Amar Praner Bangladesh

টঙ্গীতে মহাসড়ক দখল করে চলছে চাঁদাবাজি

 

 

শেখ রাজীব হাসান, গাজীপুরঃ

 

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপরে দলীয় পদ পদবীর প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ দোকান বসিয়ে দীর্ঘদিন কয়েক বছর যাবত চলছে মহিলা নেত্রী আয়েশা আক্তার ও তার ভাই ইসমাইল হোসেনের চাঁদাবাজি। টঙ্গীর চেরাগআলী বাস স্ট্যন্ড থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কের উপর ও আশপাশের অলি-গলিতে অবৈধ ভাবে বসানো হয়েছে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান। ইতিপূর্বে অবৈধ এই বাজার বসানো দিয়ে ইতোমধ্যে খুন জখমের ঘটনাও ঘটলেও সিটি কর্পোরেশনের মুল ফটকের সামনে দলীয় নেতা কর্মীর দ্বারা এসব অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রন করায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় ব্যাবসায়ী, পথচারী, পরিবহন চালক ও সচেতন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

সরোজমিনে গিয়ে অবৈধ এই বাজার পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, মহিলা নেত্রী আয়েশা আক্তার ও তার ভাই ইসমাইল হোসেন চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছে। গত ১০ এপ্রিল বাদ আছর সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ শেষে ইফতারের উদ্দেশ্যে সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয়ের পিছনের বিল্ডিং এ এনএফসি টু পয়েন্ট ও রেস্টুরেন্ট এ ইফতারের উদ্দেশ্যে বসলে ইসমাইল ও আয়েশা আক্তারের পক্ষ থেকে দফায় দফায় লোক পাঠিয়ে যেন এই অবৈধ বাজার নিয়ে সংবাদ না করা হয় সে জন্য সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে সংবাদ থামানোর চেষ্টা করা হয়। এসময় মহিলা নেত্রী আয়েশা আক্তার বলেন, এতো বড় বড় ঘটনা ঘটে সেইসব নিয়ে লিখেন এই ভ্যান মার্কেট নিয়া লিখার দরকার নাই। অবৈধ ভ্যান মার্কেট নিয়ে উনার ফোন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে আয়েশা বলেন, আমি এই ওয়ার্ডের নেত্রী সব কিছু আমাকেই দেখতে হয়। এসময় তাদের পাঠানো চাঁদাবাজরা প্রতিটি গাড়ি থেকে চাঁদা উঠান বলে স্বীকার করে জানায়, আয়েশা আপা ও তার ভাই ইসমাইল দু-জনেই বর্তমানে ভারত আছে তারা আশার আগে কিছু কইরেন না। তারা আরো জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাসহ প্রশাসনের লোকদের মাশোয়ারা দিয়ে চলে এই বাজার।

প্রকৃতপক্ষে টঙ্গীর আওয়ামী মহিলা লীগ নেত্রী আয়েশা আক্তার আশা ও তার ভাই যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন দীর্ঘদিন যাবত তাদের পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী শ্বারা প্রতিটি দোকান থেকে চাঁদা তোলেন। ইসমাইলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে একাধীক মামলা রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কাজ চলমান থাকায় মানুষ ও যান চলাচলের জায়গা খুবই স্বল্প। মহাসড়কের উপরে বসানো এসব দোকানের জন্য গণপরিবহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্নতা ঘটছে। চেরাগআলী থেকে কলেজ গেট এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। জনগণের ক্ষতি করে মহিলা নেত্রী আয়েশা ও তার ভাই ইসমাইল বাগিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, খোদ সিটি করপোরেশনের সামনে এসব অবৈধ দোকান বসানো দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

উল্লেখ্য, চাঁদাবাজ ইসমাইল টঙ্গীর চেরাগআলী মার্কেটে চাঁদা না দেয়ায় বছর দুই আগে একটি চশমার দোকানে ককটেল হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় দোকানের মালিকসহ ৫ জন আহত হয়। ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। চাঁদাবাজরা একটি মাইক্রোবাসও ভাঙচুর করে। দোকান মালিক ওমর ফারুক মনির জনান, তাদের কলেজ অপটিকস নামের দোকানটিতে অতর্কিতে হামলা চালায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, ইসমাইল ও হোয়াইট রনির নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের চাঁদাবাজ দলটি এ হামলা চালিয়েছিল। হামলাকারীরা আশপাশের কয়েকটি দোকানেও হামলা চালিয়েছিল বলে দোকান মালিকরা জানান। হামলা চলাকালে ভীতসন্ত্রস্ত লোকজন দ্বিক-বিদ্বিক ছোটাছুটি শুরু করে। এ ঘটনায় তখন টঙ্গী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
এদিকে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে গত বছর প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয় সন্ত্রাসী ইসমাইলের ভগ্নিপতি মো. ফারুক। তারপরও তাদের দৌরাত্ম্য কমেনি। বরং আরো বেড়ে গেছে বহু গুন। মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনের বহিস্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচিত হলে তিনি সিটি কর্পোরেশনের মাষ্টাররোলের কিছু শ্রমিক মহাসড়কে যানজট নিরশনে নিয়োগ দিয়ে কাজ করাচ্ছিলেন। তারা মহাসড়কে যানজট মুক্ত রাখতে হকারদের সরাতে চাইলে শুরু হয় উভয়পক্ষের মধ্যে বিবাধ। খবর পেয়ে হকারদের পক্ষে চলে আসেন টঙ্গীর মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী আয়শা আক্তার ও তার ভাই ইসমাইল বাহিনী। অবরুদ্ধ করেন সিটি কর্পোরেশনের শ্রমিকদের এবং মহাসড়কে চালায় তান্ডব। বন্ধ হয়ে পরে কয়েক ঘন্টা যানবাহন চলাচল। অবরোধে অচল হয়ে পড়ে টঙ্গীর মহাসড়কসহ আশপাশের মার্কেট। পরে রাত ১১টার পর খবর পেয়ে তৎকালীন মেয়র জাহাঙ্গীর ও আইনশৃঙখলা বাহিনীর লোজনের সহয়াতায় গভীর রাতে চলাচল শুরু হয় যনবাহন।
বোনের রাজনীতির সুবাধে ইসমাইল এখন যুবলীগ নেতা। এমনকি সে ৫৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে জোড়েসোরে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে সরকারি দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের ১নং জোনের সভাপতি ও ৫৪ নম্বর ওর্য়াড কাউন্সিলর মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা বলেন, রাস্তার উপর দোকান বসানোর ফলে লোকজন ও যানবাহন চলাচলে খুবই অসুবিদা হচ্ছে। এতে যানজট এবং দূর্ঘটনাও বাড়ছে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মহাসড়ক মুক্ত করে যানচলাচল ও পথচারীদের র্নিবিঘ্নে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেন।

জানা যায়, টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের অভিযানে একাধীকবার অবৈধ এই মার্কেট উচ্ছেদ করা হলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আয়েশা ও ইসমাইলের নেতৃত্বে পুনরায় চালু হয় এই মার্কেট। সর্বশেষ গতকাল ১০এপ্রিল রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং সাধারণ জনগনের একাধীক মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ মার্কেটটি উচ্ছেদ করেন। এছাড়া তিনি মহাসড়ক দখল মুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান চলবে বলে আশ্বস্ত করেন। পুলিশের এমন ভুমিকায় নিতান্তই প্রশংসনীয় বলে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন পরিবহনের চালকগণ।