Amar Praner Bangladesh

টঙ্গীতে গ্যাস সংকটে দিশেহারা এলাকাবাসী

 

 

মোঃ আরিফ শেখ :

 

গাজীপুর টঙ্গী এলাকায় গ্যাস সরবরাহের সমস্যা দীর্ঘ দিনের। এখানে মন্ত্রী সহ রয়েছে ডজন খানিকেরও বেশি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা। এসব নেতারা মুখে বড় বড় কথা বললেও মানুষের মৌলিক সমাধান করার বিষয়ে সবসময় অপরাগতার পরিচয় দিয়ে আসছে। টঙ্গীর আরিচপুর এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যেন সোনার হরিনের মতোই দুর্লভ বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর সরকার বাড়ি রোডের বাসিন্দা গৃহবধু তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের এলাকায় বছরের ২ মাস গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বাকি ১০ মাসই পাইপের মাধ্যমে আসা গ্যাসের সরবরাহ রাত ১২ টা থেকে ভোর ৫ টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর সরকার বাড়ি রোডের এক গৃহবধূ মাহমুদা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় রাত ১২ টার পরে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ভোর ৫ টা পর্যন্ত থাকে এর পর থেকে গ্যাস সরবরাহ কমতে শুরু করে। সকাল ১০ টার পর থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত আমরা আর কোন গ্যাস সাপ্লাই পাইনা। ফলে চরম দূর্ভোগে দিন কাটছে আমাদের। যা ঘর সংসার সামলিয়ে রান্না করার বিষয় আমাকে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রাখে।’ মাহমুদা যে মহল্লায় থাকেন, সেখান থেকে প্রায় পাশেই পাপেল মিয়ার বাড়ির ভারাটিয়া সারমিনেরও একই ধরনের পরিস্থিতি।

পূর্ব আরিচপুরের বাসিন্দা রাকিব দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ রাত ১ টার পরে সামান্য কিছু গ্যাস পেলেও ভোর থেকেই আমরা গ্যাসের সরবরাহ একদমই পাই না। এবং গত ২ দিনে পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে বাইরে থেকে নাস্তা কিনে আনা এখন প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

টঙ্গীর আরিচপুরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে সবাই একই কথা জানিয়েছেন। এসব এলাকার বাসিন্দাদের গ্যাস স্বল্পতার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পূর্ব আরিচপুর সালামের পরিবার চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধানে যেতে বাধ্য হয়েছেন। রান্না করার জন্য তারা ইতিমধ্যে মাটির চুলা কিনে রান্নার যোগান দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে তিতাসের টঙ্গী জোনের ব্যবস্হাপক মোঃ এরশাদ জানান, আমার জানা মতে বিরিয়ানি গ্যাস কেন্দ্রের কাজের কারনে সারাদেশেই গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। তবে চলমান সমস্যা ছাড়া কোন সমস্যার কথা আমার জানা নেই যদি কোন এলাকায় এ সমস্যা থেকে থাকে তাহলে খবর নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।