচনের বার্তা দেন। আর সর্বশেষ ৩ এপ্রিল রাতেও গণভবনে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেন ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও বিশেষ এই সিন্ডিকেটের বাইরেও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান কেন্দ্রীয় আওয়ামী নেতাদের নেতৃত্বে আরেকটি বলয়ও সক্রিয় আছে। আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে উভয় বলয়ই প্রকাশ্যে-অপপ্রকাশ্যে সক্রিয় রয়েছে।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত ২৬ জুলাই ২০১৭ সালে বর্তমান কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হয়। গঠনতন্ত্রে বয়সসীমা ২৭ থাকলেও বিগত তিনটি কমিটির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দুই বছর বাড়িয়ে ২৯ বছর করে দিয়েছিলেন। এবারও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে কয়েকমাস অতিক্রমের ফলে আসন্ন সম্মেলনেও বয়সসীমার বিষয়টি শিথিল হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানায়।

সূত্র:সারাবাংলা.নেট

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category