Amar Praner Bangladesh

ঢাকা ডেন্টাল এ ভূয়া ডাক্তার জাল জিডি প্রমানিত হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে কালীগঞ্জের দন্ত চিকিৎসক আলমগীর

এম, এ জলিল, ঝিনাইদহ  : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আলমগীর হোসেন নামে এক দন্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। তিনি জাল জিডি দেখিয়ে আদালতের ষঢ়যন্ত্রমূলক মামলা করে এক দিনমজুরকে হয়রানি করে আসছেন।  থানার সিল ও জিডি নম্বর জাল করার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরও পুলিশের নীরব ভূমিকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, দন্ত চিকিৎসক আলমগীর হোসেনের ক্ষমতা নিয়েও। জানাগেছে, ২০১৩ সালের ২ জুন ফৌজদারী আইনের ৯৮ ধারায় আদালতে ষ্ট্যাম্প উদ্ধারের একটি মামলা করেন দন্ত চিকিৎসক আলমগীর হোসেন। এ মামলায় কালীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। মামলায় উল্লেখ করা হয়, দন্ত চিকিৎসক আলমগীর হোসেন, আসামি আয়ুব আলী ও তার ভাইজি জামাই মিরাজসহ কয়েকজন পার্টনারে জমি বেচাকেনা করে আসছিলেন। মিরাজ মারা যাওয়ার পর থেকে দন্ত চিকিৎসক আলমগীর হোসেন ও আয়ুব আলীর সাথে টাকা পয়ষা নিয়ে গোলযোগ মীমাংষা করে দেন। কিন্তু চতুর আলমগীর হোসেন তাতে সন্তুষ্ট হতে না পেরে ২০১২ সালের ৬ নভেম্বর কালীগঞ্জ থনায় একটি জিডি করেন। যার নম্বর ১২৮৪। ওই জিডিতে থানার তৎকালীন দারোগা মাহমুদর স্বাক্ষর রয়েছে। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, আসামি আয়ুব আলী ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ১৫০ টাকার নন জুডিশিয়াল সাদা ষ্ট্যাম্পে জোর পূর্বখ স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এ জিডির ছয়মাস পর ফৌজদারী আইনের ৯৮ ধারায়  আদালতে স্ট্যাম্প উদ্ধারের মামলা করেন দন্ত চিকিৎসক আলমগীর হোসেন। পরবর্তীতে আসামি আয়ুব আলী খোঁজ খবর নিয়ে দেখেন মামলার বাদী  দন্ত চিকিৎসক আলমগীর হোসেন যে জিডির কপি জমা দিয়েছেন তা ভুয়া। এ কারণে তিনি জজ আদালতে জিডির সত্যতা যাচায় করতে একটি আবেদন করেন। জিডি প্রসঙ্গে জজ আদালত জানতে চাওয়ার পর কালীগঞ্জ থানার তৎকালীন দারোগা নাসির উদ্দীন লিখিতভাবে ১২৮৪ নং জিডির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া গেল না বলে আদালতকে জানান। অপরদিকে, ভুয়া জিডির সত্যাতা পাওয়ার পর অতিরিক্ত দায়রা জজ সৈয়দ হাবিবুর রহমান চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে বলেন, তর্কিত আদেশ ও নথি পর্যালোচনা করে বিবেচ্য বিষয়টি রিভিশনকারীর অনুক’লে নিষ্পত্তি করা হলো।  এ বিষয়ে দন্ত চিকিৎসক আলমগীর হোসেনের সাথে আলাপ করলে তিনি বলে, ওই সময় আমি থানায় গিয়ে দারোগা মাহামুদের কাছে জিডিটি করেছি। আমার জিডি ভুয়া কী সঠিক এটা আমি বলতে পারবো না। দন্ত চিকিৎসক আলমগীর হোসেন চিকিৎসা সনদ পত্র দেখতে চাইলে সে দেখাতে পারে না। অথচ কালীগঞ্জের ঢাকা ডেন্টাল সার্জারী মসজিদ মার্কেট মেইন বাস ষ্টান্ড ২য় তলা ও ছন্ধ্যা সিনেমা হল মার্কেটের  নিচ তলা ঢাকা ডেন্টাল সার্জারীতে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। দন্ত চিকিৎসক আলমগীর হোসেনের দায়ের করা ভুয়া জিডির বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান খানের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, ‘থানা থেকে আমরা রিপোর্ট দিয়েছি এ জিডির কোন অস্তিত্ব নেই মর্মে জানান। এলাকাবসি প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।