Amar Praner Bangladesh

তুরাগে অবৈধদের শায়েস্তা করতে বৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

 

মনির হোসেন (শিশির) :

রাজধানীর তুরাগে দিয়াবাড়ি এলাকায় অবৈধ সংযোগ চারদিন হলো গ্যাসলাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। তিতাসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গত মঙ্গলবার থেকে অবৈধ গ্রাহকদের শায়েস্তা করতে গ্যাসের গ্যাসের মূল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তিতাস কর্তৃপক। আর এতে বিপাকে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বৈধ গ্রাহকরা।

গ্রাহকরা বলছেন, তিতাসের কাণ্ডজ্ঞানহীন এমন কাণ্ডে বৈধ গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিতাসের তরফ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বৈধ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এতে বৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীরা সমস্যায় পড়ছেন। বিষয়টি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে কোনটা বৈধ এবং কোনটা অবৈধ আইডেন্টিফাই করা যাচ্ছে না। এজন্য গ্যাসের মূল সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকরা নতুন করে দরখাস্ত দিলে যাচাই-বাছাই করে বৈধ সংযোগ চালু করা হবে।

সংযোগ বন্ধ করার কারণে দিয়াবাড়ি, তারার টেক, নলভোগ, ফুলবাড়িয়া, নয়ানগরসহ আশেপাশের হাজারো বৈধ গ্রাহক গ্যাস পাচ্ছেন না। গত তিনদিন ধরে বাড়িতে রান্না করতে পারছেন না এবং শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনসেড বাড়ি, সেমিপাকা বাড়ি, বহুতল বাড়িতেও গ্যাস নেই। এমনকী হোটেলেও গ্যাস নেই, আর এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা।

দিয়াবাড়ির বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম জানান, তারার টেক, নলভোগ, ফুলবাড়িয়া, নয়ানগরসহ আশেপাশের কোনও এলাকায় এখন গ্যাস নেই। প্রায় চারদিন হতে চললো গ্যাস নাই। ভোগান্তি দেখারও কেউ নেই। কে দেখবে এসব?

ভাড়াটিয়ারা বলছেন, আমরা বছরের পর বছর এখানে ভাড়া আছি, কখনো জানতেই পারিনি আমরা মাসিক বিল পরিশোধ করে যে গ্যাস ব্যবহার করছি তা বৈধ না অবৈধ।

অনেক বাড়িওয়ালা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের বৈধ গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দৌড়-ঝাঁপ করেও কোন সমাধান পাচ্ছি না। এছাড়া একদিকে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং, তার ওপরে গ্যাস সংকট। আমাদের ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে ও বয়োবৃদ্ধ মানুষগুলো নিয়ে কোথায় যাবো, কী করবো।

নলভোগ এলাকার বাড়ির মালিক ফারুক হোসেন জানান, গ্যাস অফিসের লোকজন মাসিক মাসোয়ারা নিয়ে কিছু কিছু অবৈধ সংযোগ চালিয়ে আসছেন। এই এলাকায় কিছু অবৈধ গ্যাস সংযোগ আছে, কিন্তু এই দায়তো সাধারণ বাসিন্দারা নেবে না। তিতাসগ্যাস কর্তৃপক্ষ বৈধ ও অবৈধ যাচাই-বাছাই করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হতো না। আমার নিজের বাড়ির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন। আমি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি, তারা বলছে-আমরা বিষয়টি দেখতেছি।
তিতাসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন,যাদের বৈধ সংযোগের কাগজ নেই। তিতাস বারবার অভিযান চালিয়েও কোনও সুরাহা করতে পারেনি। এখন তুরাগের যে সব এলাকার লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, এখন তারা অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করবে না—এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।

জ্বালানি বিভাগ সম্প্রতি অবৈধ সংযোগের বিষয়ে অনেক কঠোর হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের তরফ থেকে নিয়মিত বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। সরকার রাজস্ব হারানোর সঙ্গে সঙ্গে উচ্চদরের এলএনজি আমদানির ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে দুই দিক থেকেই লোকসান হচ্ছে। সঙ্গত কারণে সরকার সব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে কঠোর হয়েছে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এনামূল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। গ্যাস সংযোগকারীরা আমাদের কাছে নতুন করে দরখাস্ত দিলে আমরা যাচাই-বাছাই করে যেসব সংযোগগুলি বৈধ সেগুলো নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে ওই এলাকার অধিকাংশ গ্যাস সংযোগ অবৈধ।’