Amar Praner Bangladesh

জুয়েলের হত্যাকারীদের হুংকার আমরাই তাকে হত্যা করেছি আমাদের ক্ষমতা অনেক প্রশাসন আমাদের পকেটে রাখি

 

(আসামীরা বলে বেড়ায় একটা কেন এরকম দশটা খুন করলেও আমাদের কিছু হবেনা! আমাদের আইন জানা আছে। সাংবাদিকরাও লিখে আমাদের কিছু করতে পারবেনা। হাত কাটার দৃশ্য দেখে কোন সাংবাদিক আমাদের বিরুদ্ধে কলম ধরতে সাহস করবেনা।)

 

মোহাম্মদ মাহবুব আলম :

 

মানুষের জীবন এখন কুকুর বিড়ালের চেয়েও মূল্যহীন হয়ে উঠেছে। স্বার্থের ধুম্রজালে প্রতিপক্ষ রক্তের পিপাসু হয়ে হায়নার মতো ঝাপিয়ে পড়ছে তার ক্ষমতা জাহিল করার ঘৃণ্য প্রয়াসে। একটি জীবন, একটি পরিবার, তাদের স্বপ্ন নিমিষেই শেষ করে দিচ্ছে খুনিরা। জুয়েলের ছিল একটি হাসি খুশি জীবন, পরিবারের শান্তি প্রতিষ্ঠায় যিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদুর প্রবাসে।

প্রবাসী জুয়েল মিয়ার হত্যাকারী আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে, ভয়ে-আতঙ্কে দিনপার করছে জুয়েলের পরিবার। জুয়েল হত্যা হওয়ার পর স্থানীয় ও দৈনিক পত্রিকায় যেসব সাংবাদিক আসামীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছে তাদেরকে নিয়মিত হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে জুয়েল হত্যাকারী আসামীরা। জুয়েলকে হত্যা করার পর জুয়েলের আপন বড় ভাই মামলার বাদী সোহেলের জীবন এখন বিশাল সংকটের মধ্যে।

যেকোন মুহুর্তে তাকে সহ তার পরিবারকে হত্যা করতে পারে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা জুয়েলের কাছে চাঁদা দাবী করেছিল, জুয়েল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, চাঁদার প্রতিবাদ করলে তাকে নিঃশংসভাবে গুলি করে, কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। শুধু হত্যা করে ক্ষ্যান্ত হয়নি খুনির দলেরা, তারা জুয়েলের একটি হাত কেটে জানোয়ারের মতো উল্লাস করে দেশ ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে হুংকার দেয় আমরাই জুয়েলকে হত্যা করেছি। আমাদের টাকার কাছে জুয়েলের জীবন কিছুই না।

প্রশাসন আমরা পকেটে রাখি। আইন আমাদের হাতের মুঠোয় থাকে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকতে হলে আমাদের মতো শক্তিশালী ক্ষমতাধর লোকদের পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, দেশের সকল মানুষ সমান বিচার পাবে, তার নীতি কথা গুলো এসব খুনি সন্ত্রাসীদের কাছে কাঁচের পাত্রে রাখা মৃত ফসিলের মতো। সূত্রে জানা যায়, গত ০৭/০৪/২০২১ ইং তারিখে রাত আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টা সময় আসামীরা প্রবাসী জুয়েলকে তার মুদি দোকান থেকে ডেকে পার্শ্ববর্তী সোনা মিয়ার খালি জায়গাতে নিয়ে যায়, মদনপুর আন্দিরপাড় গ্রামের সাহারা গার্ডেন রোডে জনৈক সোনা মিয়ার খালি জায়গায় আলীম গংরা সংঘবদ্ধ হয়ে গুলি করে জুয়েল মিয়াকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়।

মামলার বিবরণে আরো জানা যায়, জুয়েল মিয়ার পেটে গুলি করে, চাপাতি দিয়ে জুয়েল মিয়ার বাম হাত কেটে নিয়ে যায়, যা শরীর থেকে একবারে বিচ্ছিন্ন। রাম দা দিয়ে দু’পায়ের রগ কেটে ফেলে। সংঘবদ্ধ আসামীরা মিলে তার পুরো শরীরে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

জুয়েল মিয়ার পক্ষে বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সোহেল মিয়া, মামলা নং- ১০, তাং- ০৮/০৪/২০২১ ইং, ধারা ৩০২/৩৪। আসামীরা হলো ১) মোঃ আলীম (৪০), পিতা- মৃত তোতা মিয়া, গ্রাম- আন্দিরপাড় সাহারা গার্ডেন, ২) টিটু মিয়া (৪২), পিতা- নূর মিয়া, গ্রাম- মুরাদপুর, ৩) শাহজালাল (৫২), পিতা- মৃত মুসলেম মিয়া, গ্রাম- আন্দিরপাড় হেদায়েতপাড়া, ৪) মোঃ সেলিম মিয়া (৪৫), পিতা- মৃত তোতা মিয়া, গ্রাম- আন্দিরপাড়, ৫) মোঃ ইলিয়াস (৩৯), পিতা- মৃত আব্দুল কাশেম, গ্রাম- আন্দিরপাড়, ৬) ডালিম (৪৩), পিতা- মৃত সোনা মিয়া, গ্রাম- আন্দিরপাড়, ৭) মোঃ মহসিন (৩৫), পিতা- মোঃ নূর মিয়া, গ্রাম- আন্দিরপাড়, ৮) মোঃ রাসেল (৩২), পিতা- আলীম মিয়া, গ্রাম- আন্দিরপাড়, সর্বথানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, অজ্ঞাত আরো ২-৩ জন সহ উক্ত আসামীগণ এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, মামলাবাজ, জুলুম বাজ, প্রভাবশালী এই চক্রটি সবসময় নিরিহ মানুষের জমি দখল ও আত্মসাৎ, মানবপাচার, চোরাকারবারী, খুন করা, তাদের নিত্যদিনের কাজ, এলাকার সূত্রে জানা যায় আসামীদের খুঁটির জোর কোথায়? তাদের পরিচয় কী? নিঃশংসভাবে জুয়েলের মতো প্রবাসী ও রেমিটেন্স যোদ্ধাকে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করলো অথচ আসামীরা দিন দুপুরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আসামীরা বলে বেড়ায় একটা কেন এরকম দশটা খুন করলেও আমাদের কিছু হবেনা! আমাদের আইন জানা আছে। সাংবাদিকরাও লিখে আমাদের কিছু করতে পারবেনা। হাত কাটার দৃশ্য দেখে কোন সাংবাদিক আমাদের বিরুদ্ধে কলম ধরতে সাহস করবেনা। এর আগে যারা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেছে তারা প্রত্যেকেই জেল হাজত খাটছে এবং এখনো অনেকেই মামলায় ঝুলছে। ইতিমধ্যে যেসব পত্রিকায় জুয়েলের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে এবং মানবন্ধন হয়েছে গত ০৭ জুন ২০২১ ইং তারিখে (দৈনিক উজ্জীবিত বাংলাদেশ) পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ শিরোনাম- জুয়ের হত্যার প্রতিবাদে মানবন্ধন, গত ০৩ জুন ২০২১ ইং তারিখে (দৈনিক আগামীর সময়) পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ শিরোনাম- নারায়ণগঞ্জ বন্দরের আলীমগংরা জুয়েল মিয়াকে হত্যা করেছে : থানায় অভিযোগ, গত ১১ এপ্রিল ২০২১ ইং তারিখে (স্থানীয় অগ্রবাণী প্রতিদিন) পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ শিরোনাম- প্রবাসী জুয়েল হত্যার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানবন্ধন, গত ১১ এপ্রিল ২০২১ ইং তারিখে (স্থানীয় দৈনিক সচেতন) পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ শিরোনাম- বন্দরে জুয়েল হত্যার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল, গত ০৩ জুন ২০২১ ইং তারিখে (দৈনিক আলোর বার্তা) পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ শিরোনাম- নারায়ণগঞ্জ বন্দরে আলীমগংরা জুয়ের মিয়াকে হত্যা করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি অনেক ভাইরাল হয়েছে।  এরকম একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার পর তথ্য প্রমাণ থাকা স্বত্তেত্বও কিভাবে আইন এসব হত্যাকারী আসামীদের জামিন দেয়।

এসব হত্যাকারী আসামীরা যদি এভাবে জামিন নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় তাহলে আইনের বিচার কোথায়? তাহলে কি টাকার প্রভাবে বাংলাদেশে আইনে কোন বিচার নেই, তাহলে কি বাংলাদেশে টাকা যেদিকে বিচার সেদিকে? তাহলে কি বাংলাদেশে আইনের উর্ধ্বে টাকা ও ক্ষমতার প্রভাব?

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সোপানে কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, খুনিদের স্থান নেই। সবাই আসবে আইনের আওতায়, এমনটাই প্রত্যাশা সবার। আগে সোনার বাংলা পরে অন্যসব। সাধু সাবধান।