Amar Praner Bangladesh

ত্রিশালের ব্রাহ্মপুত্র নদী থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন

 

 

সামছুদ্দিন জুয়েলঃ

 

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চর মাদাখালী বালিপাড়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। বাদল চেয়ারম্যান, মোঃ হারুন, ও মোখলেছুর রহমান এর বিরুদ্ধে।

প্রতিদিন ৪০-৫০টি কাঁকড়া ও বালুবাহী গাড়ি দিয়ে নদী থেকে বালু পরিবহন করছে একটি চক্র। যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড়ের চলমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হুমকির মুখে ও নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষের বসতভিটা ও আবাদি জমি ভাঙনের সম্মুখিন হবে।

এলাকাবাসী জানান, নিজের ইচ্ছেমতো বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বাদল চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গবদ্ধ একদল চক্র পাশেই আমাদের বসতি স্থাপনা এরা মসজিদ মন্দির মুসলিম ও হিন্দু কবরস্থান কিছুই মানেননি।

বালু উত্তোলনের মাধ্যমে একদল মানুষ অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে আর সরকারের কয়েকশ’ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হুমকির মুখে পড়ছে। ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে যত্রতত্রভাবে বালু উত্তোলন করলে নদীর গতি পরিবর্তিত হয় এবং নদীর পাড় ভেঙে যায়। নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে প্রকৃতিরও ক্ষতি হচ্ছে।

এভাবে বালু তোলা অব্যাহত থাকলে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই শত শত বাড়িঘর ও ফসলি জমি ব্রহ্মপুত্র নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আর প্রতিদিন কাঁকড়া (ট্রাক্টর) ও ট্রাকে করে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের কারণে রাস্তার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সেই সাথে নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজনের জমি দখল করে কাঁকড়া ও ট্রাক চলাচলের অভিযোগও রয়েছে। দিন-রাতে ৪০-৫০টি বালুবাহী গাড়ি দিয়ে নদী থেকে বালু পরিবহন করা হয়। একটি গাড়ি প্রতিদিন ২০/৩০ বার বালু পরিবহন করে। সে হিসেবে একটি স্থান থেকে প্রতিদিন বালু বিক্রি হয় লক্ষাধিক টাকার। এ হিসেবে শুধুমাত্র ৭ মাস বালুর ব্যবসা চললে বছরে কোটি কোটি টাকার ওপরে বালু বিক্রি করে চক্রটি।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি নদীর পাড় সহ সরকারি খাস জমি হিন্দুদের চিতা খোলা কেটে নিয়ে যাচ্ছে চেয়ারম্যান বাদল।
চেয়ারম্যান এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে জানান আমি বালু কিনেছি ঠিকাদার এর কাছথেকে।

ঠিকাদার শুধু বিআইডব্লিউটিএর উত্তোলিত বালু বিক্রয় করতে পারবেন। কিন্তু এখানে ভেকু দিয়ে অবৈধ ভাবে নদীর পাড় গভীর খনন চলছে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননী চেয়ারম্যান বাদল। ঠিকাদার মোঃ মোখলেছুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা যায়নি।

বালু ব্যবসায়ী হারুন মিয়া বলেন, আমার মতো অনেকেই বালু উত্তোলন করছে। তাছাড়া আমি একা না, এই নদী থেকে সবাই বালু উত্তোলন করছে।

উপজেলা আওয়ামিলীগ এর এক নেতা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আমি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অনুরোধ করেছি, কিন্তু কাজ হয়নি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার বলেন, বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত আছে। তাছাড়া রাতে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। ট্রাস্কফোর্সের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।