Amar Praner Bangladesh

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৪ গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার হুমকিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আশালীন’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্যের অভিযোগ এনে রাঙ্গামাটির চার গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী আর্জিয়া আলম (আঁখি) রাঙ্গামাটি জেলা শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার স্বামী শেখ ইমতিয়াজ কামালও একজন গণমাধ্যমকর্মী। তিনি ইংরেজি দৈনিক অবজারভারের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গামাটি সদর থানায় চার গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ২৩, ২৪, ২৫, ২৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে জাহেদা বেগম (৪০) বাংলাদেশ টেলিভিশনের রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি, মো. আলমগীর মানিক (৩৮) এশিয়ান টেলিভিশনের রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি। বাকি দুই আসামি মাসুদ পারভেজ নির্জন (২৪) ও শহিদুল ইসলাম হৃদয় (২৫) এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি আলমগীর মানিকের সহযোগী।

মামলার এজাহারে আর্জিয়া আলম (আঁখি) অভিযোগ করেন, ডিজিটাল মাধ্যমে আর্জিয়া আলম ও তার স্বামীর আইডিতে ছদ্মবেশী আইডি থেকে আপত্তিকর ও মানহানিকর কমেন্ট করে আসামিরা তাদের হেয় করেছেন। একইসঙ্গে আসামিরা তাদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করার চেষ্টা করেছেন। পরে বাদীর ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে তার আইডি থেকে আসামিরা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে নেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলে। এরপর বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডিতে তার ছবি প্রকাশ করে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। পাশাপাশি বাদী ও তার স্বামীকে মেরে ফেলে লাশ গুম ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আসামিরা সন্ত্রাসী দিয়ে বাদীকে অপহরণ করে ধর্ষণের হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী আর্জিয়া আলম বলেন, রাঙ্গামাটিতে সাইবার অপরাধীদের উৎপাত বেড়েছে। এই অপরাধে জড়িতরা সংঘবদ্ধভাবে এসব করছে। এরা প্রতিনিয়ত অনেকের সঙ্গেই অপরাধ সংঘটিত করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ও আইনি ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগীরা ভয় পান। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি আমাকে এবং আমার স্বামী ও বাবাকে নিয়ে জঘন্য অপরাধ করে চলেছে। শেষ পর্যন্ত আমাকে ও আমার স্বামীকে সন্ত্রাসী দিয়ে অপহরণ ও শ্লীলতাহানির হুমকি দিয়েছে।

বাদী আরও বলেন, সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আমি আইনের দ্বারস্থ হয়ে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছি। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি, যেন আমার মতো আর কোনো নিরীহ নারী ও পরিবারকে এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়। আমি অনতিবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

মামলার তথ্য নিশ্চিত করে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাদীর অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা এটি। সে অনুযায়ী তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মামলার অগ্রগতি সর্ম্পকে জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন কুমার চক্রবর্তীর মোবাইল ফোনে একাধিবার চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।