টঙ্গীতে বদিউজ্জামান বদিসহ ৮জনকে আসামী করে থানায় মামলা

 

মো: বশির আলম, টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি :

টঙ্গীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগসহ ৪জনকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে টঙ্গীর মিলগেইট এলাকায় বদিউজ্জামান বদি একদল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হইয়া ৫৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম সানিকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং পারভেজ পাটোয়ারী ও স্থানীয় এক তুলা মার্কেটের ঝুটের গোডাউন থেকে ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সেলুকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদেরকে নিয়ে গিয়ে লাঠিশোটা দ্বারা বেধরক মারধর করিয়া বাচ্চু মিয়ার ঘরে আটক করিয়া রাখে এবং বদির বাহিনীর লোকজন ইব্রাহিম সানির ঘরের ভিতর ঢুকিয়া সানির বোন সোনিয়া আক্তার রোকসানাকে মারধর ও শ্লীলতা হানী করে। এক পর্যায় ঘরের ভিতর ব্যাপক লুটপাট তান্ডব চালায় এলাকায় অস্ত্রসস্ত্র নিয়া মহড়া দেয়।

ঘটনার বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জনৈক গোলাপ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ইউনুছ নামে এক ব্যক্তি ১৩ হাজার টাকা পাইবে। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে গত শনিবার দুইজনের ভিতরে বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় পাশে থাকা ইব্রাহীম সানি ও বেচু মিয়া ঝগড়া থামানোর জন্য সহযোগিতা করেন। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে গোলাপ টঙ্গী পশ্চিম থানায় ঘটনার দিন তার বাসা থেকে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে এই মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্যে ঘটনাস্থলে টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই কাজী নেওয়াজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়টিকে নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় মিমাংশার জন্য মঙ্গলবার ১১ঘটিকায় ধার্য্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বদিউজ্জামান বদি বিচারিক কার্যক্রমে বসার আগ মুহুর্তে হামলা চালিয়ে এলাকায় তান্ডব সৃষ্টি করে। এক পর্যায় আহতদেরকে স্থানীয় কাউন্সিলর আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান টিটুর সহযোগিতায় তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। বর্তমানে আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, বদিউজ্জামান বদি স্থানীয় মিলগেইট চুরি ফ্যাক্টরী জনৈক আনোয়ার হোসেনের নামে বরাদ্দকৃত শিল্প প্লটে দারোয়ান হিসেবে চাকুরীর সুবাদে ওই জায়গাটি তার দখলে নিয়ে ঝুটের গোডাউনসহ নানাবিদ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। প্লটের মালিককে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি হুমকি ধামকি প্রদান করে জায়গার কাছে আসতে দেয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাদিক ব্যক্তি জানান, বদির বাহিনির প্রধান শক্তি বদির স্ত্রীর দুই ভাই শাহা আলী ও শাহেন শাহসহ বদির বড় ছেলে বিপ্লব, জাহাঙ্গীর, গোলাপ, রানা, মিজান, সুমন, মতিনসহ ৪০/৫০জনের একটি কেডার বাহিনী। শাহেন শাহ ও শাহা আলীর বিরুদ্ধে হত্যা মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজীসহ একাধিক মামলার রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত বদির বক্তব্য জানার জন্যে তার অফিসের সামনে গেলে একজন কর্মচারী এসে অফিস খুলে স্থানীয় সাংবাদিকদের বসতে দিলে বদির সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহৃত ৯টি হকিস্টিক পাওয়া যায়। যাহা সাংবাদিকদের ক্যামেরাবন্দী করা হয়। দীর্ঘ এক ঘন্টা অপেক্ষার পর একজন ব্যক্তি এসে বলে আপনারা ঘটনাস্থলে চলেন। ইব্রাহিম সানির নেতৃত্বে আমাদের দোকান পাট ঘরবাড়ি ভাংচুর করিয়াছে। ঘটনাস্থল নিশাত মহল্লা কবরস্থানের সামনে গিয়ে দেখা যায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের মসজিদের নির্ধারিত জায়গায় দখল করে দোকান ও বাসা বাড়ি নির্মাণাধীন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

নির্মাণাধীন জায়গার কেয়ারটেকার আশাবউদ্দিন ওরফে সুন্দর আলী সাক্ষাৎকারে বলেন, রাতে আনুমানিক ১২টার সময় ইব্রাহিম সানি ও পারভেজ পাটোয়ারী এখানে আসিয়া দোকান ঘরের সামনের টিনের চালায় ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। কিন্তু সরেজমিনে কোথাও ভাংচুরের কোন চিহ্ন দেখাতে পারেননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করিয়া এলাকার সাধারণ মানুষের ভিতরে ক্ষোভ বিরাজমান। এ ঘটনায় আহত ইব্রাহীম সানির মা মোসা: রেখা বেগম বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলো-বদিউজ্জামান বদি, মো: শাহ আলী, মো: শাহেন শাহ, মো: বিপ্লব, মো: রানা, মো: গোলাপ, মো: জাহাঙ্গীর, মো: মিজানসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/১৬জনের বিরুদ্ধে মারধর, চুরি, শ্লীলতাহানী, অপহরণসহ নানাবিদ অপরাধে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল হাসান জানান, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।