মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মিরপুর এক নাম্বারের ফুটপাত থেকে কবিরের লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি নাম ঠিকানা লিখতে পারেনা সাংবাদিকে দেশ সয়লাব গ্যাস ও বিদ্যুতের অতিরিক্ত দাম নিয়ে সংসারের হিসাব সমন্বয় করতে গলদঘর্ম দেশবাসী ভারত থেকে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন পথে প্রবেশ করছে মাদক ৮০টি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ করার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন অর্থ ও ভূমি আত্মসাৎ এ সিদ্ধহস্থ চুয়াডাঙ্গার প্রতারক বাচ্চু মিয়া নির্লজ্জ ও বেপরোয়া রাজধানীর গুলশান-বনানীতে স্পার অন্তরালে চলছে অনৈতিক কার্যকলাপ ও মাদক ব্যবসা তিতাসের ভুয়া ম্যাজিষ্ট্রেট’র সংবাদ সামনে আসায় বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সৃজনশীল সৃষ্টি এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন) শ্রমিক লীগের ৫৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি রুবেলকে হত্যার চেষ্টা : থানায় অভিযোগ

দিনাজপুরে রেলওয়ে অসাধু কর্মচারীদের দুর্নীতিতে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৮
  • ৩৪ Time View

নূর ইসলাম নয়ন, দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের কিছু অসাধু রেলওয়ে কর্মচারী-কর্মকর্তার যোগসাজসে ও দুর্নীতির কারণে সরকার হারাচ্ছে বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। তারা সরকারি রেলওয়ের স্লিপার, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সহ থেকে শুরু করে বিক্রি করছে সবই। সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে ঘর বরাদ্দ থাকলেও সেখানে বসবাস করছে বহিরাগতরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তারা রেলওয়ে কোয়াটারে থাকে না। কিছু অসাধু রেলওয়ে কর্মচারী কর্মকর্তারা দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে ভাড়া দিয়েছে ঐ সমস্ত সরকারি বাড়ি/ কোয়ারটারগুলো। এছাড়াও রয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। রেলওয়ে প্লাটফর্মের আশেপাশে গড়ে উঠেছে কিছু বাসাবাড়ী। যা ইতোমধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সুধী মহলের প্রশ্ন এ ঘরবাড়িগুলো কার ? ওভার ব্রীজ থেকে শুরু করে রেলওয়ের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০টির মতো অলিখিত বাড়ি। শুধু বাড়ি নয় এখানে প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগও। কে করেছে এই বাড়ি কিংবা কে দিয়েছে এই বিদ্যুৎ সংযোগ? দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন সুপারেন্টটেনটেন্ড (এস.এস) আব্দুল জব্বারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আমি এ সব বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না। আপনি আইওডাব্লিউর কাছে বিস্তারিত জানতে পারেন। এ সব আমার আওতায় পড়ে না। দিনাজপুর রেলওয়ের আইওডাব্লিউ মোঃ তারেকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন উত্তর দিতে রাজী নন।
যুগের পর যুগ একই জায়গায় চাকুরী করার সুবাদে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। রেলওয়ে কোয়াটারে অবৈধভাবে বেসরকাররি লোকদের ভাড়া প্রদান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, চুক্তিভিত্তিক বেসরকারিভাবে ট্রেন পরিচালনা ষ্টেশনের টয়লেট নিয়ে ব্যবসা, প্লাটফর্মে চায়ের স্টলগুলির নিয়মের কোন বালাই নেই-চলছে কালো বাজারে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রির মহাউৎসব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লাইন খালাসি শ্রী শিব প্রসাদ ৬ বছর আগে অবসর গ্রহণ করেছেন। তবুও সরকারি রেলওয়ে কোয়াটার জবর দখল করে রেখেছেন। নিয়ম না থাকলেও অনিয়ম করেই রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, দিনাজপুর শাখা সভাপতির পদ ধরে রেখেছেন শিব প্রসাদ। শ্রমনীতি অনুযায়ী সাংগঠনিক উক্ত পদে শুধুমাত্র কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা সিলেকশন বা ইলেকশন এর মাধ্যমে পদাধিকার পান। আনোয়ারুল ইসলাম মঞ্জু এস. এম গ্রেড-৪, যুগের পর যুগ ধরে দিনাজপুর রেল ষ্টেশনে রাজনৈতক ছত্রছায়ায় অবস্থান করে দুর্নীতি ও অনিয়মের স্বর্গরাজ্যের হোতা সেজেছেন। শিব ও মঞ্জু গ্রুপের ভয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুখ খুলতে সাহস পান না। রেল শ্রমিকরা সহজেই বাসা এলোটমেন্ট পান না। যদিও কোনোভাবে পেয়ে যান তাহলে কৌশলে তাদের বিতাড়িত করা হয়। কারণ বেশি ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে পাবলিকের নিকট টাকা উত্তোলন করা হয়। পাবলিককে রেলওয়ের বাসা ভাড়া দেওয়ার কয়টি নমুনা স্বরূপ সরকারি কোয়াটার নম্বর ও নাম তুলে ধরা হলো: (১) টি-৬৪ ডি, সুদ ব্যবসায়ী বুড়ি ও মঞ্জু মাদক বিক্রেতা (দুই পরিবার) (২) ৫৭ এবিসি মহরি ইসমাইল, (৩) ৪৯ এবিডি নিজাম, কাপড় ব্যবসায়ী (৪) ৬০ ই ব্লক এবিসি সুদ ও ভারতীয় কাপড় ব্যবসায়ী শহিদুল, মাদক ব্যবসায়ী আঞ্জু। দিনাজপুর রেলওয়ে কর্মকর্তা আই.ও.ডাব্লুউ মোঃ তারেক জানান, মোট কোয়াটার দিনাজপুর রংপুর খোলাহাটি, মিরবাগ ও বিরলসহ ৭১টি। তার মধ্যে ট্রাফিক কোয়াটার ৩৪টি, ইঞ্জিনিয়ারিং কোয়াটার ৩৭টি, কোয়াটারগুলিতে বেসরকারি লোকজনদের ভাড়া নিয়ে বসবাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।
দিনাজপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে মূল বিদ্যুৎ মিটার সংরক্ষিত আছে। কিন্তু জ্বলছে হিটার, ঘুরছেনা মিটার। অবাক মিস্ত্রি লুৎফর রহমান। সবাই তাকে লুটপাট মিস্ত্রি বলেই ডাকে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে বেশি বেশি বিদ্যুৎ খরচ হওয়ায় প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এ ব্যাপারে ইলেকট্রিক ফোরম্যান রফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি শিব-মঞ্জু (এস.এম) গ্রুপের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ১১ মার্চ ২০১৮ হতে বেসরকারি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাহাত ও রিয়ন এন্টারপ্রাইজ পরিচালনাকারী কাঞ্চন ও উত্তরবঙ্গ মেইল ট্রেন-এস. এম. গ্রেড-ফোর আনোয়ারুল ইসলাম মঞ্জু সরকারি চাকুরী করার পাশাপাশি বেসরকারি কাউন্টারের টিকিট বিক্রির দায়িত্বও নিয়েছেন কোন আইনে ? এ ব্যাপারে ২২ মার্চ ২০১৮ ডিভিশনাল ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এই বিষয়ে অবগত নন বলে জানান। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে দিনাজপুর রেলষ্টেশনে। কিছুদিন আগে অলিখিতভাবে আন্তঃনগর ট্রেনের ৩টি কালোবাজারী টিকিটের টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। প্রথম টেন্ডার সরকারি কর্মচারী এস. এম. গ্রুপ, দ্বিতীয় টেন্ডার মানিক-রতন, ষষ্টিতলা গ্রুপ, তৃতীয় টেন্ডার পেয়েছেন ডাউয়া -আনিস গ্রুপ। ইতোপূর্বে তাদের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যা স্থানীয় প্রশাসন আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সম্পর্কে অবগত আছে। সরকারী রাজস্ব বাঁচাতে অসাধু কর্মকর্তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল সহ রেল মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এই সাইটের কোন লেখা কপি পেস্ট করা আইনত দন্ডনীয়