Amar Praner Bangladesh

তাড়াইল সাচাইল ইউপি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইম দাদ খান নওশাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

 

(কোন কোন কারণে প্রার্থিতা বাদ পড়তে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রার্থীর নামে যদি কোনো ফৌজদারি মামলা থাকে অথবা প্রার্থী যদি কোনো তথ্য গোপন করেন তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। যদি প্রার্থী অভিযুক্ত আসামি হয় বা ঋণ খেলাপি হয়, সেক্ষেত্রে তার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। সাইম দাদ খান নওশাদের বিরুদ্ধে সি আর মামলা নং- ১৮২ (১)/২০ ও ১৮৩ (১)/২০ চলমান রয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগ আছে বলে জানা যায়।)

 

নিজস্ব প্রতিনিধি :

 

কিশোরগঞ্জ তাড়াইল সাচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইম দাদ খান নওশাদ (জাতীয় পার্টি প্রার্থী)’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তার প্রতিনিয়ত দল ত্যাগ নিয়ে এলাকার জনগণের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ছাত্রলীগের নামধারী এই নেতা সাইম দাদ খান নওশাদ ছিলেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। পরপর কয়েকবার আওয়ামীলীগ থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন চাইলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তার এলাকার জনগণের সাথে তার প্রতারণার বিষয় জানতে পেরে তাকে মনোনয়ন না দিলে, সাইম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যায়।

পরবর্তীতে নির্লজ্জ বেহায়া এই সাইম দাদ খান নওশাদ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে প্রতারণা করে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রং বদলানো সাইমকে নিয়ে এলাকার জনগণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যে স্বার্থের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে ছাড়তে পারে সে স্বার্থের জন্য জনগণের সাথেও প্রতারণা করতে দ্বিধাবোধ করবেনা। তার এলাকা ঘুরে পাওয়া যায় বিশাল প্রতারণার চিত্র। পূর্ব দড়িজাহাঙ্গীরপুর (পং পাচিহা)’র মৃত রুকন উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে মোঃ নাজমুল আলমের নিকট থেকে ১৪ লক্ষ টাকা ছলনা করে ঋণ নিয়ে দুটি চেক ধরিয়ে দেয়।

অনেকদিন হলে টাকা ফেরৎ না পেয়ে নাজমুল আলম মোঃ সাইম দাদ খান নওশাদের বিরুদ্ধে মাননীয় জুডিশ্যিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমল গ্রহণকারী ভার্চুয়াল আদালত নং-৬ কিশোরগঞ্জে নিগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট এ্যাক্ট এর ১৩৮ ধারায় দুটি মামলা করেন, সিআর মামলা নং- ১৮২ (১)/২০২০ ও ১৮৩ (১)/২০২০, যা চলমান। এলাকায় অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসে আরোও অনেক সাইমের প্রতারণার গল্প। জৈনিক ইমানের নিকট থেকে গরু বিক্রির টাকা নিয়েছে ৬ বছর হয়েছে টাকা ফেরৎ দিচ্ছেনা।

আলীবউ পাবে ১ লক্ষ টাকা, আউয়াল পাবে ৪০ হাজার টাকা, হাসান মেম্বার গ্রাম দশদ্রোন পাবে ৭০ হাজার, ইমানের মা পাবে ৬০ হাজার, ইসমাইল গ্রাম দড়িজাহাঙ্গীরপুর পাবে ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, মোল্লা ভাই গ্রাম দশদ্রোন পাবে ১ লক্ষ, মালেকা দশদ্রোন পাবে ৫০ হাজার, ভুকোলা বেগম গ্রাম দড়িজাহাঙ্গীরপুর পাবে ৬০ হাজার, আব্দুস সালাম গ্রাম লাখপুর পাবে ১ লক্ষ, রুবেল লাখপুর পাবে ৫০ হাজার, শফিক তাড়াইল বাজার পাবে ১ লক্ষ টাকা।

এভাবে তার গ্রাম ও আশেপাশের গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষের কাছ থেকে মিষ্টি কথা বলে টাকা নিয়ে প্রতারণা করাই সাইম দাদ খান নওশাদের প্রধান কাজ। নাম না জানাতে ইচ্ছুক তাড়াইল সাচাইল ইউনিয়নের একজন প্রবীণ ব্যক্তি দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে জানান, সাইম দাদ খান নওশাদ প্রকৃত পক্ষেই একজন প্রতারক। এরকম ব্যক্তি কিভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করার দুঃসাহস দেখায় বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী যাচাই বাচাই কমিটির কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে আপনারা সাইমের মতো প্রতারকদের মনোনয়ন বাতিল করবেন।

কারণ এরকম প্রতারকরা জনপ্রতিনিধি হলে সরকারের বরাদ্ধকৃত টাকা ও সকল সুবিধা আত্মসাৎ করে জনগণের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করবে। অনেকেরই মনে নানা ধরনের প্রশ্ন থাকে মনোনয়ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কোন বিষয়গুলোকে আমলে নেয়। আবার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ারও নানা কারণ থাকে। এ বিষয়ে প্রাণের বাংলাদেশের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশন। জেলা প্রশাসক ও দুজন বিভাগীয় কমিশনার এই মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তারা মূলত মনোনয়নপত্রে যে তথ্যগুলো চাওয়া হয়েছে, প্রার্থীরা সেগুলো জমা দিয়েছে কিনা সেগুলো যাচাই করেন।

মনোনয়ন পত্রের সাথে প্রার্থীর নাম, পিতা-মাতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, প্রস্তাবকের নাম, সমর্থকের নাম, প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর, হলফনামা যথাযথভাবে পূরণ করেছেন কিনা, প্রার্থীর নামে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কিনা এবং প্রার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ সংযুক্ত করা আছে কিনা সেগুলো তারা যাচাই করেন। কোন কোন কারণে প্রার্থিতা বাদ পড়তে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রার্থীর নামে যদি কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে অথবা প্রার্থী যদি কোনো তথ্য গোপন করেন তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।

যদি প্রার্থী অভিযুক্ত আসামি হয় বা ঋণ খেলাপি হয়, সেক্ষেত্রে তার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। আবার মনোনয়ন পত্রে ভুলবশত প্রার্থী যদি স্বাক্ষর না দেন, তাহলেও তার প্রার্থিতা বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকে। নাম বা ঠিকানা বা ছোটখাটো ভুলত্রুটিকে উপেক্ষা করার নির্দেশ দিলেও বড় ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

প্রার্থীর সম্পদের হিসাব নিয়ে সমালোচনা থাকার কারণ কি? সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রার্থীর হলফনামায় উল্লেখিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব নিয়ে সবসময়ই আলোচনা তৈরি হয় । অধিকাংশ প্রার্থী তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির যে তালিকা হলফনামায় প্রকাশ করেন নির্বাচনের আগে তার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কোন কোন বিষয় বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন আসলে প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই-বাছাই করে থাকে? হলফনামা আকারে একজন প্রার্থী স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব এফিডেভিট করে দেন।

প্রতিবছর আয়ের বিপরীতে আয়কর রিটার্ন সার্টিফিকেটও তাকে জমা দিতে হয়। তবে নির্বাচন কমিশন সাধারণত হলফনামায় উল্লেখ করা সম্পদের পরিমাণের সাথে তার প্রকৃত সম্পদের হিসাব সাধারণত যাচাই করে না। দুর্নীতি দমন কমিশন বা কর বিভাগ চাইলে এটি মিলিয়ে দেখতে পারে। যদি মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ আছে কি? যদি একজন রিটার্নিং অফিসার একজন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করেন, সেক্ষেত্রে প্রার্থীর সামনে নির্বাচনের সুযোগ থাকে।

প্রার্থী চাইলে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে আপিল করতে পারেন। আর নির্বাচন কমিশনও যদি প্রার্থীর আবেদন বাতিল করে দেয়, তখন প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করতে পারবেন। পরে হাইকোর্ট যদি তার আবেদন মঞ্জুর করেন, ঐ প্রার্থী তখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ বিষয় নিয়ে তাড়াইল সাচাইল ইউনিয়ন পরিষদ জাতীয় পার্টির ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইম দাদ খান নওশাদের সাথে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ অনেকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।