তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ঢাকায় ১৬টি ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিক

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

মানুষের টাকা নিয়ে প্লট দিতে না পারলেও মোস্তফা কামাল শাহীন নিজে বহু প্লট ও ফ্ল্য্যাটের মালিক। মিরপুরের দুয়ারী পাড়ায় ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকে তিন নম্বর সড়কে একটি প্লট, একই এলাকায় ৪০ নম্বর সড়কে ১২ নম্বর প্লট, কুষ্টিয়া হাউজিং এস্টেটের ডি ব্লকে ২০ নম্বর সড়কের ১/১ প্লট, কক্সবাজার হাউজিং স্টেটের চার নম্বর ভবনে একটি ফ্ল্যাট, তার আপন ভাই আরিফ হোসেনের নামে আট নম্বর সেকশনে ১৬ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর প্লট এবং স্ত্রীসহ নামে বেনামে ১৬টি প্লট ও ফ্ল্যাটের তথ্যও রয়েছে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের কাছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তৃতীয় শ্রেণীর এক কর্মচারী ঢাকায় ১৬টি ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিক! সরকারি জমি ও প্লট পাইয়ে দেয়ার নামে কমপক্ষে ৪২ ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে সংস্থার সম্পত্তি বিভাগের কর্মচারী মোস্তফা কামাল শাহীনের বিরুদ্ধে। বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি সবই আছে তার। তার বিপুল সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

চিকিৎসক দম্পতি হোসনেয়ারা ও আমিনুল ইসলাম একটি সরকারি প্লট পেতে ২৮ লাখ টাকা দিয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর এলাকার দায়িত্বে থাকা কর্মচারী মোস্তফা কামাল শাহীন ও তার সহযোগী জামাল মাস্টারকে। মিরপুরের রুপনগর দুয়ারী পাড়ার সেকশন ৮ এর ’খ’ ব্লকে একটি প্লট দেয়ার কথা বলে ২০১৪ সালে এই টাকা নেন তারা। কিন্তু ছয় বছরেও প্লট পাননি এই দম্পতি।

একইভাবে প্রতারণার শিকার হন এই এলাকার, মোহাম্মদ মনির, খোরশেদ আলম, ইসমাইল কাজী, আমিনুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, এসএম নেকবার আলী, আব্বাস আলী, শমসের আলী জিয়াসহ ৪২ ব্যক্তি। তাদের কাছ থেকে কামাল-জামাল হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার রূপনগরের বাসায় গেলে দেখা না করে আড়ালে চলে যান শাহিন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার অবৈধ সম্পদের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের সহকারি পরিচালক সাঈদুজ্জামান নন্দন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মিলেছে, অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকের ঢাকা-১ শাখায় রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। তাদের সম্পত্তির হিসেবও চাওয়া হয়েছে।

রূপনগর থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণার অভিযোগে শাহীন ও জামাল মাস্টারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে।