রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

দুরন্ত বিপ্লবের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ৬

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৯ Time View

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কৃষি খামারি দুরন্ত বিপ্লব বুড়িগঙ্গা পাড়ি দেয়ার সময় তার নৌকাকে ধাক্কা দেওয়া মর্নিংসান-৫ লঞ্চের দুই চালকসহ (মাস্টার) ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।

রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, দুরন্ত বিপ্লবকে হত্যা করা হয়নি, তিনি অবহেলাজনিত দুর্ঘটনায় মৃত্যুর শিকার।

মশিউর রহমান বলেন, দুরন্ত বিপ্লব গত ৭ নভেম্বর কেরানীগঞ্জ কোনাখোলা এলাকা থেকে জিঞ্জিরা সোয়ারীঘাট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।

ওই ঘটনায় পিবিআই ও ডিবি লালবাগ বিভাগ ছায়া তদন্ত করেছে। আমরা ভিকটিমের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি। সংশ্লিষ্ট এলাকার লঞ্চ, নৌকা, খেয়াঘাটের ইজাদার ও মাঝিদের সঙ্গে কথা বলি। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের মুভমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।

তিনি বলেন, মামলার ছায়া তদন্ত চলাকালে ডিবি লালবাগ বিভাগের একাধিক টিম ঢাকা মহানগরী এবং কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে বিপ্লবের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত মর্নিংসান-৫ লঞ্চের ৬ জন কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিসি মশিউর রহমান বলেন, ছায়া তদন্ত করতে গিয়ে আমরা নানাভাবে জানার চেষ্টা করেছি, দুরন্ত বিপ্লবের মৃত্যু রাজনৈতিক কারণে নাকি শত্রুতাজনিত। আমরা কোনো শত্রুর সন্ধান পাইনি। আমরা জেনেছি তিনি নির্ঝঞ্জাট মানুষ ছিলেন। যদিও তার পারিবারিক ঝামেলা ছিল। তিনি কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা এলাকায় একা থাকতেন। তার নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করতেন। সোনামাটিতে একটি এগ্রোফার্ম পরিচালনা করতেন তিনি। সেখানকার বিভিন্ন পণ্য তিনি প্রতিদিনই ঢাকায় পাঠাতেন।

নিখোঁজের দিন দুরন্ত বিপ্লব তার কর্মচারী হেলালকে সঙ্গে নিয়ে বিকাল ৪টা ৪৪ মিনিটের দিকে কুরিয়ার সার্ভিস বয় গোলাম রাব্বানীর কাছে কিছু সবজির প্যাকেট হস্তান্তর করে বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটের দিকে নূর ফিলিং স্টেশনের কাছাকাছি রাস্তায় ঢাকা থ ১১-৫৮৭৩ সিএনজি অটোরিকশায় ওঠেন।

অটোরিকশাচালক বিল্লালের ভাষ্য মতে, সন্ধ্যা ৫টা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের দিকে তাকে জিনজিরা ঘাটে নামিয়ে দেওয়া হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিজিটাল মুভমেন্ট বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত হয়, জিনজিরাঘাট ও কামরাঙ্গীরচরের মুসলিমবাগ এলাকার নদীর পাড় এলাকায় ভিকটিম বিপ্লবের সর্বশেষ অবস্থান ছিল। এখানে তিনি অবস্থান করেও কুরিয়ার সার্ভিস বয় গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে পাঠানো সবজি নিয়ে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন।

জিনজিরা ঘাট থেকে সোয়ারীঘাটে চলাচল করা খেয়া নৌকার মাঝি শামসু মিয়ার তথ্য মতে, মাগরিবের নামাজের আগে-পরে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে তার নৌকা মাঝ নদীতে এলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া মর্নিং সান-৫ লঞ্চ সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তলিয়ে যায়। যাত্রীরা পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে অন্য নৌকা এসে কয়েকজনকে উদ্ধার করতে পারলেও একজন ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া যাত্রীই নিহত দুবন্ত বিপ্লব বলে জানা যায়।

লঞ্চের কর্মচারীদের অবহেলার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সেজন্য তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে ডিসি মশিউর রহমান বলেন, দূর থেকে নৌকার গতিবিধি দেখার কথা। নৌকা যাচ্ছিল আড়াআড়িভাবে, লঞ্চ যাচ্ছিল সোজা। লঞ্চের তো নৌকাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেই মাপ তাদের জানার কথা। নৌকা লঞ্চকে ধাক্কা দিতে পারে না। লঞ্চই নৌকাকে ধাক্কা দিয়েছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা সেটি স্বীকারও করেছেন। ধাক্কা দিয়ে চলে যাওয়ার পর দূরে গিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে তারা দেখেছে সেখানে আসলে কী ঘটেছে। ততক্ষণে নৌকা তলিয়ে গেছে। নৌকা ডুবিতেই যে বিপ্লবের মৃত্যু হয়েছে তা তার জুতা উদ্ধার এবং মোবাইল টাওয়ারের সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী স্পষ্ট হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category