ঢাকা-১৮ আসনে সংসদ সদস্য পদ প্রত্যাশী সাবেক জেলা জজ রোকেয়া বেগম

 

মাহমুদুল হাসান সবুজ :

 

ঢাকা-১৮ আসনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সুশিক্ষিত প্রার্থী সাবেক জেলা জজ রোকেয়া বেগম। অবঃপ্রাপ্ত বিচারক কল্যাণ সমিতি বাংলাদেশ’র পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী ঢাকা-১৮ আসনে রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন করলে বাংলাদেশে প্রথম কোন জজ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবে।

ঢাকা-১৮ আসনে উপ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ থেকে ঢাকা-১৮ আসনে সংসদ সদস্য পদ প্রত্যাশী সাবেক জেলা জজ রোকেয়া বেগম। ইতোমধ্যে দল থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমাও দিয়েছেন তিনি। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় বীর প্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজী (এমপি)’র অধীনে ক্র্যাক প্লাটুনে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। অবঃপ্রাপ্ত বিচারক কল্যাণ সমিতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণে দেখা যায় কোন বিচারপতি বা বিচারক এখন পর্যন্ত সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করেননি।

তবে এবার ব্যতিক্রম হিসেবে দেখতে পাচ্ছি আমাদের অবঃপ্রাপ্ত জেলা জজ এক বোন রোকেয়া বেগম রাজনীতিতে যোগদান করেছেন। তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত থেকে দেশ ও দলের নিরলস সেবা করে যাচ্ছেন। তিনি একমাত্র প্রথম মহিলা বিচারক, যিনি সাহস করে রাজনীতির অঙ্গনে পদার্পণ করেছেন।

আমরা মনে করি কর্মজীবন শেষে বিচারকগণ রাজনীতিতে এলে রাজনীতির মান আরো উন্নত হবে এবং বিচারকের দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেশের সর্বস্তরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হবেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে হাতেখড়ি নিয়ে ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।

পেশাগত জীবনে বেগম রোকেয়া জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে আর্ন্তজাতিক মহিলা জজ এসোসিয়েশনের সদস্য তিনি। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ মহিলা জজ এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ জজ এসোসিয়েশনের সাবেক সদস্য ছিলেন। নানা পেশা থেকে ঢাকা-১৮ আসনে সংসদ সদস্য হলেও অবসরপ্রাপ্ত কোন জজ এখন পর্যন্ত এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি।যে কারণে নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন অবসরপ্রাপ্ত জজদের মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য।

সাবেক জজদের মধ্যে তিনিই একমাত্র এমপি প্রার্থী, যিনি চাকরি জীবন শেষ করে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগে যোগ দেন। উত্তরা পশ্চিম থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এ নেত্রী বর্তমানে মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন সততার সাথে। ‘উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আইন বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

এছাড়াও রোকেয়া বেগম পেশাগত ও সামাজিক কার্যক্রমে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। জনসাধারণের প্রতি তার এই উদার মানসিকতার কারণে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কমিটিতে তাকে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়। এ সম্পর্কে সাবেক জেলা জজ রোকেয়া বেগম দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আছি। এখন আমি ঢাকা-১৮ আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার আবেদন করেছি। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, তাহলে নির্বাচন করব।

না করলেও আমি দলের যেকোনো আদেশ-নির্দেশ মেনে চলবো। তিনি বলেন, ঢাকা-১৮’র জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছি। আশা করি, দল আমাকে সুবিবেচনায় রাখবে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চই আমার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত আছেন। আশাকরি তিনি আমাকে মূল্যায়ন করবেন। শিক্ষাজীবন থেকে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার কারণে জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিএনপি-জামায়াতের হাতে বহুবার নির্যাতিত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। তিনি জানান, গাজীপুরে চাকুরিরত অবস্থায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক নির্যাতিত হন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি এবং সাবেক মেয়র এ্যাডভেকেট আজমত উল্লা খান পাশে থেকে সব ধরনের সহায়তা করেছেন। এছাড়াও নারায়াণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকার কর্তৃক নির্যাতিত হন এবং মির্জা আজম এমপিকে নৈতিকভাবে আইনি সহায়তা দেওয়ায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক নির্যাতিত হন তিনি।

জানা যায়, পারিবারিক ভাবেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিবারের সদস্য রোকেয়া বেগম। পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সে দিক থেকে তার প্রত্যাশা, বঙ্গবন্ধু কন্যা আমার পারিবারিক অবস্থান, দলের প্রতি ভালোবাসা এবং বর্তমান ও অতীত জীবনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বিবেচনা করে আমাকে ঢাকা-১৮ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ দিবেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোকেয়া বেগমের প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় পটুয়াখালী জেলার বাউফলে গ্রামের বাড়িতে। পরে ঢাকা সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং ১৯৭০ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৭২ সালে ইডেন গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন তিনি।

তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবিতে (অনার্স) ভর্তি হয়ে ১৯৭৮ সালে ল’ পাশ করেন এবং আইন পেশায় নিয়োজিত হন। ১৯৮৪ সালে বিচার বিভাগে মুনসেফ হিসেবে যোগদান করে ২০১৫ সালে জেলা জজ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে আসা সম্পর্কে তিনি বলেন, পরিবারের সবাই রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ছোটবেলায় বাবা আমাদের ভাইবোনদের একসাথে বসিয়ে বঙ্গবন্ধুর আন্দোলনের কথা গল্পাকারে শোনাতেন। ইডেন মহিলা কলেজে পড়ার সময় রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আসে, তখন আমি ছাত্রলীগে যোগদান করি।

বাঙালী জাতির গর্ব হলো আওয়ামী লীগ মন্তব্য করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সব সময়ই আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমার জীবদ্দশায় আমি যতখানি দেখেছি, বুঝেছি ও শুনেছি তাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন দল সমর্থন করার প্রশ্নই আসেনা। রাজনীতিতে অংশগ্রহণে পরিবারই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিল।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমরা বড় হয়েছি। স্বামী ডা: এসএম ওয়ালীউল্লাহ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন, তিনি তৎকালীন সময়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। বাবা বৃটিশ আমলে জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। বড় ভাই মরহুম বজলুর রহমান (মুক্তিযোদ্ধা) বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধুর একান্ত অনুগত ও পার্সোনাল সিভিল বডিগার্ড, জননেত্রী শেখ হাসিনার পলিটিক্যাল লিয়াজো অফিসার ছিলেন।

এছাড়া তার ছেলে তাজওয়ার ওয়ালী ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী আইন ছাত্রপরিষদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহভাপতি পদে দায়িত্ব পালনরত আছেন। রোকেয়া বেগম বলেন, চাকরি থেকে অবসরের পর লক্ষাধিক টাকা বেতনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ এসেছিলো, এমনকি চেষ্টা করলে বিচারপতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু চাকরি জীবন ছেড়ে দলের প্রতি ভালোবাসার টানে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছি।

রোকেয়া বেগম আরও বলেন, বিভিন্ন সময় গরীব অসহায় ও দুস্থ লোকদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকি। আমার স্বামী বিভিন্ন সময় গরীব অসহায় ও দুস্থ লোকদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাব। আর এটাই আমার আমৃত্যু কামনা। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে রোকেয়া বেগম বলেন, আমি দেশ ও জনগণের কল্যাণে সারাজীবন কাজ করেছি। এখনো করে যাচ্ছি, আগামীতেও করতে চাই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশ ও দেশের জনগণের জন্য নিজেকে একজন সেবক হিসেবে নিয়োজিত রাখতে চাই। এই সেবাকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিতে চাই। ঢাকা-১৮ আসনে সংসদ সদস্য হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করে উন্নয়নের অংশীদারি হতে চাই।

বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্যতার মূল্যায়ন করে রোকেয়া বেগমকে ঢাকা-১৮ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা ঢাকা-১৮ আসনের জনগণের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের উজ্জ্বল বার্তা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নিজেকে একটি বলিষ্ঠ ভূমিকায় রেখে দেশ ও জনগণের খেদমত করতে চান সাবেক জেলা জজ রোকেয়া বেগম।