Amar Praner Bangladesh

জরায়ু অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর মূত্রথলি কেটে ফেলল মৌচাক পপুলার হাসপাতাল

 

(দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা হাসপাতাল গুলোতে চলছে অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে বড় ধরনের ঘুষ বাণিজ্য। এভাবে চলতে থাকলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা হারাবে দেশের জনগণ।)

 

আরিফ শেখ :

 

মানুষের সবচেয়ে বড় সেবার জায়গাটি আজ সেবা শূন্য হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা সেবা এখন একটি আতঙ্কের নাম। হাসপাতাল গুলোতে রোগীরা যায় রোগ ভালো করার জন্য কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু হাসপাতাল মালিক এবং চিকিৎসকরা মিলে রোগীদেরকে জিম্মি করে তাদের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধ ভাবে অর্থ। এই জিম্মি দশায় মানুষ প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হারাচ্ছে তাদের মূল্যবান জীবন। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার মৌচাক বাজার পপুলার হাসপাতালে ৭০ বছরের বৃদ্ধ মা সালেহাকে তার জরায়ুর সমস্যার কারণে ভর্তি করান তার ছেলে মোঃ জাকির হোসেন।

দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে জাকির হোসেন জানান, ডাক্তার অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমার মায়ের জরায়ুতে টিউমার ধরা পড়েছে অপারেশন করতে হবে ডাক্তাররা জানালে এবং আমাদেরকে ১৯/০৭/২০২২ ইং তারিখে জরুরী টিউমার অপারেশন করার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসতে বললে আমরা তাদের কথা মতো ১৯/০৭/২০২২ ইং সকাল অনুমান ১১.১৫ ঘটিকায় আমার মাকে হাসপাতালে অপারেশনের জন্য ভর্তি করি। ডাক্তার আমার মায়ের অপারেশন সম্পূর্ণ হওয়ার কথা জানায়।

পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২২/০৭/২০২২ ইং তারিখে আমার মাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নেওয়ার কথা বলে। কিন্তু আমার মাকে বাড়ীতে নেওয়ার পর আমার মা পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসলে তারা আবার পুনরায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানায়, ভুলবশত তার জরায়ু অপারেশন করতে গিয়ে মূত্রথলি কেটে ফেলা হয়েছে। যার কারণে সর্বক্ষণ মূত্রথলি দিয়ে পানি পড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের এই ভুলকৃত অপকর্মের দায়ভার না নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করলে দেখা যায়, বৃদ্ধা সালেহা যার বয়স ৭০ বছর। প্রতিনিয়ত তিনি কষ্ট পাচ্ছেন, যেকোন মুহুর্তে তিনি এই ভুল চিকিৎসার জন্য মারা যেতে পারেন। ভুক্তভোগীদের দাবী তাদের মায়ের এই মৃত্যুর জন্য কে দায়ী থাকবে? এই বিষয় নিয়ে ভুক্তভোগী সালেহার ছেলে মোঃ জাকির হোসেন গাজীপুর কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে মৌচাক বাজার হাসপাতালের চেয়ারম্যান- মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪৩), পিতা- অজ্ঞাত, ২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক- মোঃ হাফিজুর রহমান ওরফে হাফিজ (৪০), ৩) সার্জন মাহমুদা আলম (৩৮), পিতা- অজ্ঞাত, সর্বসাং- মৌচাক পপুলার হাসপাতাল, ৪) মোঃ শরিফুল ইসলাম (৩২), পিতা- মহর আলী, সাং- গাছবাড়ী, থানা- কালিয়াকৈর, জেলা- গাজীপুর। এদেরকে আসামী করে মামলা দায়ের করলেও আসামীরা বিত্তশালী হওয়ার কারণে থানা কর্তৃপক্ষ এখনো বিষয়টি তদন্ত করে কাউকে আইনের আওতায় আনেন নি বলে জানা যায়।