Amar Praner Bangladesh

ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি’র দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের ৮ রুটে বাস চলাচল বন্ধ

এস এম রাজ্জাক পিন্টু, ঝালকাঠিঃ
ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির তাদের ন্যয্য হিস্যা আদায়ের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে দক্ষিণাঞ্চলগামী সকল গাড়িকে রুখে দিয়ে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। ১৯ ডিসেম্বর বরিশাল-ঝালকাঠির সীমান্ত এলাকা দপদপিয়ার জিরো পয়েন্টে কাক ডাকা ভোর থেকে ঝালকাঠির বাস মালিক ও শ্রমিক মিলিত হয়ে এ কর্মসূচি পালন করে। এ আন্দোলনে বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতি(বাকেরগঞ্জ) ’র সাধারন সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম তার লোকজন নিয়ে একাতœতা প্রকাশ করে বলেন, ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির যে কোন কর্মসূচির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালাবে কারন বরিশাল(রুপাতলী) বাস মালিক সমিতি সব রকমের ফায়দা লুটছে। আন্দোলন চলাকালে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম মাহমুদ হাসান’র দৃঢ়তায় রাস্তায় নামা গাড়ির বড় ধরনের ক্ষতি সাধন হয়নি। অতি. পুলিশ সুপার এম এম মাহমুদ হাসান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে ২০ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বেলা ৩ টায় বরিশাল রুপাতলী বাস মালিক সমিতি ও ঝালকাঠি জেলা বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কোনভাবেই জনগনের চলার পথে কাউকে বাঁধা-বিঘœ ঘটাতে দেওয়া হবে না। তাই ভোর থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ জিরো পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়। এ সময় বাস মালিক সমিতির সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক ও ভৈরবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহম্মেদ জানান, রাস্তার ন্যায্য হিস্যা না দেওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের ছয় রুটে সোমবার সকাল থেকে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঝালকাঠি বাস মিনিবাস মালিক সমিতির গাড়ী বরিশাল-বাখেরগঞ্জ, বরিশাল-নিয়ামতি, বরিশাল-পটুয়াখালি, বরিশাল-বরগুনা, বরিশাল-কাঠালতলি, বরিশাল-বাউফল ও বরিশাল কুয়াকাটাসহ ৮ রুটে সড়কে চলাচল করায় ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি’র ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অপরদিকে বাস না চলায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তারা পায়ে হেটে অথবা ব্যাটারি চালিত অটো বা মাহেন্দ্রতে চড়ে গন্তব্যে পৌছাতে দেখা গেছে। বাস মালিক সমিতির সদস্য রেজাউল করিম জাকির, হাফিজ আল মাহমুদ ও শাহ আলম খলিফা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই ছয় রুটে বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বাগেরহাট সমিতির বাস সমন্বয় করে চলাচল করলেও বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ঝালকাঠি সমিতির কোনো বাস চলতে দেওয়া হচ্ছে না। যদি তাদেও ন্যয্য হিস্যা না দেওয়া হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ইংগিত করেন। অপরদিকে বাস মালিক সমিতির নেতা ও ভৈরবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহম্মেদ আর বলেন খুলনা, পিরোজপুর যদি সমন্বয় করে বাস বিভিন্ন রুটে চালান তাহলে আমাদের বাসগুলো কুয়াকাটাসহ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন রুটে কেন চলাচল করতে পারবে না। এদিকে বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কালু জানান, ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি অন্যয্য দাবী করছে কারন তাদের জেলা রুটের শুরুতে নেই আর শেষেও নেই তারপরও তাদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা চলছে। ঝালকাঠি বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির দাবী আদায়ের সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক নাসির উদ্দিন আহম্মেদ আরও বলেন, রুপাতলী পর্যন্ত আগে বাস চলাচল করত। যেহেতু তারা আমাদেও ন্যয্য দাবী মানছেন না তাই নিরাপত্তার কারনে এখন ষ্ট্যান্ড রায়াপুর এগিয়ে আনা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ৮ রুটে বাস চলাচলের দাবীতে এক সংবাদ সম্মেলন করে ঝালকাঠি বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন মাহামুদ বাচ্চু, ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবী পুরন না হলে ঝালকাঠির রাস্তায় বরিশাল-পটুয়াখালি বাস মিনিবাস মালিক সমিতির গাড়ী চলাচল করতে দেয়া হবে না বলে ঘোষনা দেন। সরেজমিন দেখা গেছে, বরিশালের বাস মালিক সমিতি তাদের লোকজন নিয়ে সীমান্তবর্তী খয়রাবাদ ব্রীজের উত্তর পাড়ে আর ঝালকাঠির লোকজন দক্ষিণ পাড়ে মাঝে পুলিশ থাকায় কোন রকম বড় ধরনের সহিংসতা হয়নি তবে দুএকটি গাড়ীর গ্লাস ভাংগা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের নেতা জিএস জাকির আপাতত তাদের আন্দোলন ২০ ডিসেম্বর বেলা ৩ টা পর্যন্ত স্থগিত করেন। ।