Amar Praner Bangladesh

ডা. প্রণয় ভূষণ দাসের ব্যবস্থাপনায় পাল্টে গেছে শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

 

মোয়াজ্জেম হোসেন :

 

মানুষের শতভাগ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন সারাদেশে। এই শ্লোগানকে সামনে রেখে অবৈধ অনিবন্ধিত হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বন্ধ করে সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোর উন্নয়ন এখন সময়ের ব্যাপার। তারই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি’র তত্ত্বাবধানে বেসরকারী গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সার্বিক অবকাঠামোর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি, নিয়ম শৃঙ্খলার উন্নতি ও সেবার মান ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমানে হাসপাতালের সেবা নিয়েও এলাকার অনেক মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসকসহ জনবল সংকট থাকা স্বত্বেও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে সমন্বয় করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষণ দাসের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়েও রোগীরা এখন আন্তরিকতাপূর্ণ সেবা পাচ্ছেন। এই হাসপাতালটি আগামীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হবে বলে জানা যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ, আন্ত:বিভাগ এবং বহির্বিভাগের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, হাসপাতালের সামনে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান, শহীদ মিনার ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে শ্রীপুরে স্বাস্থ্যখাতে ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অর্জন বলে আখ্যা দিচ্ছে স্থানীয়রা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বহু আগে থেকে একটি অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন থাকলেও অনেক দিন ধরে সেটি বিকল হয়ে পড়ে ছিল। সেটি সচল করায় সাধারণ রোগীরা স্বল্প খরচে যেকোনো ধরনের এক্স-রে করাতে পারছেন।

এছাড়াও হাসপাতালে ইসিজি মেশিন, অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি মেশিন ও মুজিব কর্নার চালু করা হয়েছে। একটি এ্যাম্বুলেন্স মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়। এরকম একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমের পক্ষে ২-৩টি এ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। অপুষ্টিহীন শিশুদের জন্য আলাদা কেবিন, রোগীদের খাবার-দাবারের জন্য সু-ব্যবস্থা, শিশুদের স্তন্যপানের জন্য কেবিন, রোগীদের সিরিয়াল অনুযায়ী টিকিট ও চিকিৎসার জন্য সারিবদ্ধ লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সর্বোপরি সরকারি যেসব ওষুধপত্র হাসপাতালে আসে তার সুষম বন্টনের ব্যবস্থা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মার্জিয়া মমতাজ জয়া, সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহবুব আলম, শামীম মন্ডল, ও জেসমিন সুলতানা দিপু, জানান, ডা. প্রণয় ভূষণ দাসের তত্ত্বাবধানে উপজেলা হাসপাতালটি এখন জেলার অন্যান্য হাসপাতালের চেয়ে অনেক ভালোভাবে চলছে। অতীতে যে হাসপাতালে কয়েকজন রোগীর পর আর রোগী খুঁজে পাওয়া যেত না বর্তমানে এখন সেখানে রোগীর লাইন চোখে পড়ার মতো। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সকলের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে এখানকার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অপরিসীম ভূমিকা পালন করছেন।

লাইনে দাঁড়ানো রোগীর নিকট থেকে স্বর্ণের চেইন চুরি হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিচক্ষণতার মাধ্যমে চোরকে শনাক্ত করে থানায় সোপর্দ করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে এখানে মোট ২৪ হাজার ৫০০ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নিয়মিত করোনা টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় গণটিকা, মুজিববর্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনসহ বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ টিকা প্রদান কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে করোনা টিকা প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, সকল চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, স্থানীয় এমপি, মেয়র, উপজেলা প্রশাসনের সকলের সার্বিক সহযোগিতায় এ সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আমরা আগামীতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।