Amar Praner Bangladesh

ছুটির দিনে পদ্মাসেতু দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

 

 

মোঃ মিরাজ মোল্যা :

 

স্বপ্নের পদ্মা সেতু অধিকাংশ মানুষের কাছেই আনন্দের-গৌরবের অনেকের কাছেই এটি কেবল পদ্মার এপার-ওপার চলাচলের সেতু নয়, বরং কোটি মানুষের স্বপ্নের সেতুবন্ধন রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার এ উন্নয়নের সঙ্গে শিল্প-বাণিজ্য ও পর্যটনের প্রসারের সম্ভাবনাও ব্যাপকভাবে হাতছানি দিচ্ছে। স্বপ্নের সেতুটি সামনে থেকে দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদারীপুর শিবচরের কাঠালবাড়ি ও মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় ভিড় করেন অনেকে। পদ্মা সেতু কাছ থেকে দেখে, ছবি তুলে আনন্দে ভেসেছেন তাঁরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধূসর রঙের স্বপ্নের সেতুর অদূরে নদীতীরে শিশু থেকে বৃদ্ধ নারী-পুরুষ শত শত দর্শনার্থীর ঢল। দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহনে করে আসছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে এসেছেন স্বপ্নের সেতুটি একনজর দেখতে। যদিও উদ্ধোধনের আগে ও নিরাপত্তা স্বার্থে নির্মাণাধীন সেতুর মূল কাঠামো ও নির্ধারিত এলাকায় দর্শার্থীদের প্রবেশের সুযোগ নেই, তারপরও সেতু দেখতে নদী পাড়েই ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। নিজ চোখে সেতুর দেখার সঙ্গে ফোনে তুলছেন সেতুর ছবি, কেউবা সেলফি তুলছেন।

ভাড়ায়চালিত ট্রলারযোগে নদীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ। কেউ আবার শুধুই পদ্মা সেতু ক্যামেরাবন্দী করছিলেন। পদ্মা নদীর পাড় ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করতেও দেখা গেছে অনেককে। ট্রলার ও স্পিডবোটে করে পদ্মা সেতুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তেও যেতে দেখা গেছে অনেক দর্শনার্থীকে।

দর্শনার্থী রুহুল আমিন বলেন, অফিসের বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততার কারনে স্বস্তি নিয়ে ঘুরতে বের হতে পারিনি। আজ শনিবার ছুটির দিন। তাই নদীর নির্মল-স্নিগ্ধ বাতাস উপভোগের জন্য স্বপ্নের পদ্মার সেতু কাছ থেকে দেখতে এসেছি। এতদিন টিভিতে দেখেছি। এবার বাস্তবে দেখলাম পদ্মা সেতু। নয়ন জুড়িয়ে গেলো।

আয়শা মুনি নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, তাঁর বাড়ি বরিশাল। তবে থাকেন মাদারীপুর কালকিনি শ্বশুরবাড়িতে। পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ার পর সেতুটি দেখতে তর সইছিল না তাঁর। তাই সকালেই স্বামীর সঙ্গে সেতু দেখতে চলে এসেছেন। মুচকি হেসে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন পর এ সেতু দিয়েই বাড়ি যাব।’

ট্রলার দিয়ে ঘুরে সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে মাওয়া প্রান্ত পর্যন্ত পুরো সেতু দেখছেন বরিশাল গৌরনদীর বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সেতুর পিলার, স্প্যান ও গভীর পদ্মা কাছ থেকে দেখলাম। যে আনন্দ অনুভব করছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। বিকেল পর্যন্ত এখানেই থাকব। রাতে মাওয়ায় ইলিশ খেয়ে বাড়ি ফিরব।’

ফরিপুর জেলার বেসরকারি চাকরিজীবী আঃ রহমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে গেছেন পদ্মার পাড়ে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু আমার কাছে অনেক আবেগেরএ সেতু স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সক্ষমতার সাক্ষ্য।বিশ্ব মানচিত্রে নিজেকে চেনাবার অনন্য নজির হয়ে থাকবে এই সেতু।

পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হলে বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও ভোলা থেকে ঢাকায় যেতে সময় কমে যাবে প্রায় দেড় থেকে ২ ঘণ্টা। আর যাত্রীসেবার মানও বাড়বে কয়েকগুণ।

বাস চালক বশির উদ্দিন বলেন, ফরিদপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা পদ্মা নদীর কারণে ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন। এবার পদ্মা সেতু চালু হলে সরাসরি বাস চলাচল বাড়বে। এতে সময় অনেক কম লাগবে।

ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানের মালিক জসিম মিয়া জানান, মাওয়া মৎস্য আড়ত অংশ দিয়ে খুব ভালোভাবে পদ্মা সেতু দেখা যায়। এর জন্য এখানে অনেকে ভিড় করেন। খাবারের কোনো দোকান এখানে না থাকায় একটি ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেচাকেনাও ভালোই হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুটি আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন হচ্ছে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সেতু উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতলা সেতুর নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন আর ওপর দিয়ে সড়ক পথে চলবে যানবাহন। ইতিমধ্যে পদ্মা সেতু পারাপারের জন্য টোলের হার নির্ধারণ করেছে সরকার।