Amar Praner Bangladesh

দেশের বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে ফুটপাত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা

 

আনিছ মাহমুদ লিমন :

 

দেশের বিদ্যুতের বড় একটি অংশ গিলে খাচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। দীর্ঘদিন ধরে এই রিকশা বন্ধের কথা বলা হলেও তা তা আর কার্যকর হয়নি। অটোরিকশা চালকদের দাবি, এলাকার প্রভাবশালীদের সহায়তায় টাকার বিনিময়ে নিতে হচ্ছে কার্ড পেলেই চালানো যায় এ বাহনটি।

এলাকার জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, ওপর মহলের কিছু কর্মকর্তার কারণে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের এই অটোরিকশা বন্ধই একমাত্র সমাধান নয়। সারাদেশে শুধু ব্যাটারিচালিত রিকশা আছে ৪ থেকে ৫ লাখ। ঢাকায় আছে প্রায় ৫০ হাজার। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতেই রয়েছে ৭৫ ভাগ। পরিসংখ্যান বলছে, একটি রিকশা প্রতিদিন চার্জ বাবদ খরচ করছে পাঁচ ইউনিট বিদ্যুৎ; যা মাসে দাঁড়ায় ১৫০ ইউনিটে। এই বিদ্যুৎ দিয়ে এক মাস চলতে পারত একটি ছোট পরিবার।

দেশে বিদ্যুতের এই ঘাটতির দিনেও এসব যান নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা নেই কারোরই। রাজধানীর অটোরিকশা গ্যারেজ নিয়ন্ত্রণকারী এদেরকে অটোরিকশা চার্জ বাবদ প্রতি মাসে ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা দিলেই প্রতিদিন চার্জ দিয়ে চালানো যায় অবৈধ এই যানটি। এলাকার সচেতন মহল বলেন অপশক্তির বাধার মুখে বার বার চেষ্টা করেও বন্ধ করা যায়নি ব্যাটারিচালিত রিকশা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা ফুটপাত বন্ধ করে সেখানে দোকান বসিয়ে বিদ্যুতের খুটি দিয়ে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে প্রতি দোকান থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ নিচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা। এভাবে প্রতি দোকানে লাইট জালানো হচ্ছে ১০০ ও ২০০ ওয়ার্ড এভাবে প্রতি মাসে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। এই অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ফুটপাত নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় একাধিক বার সংবাদ প্রকাশিত হলেও তার কোনো সুফল মেলেনি। শুধু বিদ্যুতই না, দুর্ঘটনা বৃদ্ধি ও যানজট তৈরি করছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। তাই দ্রুত এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও এর পাশাপাশি ফুটপাতের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের দাবি সচেতন মহলের।