Amar Praner Bangladesh

দুই দিক থেকে পথ বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

 

 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

 

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ছিটরাবাইটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পথ দুই দিক থেকে বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, স্কুলে যাতায়াতের পশ্চিম দিকে জনসাধারণের যাতায়াতের পথকে নিজেদের দাবি করে সম্প্রতি বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দা দুলাল মিয়া। এর আগে বিদ্যালয়ে প্রবেশের পূর্ব দিকের সড়কটিও নিজেদের দাবি করে ঢেউটিন ও পাটকাঠির বেড়া (চ্যাকার) দিয়ে বন্ধ করে দেয় একই এলাকার আব্দুল কাদের ও তার ভাইয়েরা। এমনকি তারা সড়কের মাটি কেটে সমান করে আবাদি জমিতে ফেলেছে। পাশাপাশি চলাচল বন্ধ করতে তৈরি করেছেন গভীর নালা।

এমতাবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। একই সাথে এ ঘটনায় একপ্রকার অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বিদ্যালয়ের আশপাশে বসবাসকারী প্রায় শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয় মাঠের মধ্যদিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমগামী ওই সড়ক দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। বিদ্যালয় সংলগ্ন ছিট রাবাইটারী গ্রামের শতাধিক পরিবারের লোকজনও পার্শ্ববর্তী নেওয়াশী বাজারসহ উপজেলা সদরে যাতায়াত করে একই পথ ধরেই। তবে মাসখানেক আগে মাঠের পূর্ব দিকে বেড়া দিয়ে বন্ধ করলেও পশ্চিম দিক দিয়ে যাতায়াত চলত। কিন্তু গত মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুলাল মিয়া লোকজন নিয়ে ওই সড়কটির মাটি কেটে জমিতে ফেলেন। একই সাথে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক বন্ধ করে দেন। ফলে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের পথ দুই দিক থেকেই বন্ধ হয়ে যায়।

এ দিকে, বিকল্প সড়ক না থাকায় জমির আইল, সুপারি বাগান ও বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে সড়ক না থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে অনেকাংশে। ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা খাতুন, মাসুম মিয়া ও রিপন মিয়া জানায়, স্কুলের সামনের রাস্তা বন্ধ থাকলেও আমরা পেছনের রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসতাম। কিন্তু গতকাল সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যের জমির আইল দিয়ে হাঁটলে জমির মালিক গালিগালাজ করে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল আসা ছেড়ে দিয়েছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা আলহাজ্ব মেছের আলী, রহমত আলী ও খয়ের উল্ল্যা জানান, জন্ম থেকে ওই রাস্তা দিয়েই চলাচল করছি। এখন হঠাৎ করে তারা ওই জমির মালিকানা দাবি করে সামনে-পেছনে দুইপাশ দিয়ে বেড়া দিয়ে বন্ধ করেছে।

এ দিকে, সড়কের জমির মালিকানা দাবিকারী মো. আব্দুর কাদের ও দুলাল মিয়া জানান, বিদ্যালয়ের পূর্ব পার্শ্বে রেকর্ডি রাস্তা থাকলেও মানুষ সেটি দিয়ে চলাচল না করে আমাদের জমি দিয়ে হাঁটে। তাই বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, রাস্তা বন্ধ করার ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এরশাদুল হক জানান, এ বিষয়ে এরই মধ্যে অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত বিষয়টিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।