মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রমিক লীগের ৫৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি রুবেলকে হত্যার চেষ্টা : থানায় অভিযোগ অস্ত্রধারী নুর আলম নূরুকে গ্রেফতারের জন্য মানববন্ধন হলেও নূরু অধরা : প্রশাসন নিরব তিন দিনের সফরে ঢাকায় বেলজিয়ামের রানি ভূমিকম্প: তুরস্কে ও সিরিয়ায় নিহত ৫ শতাধিক উত্তরা বিজিবি মার্কেট এখন আর ডালভাত কর্মসূচিতে নেই মন্দিরে মূর্তির পায়ে এ্যাড. রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী’র সেজদা প্রতিবাদে নির্যাতন ও মামলার শিকার মোঃ জলিল রৌমারীতে অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির অফিস উদ্বোধন যুবলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় কল্যাণপুরে আবাসিক হোটেলে রমরমা দেহব্যবসা তিতাসের অসাধু কর্মকর্তাদের আতাতে লাইন কাটার নামে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের সাথে ব্ল্যাকমেইলিং করছে প্রতারক চক্র রাজধানীর উত্তরখান থেকে ড্যান্ডি পার্টির ১৬ সদস্য গ্রেপ্তার

ট্রাম্পের ওপর চটেছে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৭ মে, ২০১৮
  • ১৮ Time View

অনলাইন ডেস্ক:

প্যারিসে ২০১৫ সালের হামলা এবং লন্ডনে সাম্প্রতিক ছুরি হামলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায় বেজায় চটেছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। শুক্রবার মার্কিন ‘ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন’র (এনআরএ) সঙ্গে এক সম্মেলনে ট্রাম্প অস্ত্র অধিকার আইনের পক্ষে বলেন। টেক্সাসের ডালাসের ওই সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘ফরাসিদের হাতে অস্ত্র থাকলে ২০১৫ সালের প্যারিস হামলা প্রতিহত করা যেত।’ আর যুক্তরাজ্যে হ্যান্ডগান নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে লন্ডনে ধারাবাহিক ছুরি হামলা সংঘটিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। ক্ষোভ জানিয়ে এরই মধ্যে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতিও দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশটি তাদের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে গর্বিত। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, বিবিসি

ওই সম্মেলনে ট্রাম্প প্যারিস হামলার বন্দুকধারীর অভিনয় করে দেখান। তিনি প্যারিস হামলার বন্দুকধারী এবং হামলার শিকার ব্যক্তিদের একে একে ডাকছেন ও গুলি ছুড়ছেন। এ সময় তিনি হাত দিয়ে গুলি ছোড়ার অভিনয় করেন এবং মুখ দিয়ে উচ্চারণ করেন, ‘বুম, এখানে এসো।’

তবে সত্যি ঘটনা হলো, প্যারিস হামলার সময় হামলাকারীরা আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক ও ‘বোম্ব বেল্ট’ ব্যবহার করে ১৩০ জনকে হত্যা করে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় ওই হামলায় নিহতদের স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে বলে আসছে।
ট্রাম্পের এমন কা-ের পর ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার বলে, ‘প্যারিসে ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর হামলার ঘটনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্ত্মব্যকে ফ্রান্স দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে এবং ওই হামলার শিকারদের স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার আহ্বান জানাচ্ছে।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আগ্নেয়াস্ত্র কেনা ও বহনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপকারী দেশ হিসেবে ফ্রান্স গর্বিত।
উলেস্নখ্য, ওই হামলার সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাসোঁয়া ওলাদঁ। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের মন্ত্মব্য লজ্জাজনক। এ থেকে বোঝা যায়, তিনি ফ্রান্স ও দেশটির মূল্যবোধ সম্পর্কে কীভাবে চিন্ত্মা করেন।’ ২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী থাকা ম্যানুয়েল ভ্যালস এক টুইটার বার্তায় লেখেন, ‘অশোভন ও অদক্ষ। এর থেকে বেশি আমি আর কী বলতে পারি?’
ট্রাম্প তার শুক্রবারের বক্তব্যে যুক্তরাজ্য নিয়েও বিতর্কিত মন্ত্মব্য করেন। নাম উলেস্নখ না করে লন্ডনের একটি হাসপাতাল সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সম্প্রতি লন্ডন নিয়ে একটি লেখা পড়েছি। লন্ডনের অস্ত্র আইন অবিশ্বাস্য রকমের কঠিন। ওই লেখায় দেখা যায়, লন্ডনের একটি খুবই স্বনামধন্য হাসপাতাল ভয়ানক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তাদের বন্দুক নেই। কিন্তু ছুরি আছে এবং তাতেই হাসপাতালের সব মেঝে রক্তে রঞ্জিত।’ ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের ভাষায়, সামরিক যুদ্ধক্ষেত্রের হাসপাতালের মতোই ওই হাসপাতালটির বাজে অবস্থা।’ এ সময় ছুরিকাঘাতের ভঙ্গিমা করে ট্রাম্প বলেন, ছুরি, ছুরি, ছুরি আর ছুরি। লন্ডন এ ধরনের ঘটনায় অভ্যস্ত্ম নয়। তাদেরকে এসবে অভ্যস্ত্ম হতে হচ্ছে। এটি সত্যিই কঠিন ব্যাপার।’
লন্ডনের ট্রমা সার্জনরা ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। ট্রমা সার্জন মার্টিন গ্রিফিথ শনিবার ইঙ্গিত করেছেন, ট্রাম্প তার মন্ত্মব্য থেকে ভুল সিদ্ধান্ত্মে উপনীত হয়েছেন। আরেক ট্রমা সার্জন কারিম ব্রোহি হাসপাতালের ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে লিখেছেন, ‘এ সহিংসতা ঠেকাতে আমাদের সবার অনেক কিছু করার আছে। তবে সমাধানের অংশ হিসেবে অস্ত্র রাখার পরামর্শ দেয়াটা হাস্যকর। ছুরি আঘাতের ক্ষতের তুলনায় গুলির আঘাত অন্ত্মত দ্বিগুণ মারাত্মক। এর চিকিৎসা আরও জটিল।’ উলেস্নখ্য, ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের ডানবেস্ননের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলার পর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে হ্যান্ডগান নিষিদ্ধ করে ব্রিটিশ সরকার। ট্রাম্প বরাবরই অস্ত্র অধিকার আইনের পক্ষে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় হিলারি ক্লিনটন অস্ত্র অধিকার আইন সংশোধনের কথা বললে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি কেউ তাকে (হিলারি) গুলি করে হত্যা করে, তার জন্য কেউ দায়ী হবে না।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এই সাইটের কোন লেখা কপি পেস্ট করা আইনত দন্ডনীয়