Amar Praner Bangladesh

জীবন যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি সেঞ্চুরিয়ান পিপরি খাতুনের

মাসুদ মোশাররফ, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ বাবা- মা নাম রেখেছিলেন নুরজাহান। পরবর্তীতে তিনি পিপরি খাতুন নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। যৌবনেই গুটি বসন্তে হারিয়ে ফেলেন একটি চোখ। বিয়ে হয়েছিল মামাতো ভাই আব্দুল জব্বার ওরফে ফেলুর সাথে সেও অনেক আগে। সেই সুখও বেশীদিন কপালে সয়নি তার। পিপরি খাতুন এর ভাষায় ‘ তহন দ্যাশে খুব আহাল, হেই সময় হে বিদ্যাশে ধান কাটপার যায়, ওই হানেই মইরা গ্যাছে আর আসে নাই’। তখন তিন সন্তানের জননী এই পিপরি খাতুন। ভয়াবহ দুঃখ নেমে আসে তার উপর। ১৯৪৩ সাল । ঘোর আকাল । চারদিকে হা করা ক্ষুধা। সেই সময় স্বামীর মৃত্যু পিপরি খাতুন কে ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি করে। জমি নাই খাবার নাই স্বামীর মৃত্যু সব কিছু মিলে তিন সন্তান আজিজুল, জয়দার ও ছানোয়ার কে নিয়ে দুঃখের অথৈ সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকে পিপরি খাতুন। কোন রকম চেয়ে চিন্তে খেয়ে না খেয়ে থেমে থেমে চলে জীবন। তারপরতো এ উপমহাদেশে ঘটে গেছে অভাবনীয় ঘটনা। বৃটিশ আমল পাকিস্তানি শাষন সব শেষে স্বাধীন বাংলাদেশ। কত পরিবর্তন হয়েছে সময়ের। কিন্তু কোন পরিবর্তন আসেনি পিপরি খাতুনের জীবনে। বয়স ১০০ পার করেছেন। বেঁচে থাকার জন্য প্রাণপন যুদ্ধ করে যাচ্ছেন আজও। থেমে যাওয়ার শঙ্কা তার মধ্যে বিন্দু মাত্র নেই। জীবন যুদ্ধে অপরাজেয় এই সৈনিক মুক্তিযুদ্ধেও পরিচয় দিয়েছেন নিজের সাহসিকতার। এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা আজম, আব্দুল হাই, শমসের সহ বেশ কয়েকজনকে নিজের সন্তানের মতো ভালবেসে আশ্রয় দিয়েছিলেন তার বাড়িতে। যখন রাজাকার আর পাকিস্তানি বাহিনী খুজতে আসে মুক্তিযোদ্ধাদের তখন রান্না ঘরের লাকড়ির নীচে হাতিয়ার লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। বিধবা পিপরি খাতুনের যখন নিজেরই অভাব চরমে তখন মুক্তিযোদ্ধাদের খাইয়েছিলেন যতœ সহকারে। পিপরি খাতুন কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, “ পনের দিনের মতো আছিলো ওরা, আলু বর্তা আর ডাইল দিয়া খাওয়াইছি। আমাগরে মুন্নু ( গোলাম মওলা আজম ) গোস্ত আইনচে হেতা নাইদা খাওয়াচি ওগারে।” ১০০শ বছর পার করা পিপরি খাতুনের জীবন যুদ্ধ শেষ হয়নি আজও। এখনো তিনি একা একা রান্না করে খান। জীবনের শেষ পর্যায় এসে বেঁচে থাকার তাগিদে এ বাড়ী ওবাড়ী থেকে চাল ডালের জন্য হাত পাততে হচ্ছে তাকে। এখন এই শেষ বয়সে তার চাওয়া যদি সরকার এককালীন তাকে সহযোগীতা করে তাহলে বাকী জীবনটা সংকটহীন কাটাতে পারবেন।