Amar Praner Bangladesh

তুরাগে তাকওয়া টেলিকমের ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমানের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব অনেক পরিবার

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

 

তুরাগে তাকওয়া টেলিকমের ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমানের প্রতারণা কাছে সবাই সর্বস্বান্ত । কয়েকমাস পূর্বে কয়েকটি ছোট দোকান এবং একটি রেজিস্ট্রেশন বিহীন সমবায় সমিতির মাধ্যমে রাজধানী তুরাগের ভাটুলিয়া এলাকা থেকে প্রায় শ্রমজীবী মানুষের সঞ্চয়ের প্রায় ৬০-৭০ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও এর সহযোগী তার বড় ভাই সুমন এর প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য ।

বর্তমানে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে এই প্রতারক চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা তার আপন খালাতো ভাই মো : আনোয়ারের আশ্রয়ে সে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা মাত্রা বাড়িয়ে বিদ্রুর্পে চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসলামিক লেবাসধারী ছিলেন বিধায়, একের পর এক প্রতারণা করেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

জানা যায়, অত্র এলাকার কুলি, ফুটপাতের দোকানি, এমনকি ভিক্ষুকদের জমানো টাকা আত্মসাৎ করেছে এ প্রতারক চক্র।
আর এ চক্রের উদ্দেশ্যে তারা কিছুদিন পরপর ভিন্ন ভিন্ন নামে বিকাশের ব্যবসায়ী সেজে সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড লাগিয়ে ফাঁদে ফেলে এই শ্রমজীবী মানুষকে। এ চক্রের খপ্পরে পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের শেষ সঞ্চয়টুকু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে।
ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনকও বটে! এ বিষয়ে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা উদ্ধারে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। দেশে সমবায় সমিতির নামে বেআইনিভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে মানুষের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা নতুন নয়। ইতোমধ্যে এ ধরনের বেশকিছু ঘটনায় বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ধরনের অবৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারও নিয়েছে নানা পদক্ষেপ। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তারপরও এমন তথাকথিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয়, এবার তারা ফাঁদ পেতেছে নিম্ন আয়ের মানুষের দিকে। বোঝা যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে এই শ্রেণির মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নেয়া হয়েছে।

শ্রমজীবী মানুষের জমানো টাকা দ্বিগুণ করার এবং মোটা অঙ্কের ঋণ দেয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে তাদের শেষ সম্বলটুকু। কারণ, তারা জানে না এ সংক্রান্ত আইন।

তারা খোঁজ নিয়ে দেখে না, যারা তাদের এ ধরনের প্রলোভন দেখিয়েছে, তাদের এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর অনুমতি আছে কি না। বাস্তবতা হল, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও সমবায় সমিতি আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘ব্যাংক’ হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।

কিন্তু বিভিন্ন সমবায়ী প্রতিষ্ঠানকে আইন অমান্য করে আমানতের উচ্চ সুদের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আমানত নিতে দেখা যায়। আগে এ ধরনের অনেক সমবায়ী প্রতিষ্ঠান তাদের নামের শেষে বেআইনিভাবে ‘ব্যাংক’ শব্দটি ব্যবহার করত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাপারে কঠোরতা আরোপের পর সমবায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক শব্দের ব্যবহার বন্ধ করেছে। তবে তাদের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড যে বন্ধ হয়নি, আলোচ্য ঘটনাই তার প্রমাণ।

তাই আমরা মনে করি, ভুয়া সমবায় সমিতিগুলোকে চিহ্নিত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এ ব্যাপারে সমবায় অধিদফতরকে তৎপর হতে হবে। সমবায় নামধারী ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেও নিতে হবে পদক্ষেপ।