ডিআইজি মিজান সাময়িক বরখাস্ত

ইমরান হোসাইনঃ

 

অবশেষে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তাকে বরখাস্ত করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠে মিজানের বিরুদ্ধে। এরপর তাকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। মিজানুরের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। নারী নির্যাতনের অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

পরে মিজানের শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় দুদক।

সম্প্রতি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পুলিশের বিতর্কিত এই কর্মকর্তা। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের ঘটনা তদন্ত করছিলেন এনামুল বাছির। মিজান এ সম্পর্কিত একটি অডিও বেসরকারি একটি টেলিভিশনকে সরবরাহ করেন। এরপরই দুদক তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে কমিশন দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুদক। পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদকে নতুন অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর আগে গত সোমবার তিন কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদ গোপন এবং তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিআইজি মিজানসহ আরও ৩ জনকে আসামি করে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার বাকি তিন আসামি হলেন- মিজানুর রহমানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ছোট ভাই মো. মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে মাহমুদুল হাসান। এ মামলার পরপরই আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছেন।