Amar Praner Bangladesh

জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ভোলায় বিএনপি’র হরতাল প্রত্যাহার

 

 

বরিশাল প্রতিনিধিঃ

 

ভোলা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরে আলমের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আধাবেলা পালনের পর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ভোলা জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন দলটির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় ১৩ নেতার উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় এ হরতাল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, জনগণ বিএনপির হরতাল সমর্থন করে সফল করেছেন। আমরা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে হরতাল প্রত্যাহার করছি।

এ দিকে হরতাল সমর্থনে ভোর থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ভোলা শহরের বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল করেন। ভোলা সদর রোডের কালীনাথ বাজার এলাকায় দলীয় কর্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন নেতা-কর্মীরা।

অপর দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বৃহস্পতিবারের হরতালের বিপক্ষে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে সদর রোড এলাকায় দোকানপাট খোলেনি। দু-একটি রিকশা চলতে দেখা যায়। ভোরে বৃষ্টি হওয়ায় ওই সময় রাস্তায় নামতে পারেনি তারা। পরে বৃষ্টি কমে গেলে রাস্তায় অবস্থান করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর আগে তারা রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে স্লোগান দেন তারা।

ঢাকা থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৩ জনের একটি টিম ভোলায় পৌঁছান। তারা আজ নিহতদের বাড়ি যাবেন। এ ছাড়া গত রোববারের সংঘর্ষে অভিযুক্তদের বিষয় অনুসন্ধান করবেন বলেও জানান জেলা বিএনপি সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর।

এর আগে বুধবার বেলা ৩টা ১০ মিনিটে রাজধানীর গ্রিন রোডের কমফোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান নুরে আলম।

প্রসঙ্গত, গত রোববার বেলা ১১টার দিকে ভোলায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় বিক্ষোভ কর্মসূচির শুরুতে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং এতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আব্দুর রহিম মারা যান ও ৩০ জন আহত হন। আব্দুর রহিম সদর উপজেলার দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।