জামালপুর মেলান্দহে উদ্বোধনের একমাস পরেই রাস্তাসহ ভেঙে গেল কালভার্ট

 

(এলাকাবাসীর অভিযোগ কাজ করা হয়েছে নিম্ন মানের, কালভার্টটি সহ রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পুঠিয়াপাড়া, পোড়ার চর নোয়াপাড়ার তিন গ্রামের মানুষ। সংস্কারের নাম নেই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা চাপাবাজিতে ওস্তাদ, এমনটাই দাবী গ্রামবাসীর)

 

 

মোমিনুল ইসলাম, জামালপুর থেকে :

 

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়ন এর পুঠিয়া পাড়া এলাকায় পুঠিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংযোগ সড়ক আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন রাস্তাটি ও বক্স কালভার্ট ভেঙ্গে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তিন গ্রামের মানুষ।

মেলান্দহ উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে,পুঠিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংযোগ সড়ক আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন ০০.৩৬১ মিটার,প্যাকেজ নং গজ জওউচ/১৮ ঔঅগ/গঅখঅ/ঝঈজ/৫০ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম- বন্যা এন্টারপ্রাইজ, প্রোপাইটার মোঃ ইমান আলী। প্রাক্কলিত মূল্য ১ কোটি ৭৫ লাখ ১ হাজার ৬২১ টাকা।

চুক্তি মূল্য ১ কোটি ৪৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫০ টাকা ৯০ পয়সা। কার্যাদেশ ১১/০২/১৯ ইং কাজ শেষ করা হয় ১০/০২/২০ ইং। স্থানীয় ও এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তাসহ কালভার্ট নির্মাণ এর সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ নিম্নমানের করার কারণে প্রতিবাদ করেছিল এলাকার যুবকরা।

প্রতিবাদ করলেও কোনো লাভ হয়নি তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করে চলে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।পুঠিয়াপাড়া গ্রামের ফজল(৬০) জানান, আমাদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই কালভার্টটি উদ্বোধন করার এক মাস পর ভেঙে গেল তারপর আর কেউ খোঁজ নেয়নি একই গ্রামের রমজান(৪০ )রেজাউল(৩৮) সাইফুল ইসলাম (৬০)সহ আরও কয়েকজন এ প্রতিবেদককে জানান, আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই আমাদের গ্রামে যাতায়াতের রাস্তা গুলো চলাচলের অনুপযোগী আমাদের গ্রামে আসতে একটা ব্রিজ করে দিলেও নির্মাণের পরপরই ভেঙে যাওয়ায় আমরা তার সুফল পায়নি।

আমাদের উৎপাদিত কৃষি ফসল বাড়িতে আনা-নেওয়া সহ বাজারে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া যায় না। আমাদের ছেলে মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হলেও রাস্তার কারণে বিয়ে ভেঙে যায়। মুমূর্ষ রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া যায় না।

আমাদের গ্রাম থেকে হাট বাজারে যেতে চাইলে একপাশে খেওয়া দিয়ে পার হতে হয়। আমাদের এমপি মির্জা আজমের প্রচেষ্টায় কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও উদ্বোধনের একমাস পরেই ভেঙে গিয়ে দূর্ভোগে পড়েছি আমরা। অথচ কালভার্ট নির্মাণ করায় মনে করেছিলাম আমাদের দুর্ভোগ লাঘব হলো। কালভার্ট এবং রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় পর আর কেউ খোঁজ নিতে আসেনি।

মেলান্দহ উপজেলা প্রকৌশলী মাজেদুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ কে জানান, রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণ এরপর বন্যা হয়, পানির স্রোতে নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে রাস্তাসহ কালভার্টটি দেবে গেছে,আবার বাজেট হলে সংস্কার করা হবে। অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মেলান্দহ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী এসএম সুজাউদ্দৌলার গাফিলতির কারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ করছে।

গোপন সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুজাউদ্দৌলা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আঁতাত করে উপজেলার প্রত্যেকটি কাজের গুণগত মান খারাপ করেছে।

মেলান্দহ উপজেলার রাস্তাসহ ব্রিজ- বক্স কালভার্ট অনিয়মের চিত্র দেখতে চোখ রাখুন দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকায়। দ্বিতীয় পর্বে থাকবে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুজাউদ্দৌলার অনিয়ম-দুর্নীতির অন্য কোন প্রতিবেদন।