Amar Praner Bangladesh

টাঙ্গাইল-২: মনোনয়নের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে

আব্দুল্লাহ আল মামুন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার পাশাপাশি এ আসনের সম্ভাব্য বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ব্যানার, ফেস্টুন, সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এবারের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণেও নির্বাচনী প্রচারণার আমেজ লক্ষ করা গেছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। নির্বাচন কেন্দ্র করে তারা উন্নয়নমূলক কাজ, জনসভা, পথসভাসহ বিভিন্ন কর্মক্ডা অংশগ্রহণ করছেন। শুধু নির্বাচনী প্রচারণা নয় জনসাধারণের সুখ-দুঃখের অংশীদারিত্বের প্রমাণ দিতে তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ও তরুণ কর্মীদের কাছে টানছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ এলাকায় নির্বাচনী আমেজ তৈরি করছে। টাঙ্গাইল-২ আসন গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। তারা নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, টাঙ্গাইল-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের সাতজন, বিএনপির তিনজন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই জোর লবিং শুরু করেছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, চা-স্টলগুলোতে রঙিন পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে নিজের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। এবারের বন্যায় গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যাকবলিতদের মাঝে ত্রাণ দিতে গিয়েও অনেকে প্রচারণা চালিয়েছেন। কে কত বেশি বন্যার্তদের ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছে? এ আলোচনাও চা-স্টলগুলোতে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। এ ছাড়া একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে নিজেদের নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। পবিত্র ঈদুল আজহায় হোটেল রেস্তোরা, হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লায় সংসদ নির্বাচনের আগাম প্রচারণা এখন সর্বত্র। গোপালপুর-ভূঞাপুর উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনি ও গোপালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুর ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। টাঙ্গাইল-২ আসনে ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে হাতেম আলী তালুকদার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালের জাতীয় নির্বাচনে আফাজ উদ্দিন ফকির বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে শামছুল হক তালুকদার ছানু এবং ১৯৮৮ সালে জাসদের আব্দুল মতিন হিরু সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সাবেক শিক্ষা ও শিল্প উপমন্ত্রী বর্তমানে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টু আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিক হাতেম আলী তালুকদারকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম অর্থসচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টু দুই হাজার ২৭৪ ভোটের ব্যবধানে খন্দকার আসাদুজ্জামানকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে প্রথমে শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং পরে শিল্প উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টুর ছোট ভাই কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে খন্দকার আসাদুজ্জামান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এ ছাড়াও ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) প্রার্থী আজিজ বাঙ্গালকে (সাইকেল প্রতীক) বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে খন্দকার আসাদুজ্জামান তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে অসুুুস্থ থাকায় সময় দিতে পারছেন না। তার অনুপস্থিতির সুযোগে দলীয় নানা কাজে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনি। তা ছাড়া বর্তমান সাংসদ খন্দকার আসাদুজ্জামানের অবর্তমানে ব্যাংকার ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, কারান্তরীণ সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস ছালাম পিন্টু বিএনপি থেকে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আব্দুস ছালাম পিন্টু জেলহাজতে থাকায় আইনি জটিলতায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলে তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ আসনে প্রার্থী হবেন বলে দলীয় ও তার অনুসারী সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া, এ আসনে গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, কর্নেল মির্জা হারুন অর রশিদ (অব.), ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম অ্যাডভোকেট, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুস ছালাম পিন্টু, তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক ম-ল বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির (এরশাদ) শামছুল হক তালুকদার ছানু এ আসনে মনোনয়ন পাবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।