Amar Praner Bangladesh

টঙ্গী বাজারের কুলি পটকা নূর ইসলাম এখন কোটি টাকার মালিক

 

ষ্টাফ রিপোর্টার :

 

গত কয়েকদিন আগেও যে টঙ্গীবাজারে ঠেলাগাড়ি চালিয়ে দিনাতিপাত করত সে এখন কোটি টাকার মালিক। যা জন মনে এখন মুখরোচক আলোচিত বিষয়। বিতর্কিত অন্যান্য ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের কাছে এখন শুধুই আক্ষেপ তারা কিছু হতে পারল না কেন। যাকে সবাই এক নামে চিনেন, তিনি আর কেউ না, তিনি হলেন, নুর ইসলাম ওরফে পটকা নূর ইসলাম। বাবা মৃত আব্দুল মান্নান। বর্তমানে পটকা নুর ইসলামের ভাইয়েরাও কুলির কাজ করে তাদেরও আক্ষেপ পটকা নুর ইসলাম হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হল কি করে।

পটকা নুর ইসলামের বোন লিপি আক্তার জানান, বাবা ,মার সম্পত্তির ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত করে তাদের বোনদের জমি না দিয়ে মেরে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে ওই জায়গায় বিশাল ভবন করেছে পটকা নূর ইসলাম। টঙ্গী বাজারে কিছু না করা ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা কিছু না করতে পারলেও বছরের পর বছর কুলি পটকা নূর ইসলাম এখন অল্প সময়ে প্রায় কোটি টাকার মালিক। আক্ষেপ করা বাড়িওয়ালারা জানান, সারা জীবনের টাকা দিয়ে বাবার জমিতে বাড়ি করে এখন আমরা কষ্টে দিনাতিপাত করছি, অথচ গত তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এত টাকার মালিক কিভাবে হলো পটকা নুর ইসলাম। প্রশ্ন আমরাও তো ব্যবসা করি আমাদের তো এত বাড়ি নেই।

কয়েকজন ভাঙারিওয়ালা ও জানান, আমরা বাঙারি ব্যবসা করে কোন রকমে দিনাতিপাত করছি। দিন আনতে পান্তা ফুরায় আমাদের বছরের পর বছর। পটকা নুর ইসলাম বছর অন্তর দুইটি করে জমি সহ বাড়ি কিনছে কিভাবে সম্ভব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, বর্তমানে গিয়াস সরকারের বাড়ির পাশে ১১ তলা ভবনের আট তলার মালিক পটকা নুর ইসলাম। ছয় মাস আগেও আবুল ইঞ্জিনিয়ার এর বাড়ির পাশে মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোজাম্মেল রোডে কে এস খায়ের গ্রুপের বাড়ির রোডের বাড়িটিও তার। গত ৫ বছর আগে হাফেজ মোড়লের বাড়িটি জোরজবস্তি নিয়ে এখন ভবনের মালিক। জলিল মিয়ার দুই শতাংশ জমির উপর বিশাল ভবনে থাকেন তিনি যা কোটি টাকার মূল্য। তিন মাস আগেও কুত্তা সালামের তিন শতাংশ জমি কিনেছে যা প্রায় কোটি টাকা। বোন ও ভাইদের হক মেরে বাবার পৈত্রিক ওয়ারিশে তুলেছে তিন তলা ভবনের বিশাল একটি বাড়ি।

টঙ্গী বাজার ফলের দোকান চানমিয়ার সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিটের মালিকও সে। জিলাপি বিক্রেতার কাছে সরকারি জমি চাঁদা নিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন ৫০০ করে। নদীর টংগী বাজার রয়েছে আরো চার থেকে দশটি বিট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিটি ভিডেই ৫০০ থেকে ১০০০ করে টাকা নিচ্ছে চাদা পটকা নূর ইসলাম। টঙ্গী কাচারী ভূমি অফিসে রয়েছে তার অবৈধ পটকা আতশবাজির বিশাল গোডাউন। গত কয়েক বছরের থানায় মুছলিকা দিয়ে লক্ষ টাকার বিনিময়ে আবার জেল থেকে বেরিয়ে বেপরোয়া অবৈধ পটকা বাণিজ্যে। যা নিজের ছেলেকে দিয়ে এই ব্যবসা-বাণিজ্যে এখন চরম চরমে।

টঙ্গী বাজারের পানপট্টিতে রয়েছি বিশাল দুটি পানের আরত যা সে নিজেই পরিচালনা করছে। নামে বেনামে রয়েছে তার অনেক জমি যার হিসেব এখনো আসেনি আগামীতে আসবে। সম্প্রতি পটকা নুর ইসলামের বাড়িতে ১২ বছরের একটি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ওই নিউজটি ব্যাপকে আলোড়ন সৃষ্টি করে সকলের মাঝে। শুধু টাকার লোভেই এই সমস্ত ধর্ষকদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে টাকা বাণিজ্য করাই তার লক্ষ্য উদ্দেশ্য। বর্তমানে হাজী বাজার বস্তিতে রয়েছে তার বিশাল নেটওয়ার্ক।

এই নেটওয়ার্ক কিভাবে সে এত কোটি টাকার মালিক জানতে চাই এলাকাবাসী। রয়েছে ইমরান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যানার যার মাধ্যমে সব অবৈধ ব্যবসা কে বৈধ করেন। সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে রেলের পাশে জায়গায় বিশাল অবৈধ ব্যবসা এন্টারপ্রাইজ নামের ব্যানারে। অবৈধভাবে চালিয়ে যাওয়া এই দুর্নীতিবাজ পটকা নুর ইসলামকে অচিরেই দুদকের অভিযান চায় এলাকাবাসীসহ সকলে।